মেসির ‘অভিষেকে’ বার্সাকে বাচালেন তের স্টেগান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

মেসির ‘অভিষেকে’ বার্সাকে বাচালেন তের স্টেগান

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

মেসির ‘অভিষেকে’ বার্সাকে বাচালেন তের স্টেগান

শেষ পর্যন্ত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ দিয়েই নতুন মৌসুম শুরু করলেন লিওনেল মেসি। তবে শুরুর একাদশে নয়। কাল রাতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে মেসির নতুন মৌসুমে অভিষেক হলো বদলি হিসেবে। মাঠে নেমে তেমন কিছু করতেও পারেননি মেসি। কিছু করতে পারেননি  আতোইন গ্রিজমান, লুইস সুয়ারেজ, আনসু ফাতিরাও। তারপরও ডর্টমুন্ডের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। সেটি গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে তের স্টেগানের কল্যাণে।

জার্মানির এই গোলরক্ষকই নিশ্চিত হারের মুখ থেকে বাচিয়েছেন বার্সেলোনাকে। শুধু একের পর এক শট ঠেকিয়ে দেওয়াই নয়, বার্সার হার বাচাতে তের স্টেগান রুখে দিয়েছেন ডর্টমুন্ডের পেনাল্টিও। বলতে জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ডকে একাই রুখে দিয়েছেন জার্মান গোলরক্ষক তের স্টেগান।

নিজেদের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কে ম্যাচের শুরু থেকেই সফরকারী বার্সেলোনাকে চেপে ধরে ডর্টমুন্ড। আক্রমণের ঢেউ তুলে মার্কো রুয়েস, থোরগান হ্যাজার্ড, সাঙ্কো, আলকেচাররা একের পর এক গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। বার্সার গোলপোস্ট লক্ষ্য করে নিয়েছেন শটও। কিন্তু গোলের মুখ তারা দেখতে পারেননি।

কারণ, গ্লাভস হাতে প্রতিবারই ডর্টমুন্ডের বাঁধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তের স্টেগান। অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দিয়েছেন সব শট। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে বার্সেলোনা কোচ আক্রমণভাগ সাজিয়েছিলেন সুয়ারেজ, গ্রিজমান ও ‘নতুন মেসি’ খেতাব পাওয়া আনসু ফাতির সমন্বয়ে। তারা চেষ্টা করেছেন গোলের সুযোগ তৈরি করার। কিন্তু ডর্টমুন্ডের আক্রমণের তুলনায় তাদের চেষ্টা ছিল নগণ্য।

একে তো দলকে চাপের মুখে। ম্যাচের ৪০ মিনিটেই আবার একটা ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্ডি আলবা। কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে তার পরিবর্তে মাঠে নামান সের্গি রবার্তোকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেও সেই একই গল্প। ডর্টমুন্ডের আক্রমণের সামনে কোণঠাসা বার্সেলোনা। কিন্তু তের স্টেগানে দেয়ালের কারণে গোল আদায় করতে ব্যর্থ হওয়া ডর্টমুন্ড ৫৭ মিনিটে পেয়ে যায় পেনাল্টি। নিজেদের বিপদ সীমানায় জডান সাঙ্কোকে বিপদনজনক ফাউল করে বসেন নেলসন সেমেদো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি।

তো পেনাল্টি পাওয়ায় মনে হচ্ছিল, অবশেষে কষ্টের ফসল পেতে যাচ্ছে ডর্টমুন্ড। কিন্তু না। এবারও বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সেই তের স্টেগান। দুই জার্মানের লড়াইয়ে জয়ীও হন তিনি। দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তারই জাতীয় দল সতীর্থ মার্কো রুয়েসের শট।

পেনাল্টি থেকে বাচার দুই মিনিট পরই আনসু ফাতিকে তুলে অধিনায়ক মেসিকে মাঠে নামান বার্সা কোচ। হয়ে যায় নতুন মৌসুমে মেসির অভিষেক। একই সঙ্গে সার্জিও বুসকেটসকে উঠিয়ে ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার ইভান রাকিতিচকেও নামান ভালভার্দে। কিন্তু মেসি-রাকিতিচরাও বার্সেলোনার আক্রমণের ধার বাড়াতে পারেননি।

বিশেষ করে মেসি খুব অল্পই বল পেয়েছেন। আর যখনই তিনি বল পেয়েছেন ডর্টমুন্ডের দু-তিন খেলোয়াড় এসে ঘিরে ফেলেছে তাকে। ফলে মেসির পক্ষে বিশেষ কিছু করে দেখানোর সুযোগই হয়নি। তবে ভাগ্য ভালো বার্সেলোনার, তের স্টেগান আরও একটি ম্যাচে অতি মানব হয়ে উঠায় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়নি তাদের। জার্মানি থেকে ফিরতে পেরেছে ড্র’র স্বস্তি নিয়েই।

কেআর/

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও