রিয়াল-পিএসজিকে হারিয়ে ম্যান সিটির অনন্য ইতিহাস

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

রিয়াল-পিএসজিকে হারিয়ে ম্যান সিটির অনন্য ইতিহাস

পরিবর্তন ডেস্ক ২:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

রিয়াল-পিএসজিকে হারিয়ে ম্যান সিটির অনন্য ইতিহাস

খেলোয়াড় কেনার পেছনে উদার হস্তে টাকা ঢালায় রিয়াল মাদ্রিদের সুনাম সর্বজনবিদিত। পেশাদারি ফুটবলের সূচনালগ্ন থেকেই টাকা খরচে বিশ্বের বাকি সব ক্লাবকে টেক্কা দিয়ে আসছে রিয়াল।

নব্য ধনী পিএসজিও বছর কয়েক ধরে দু’হাতে টাকা খরচের এই গুণটা দেখিয়ে আসছে। কিন্তু এই রিয়াল-পিএসজিকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি গড়ল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি স্কোয়াড গঠনের অনন্য কীর্তি।

ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে ম্যান সিটি গড়েছে বিলিয়ন ডলার দামি স্কোয়ড। ‘ডলার’ শব্দটা আসলে বাক্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেই ব্যবহৃত। বাস্তবে স্কোয়াড গঠনে ম্যান সিটি ছাপিয়ে গেছে বিলিয়ন ইউরোর সীমা। ইংলিশ ক্লাবটির বর্তমান স্কোয়াডের মূল্য ১.০১৪ বিলিয়ন ইউরো! মানে ১০১৪ মিলিয়ন ইউরো! বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ৯৪৫০ কোটি ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকারও বেশি। ভাবা যায়!

সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলোর মধ্যে কোনো ক্লাবের স্কোয়াডের মূল্য কত, তার একটা হিসাব দাঁড় করিয়েছে ফুটবল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআইইএস। তাতেই উঠে এসেছে ম্যান সিটির বর্তমান স্কোয়াডের ব্যয় বিলিয়নের সীমা ছাপিয়ে গেছে। ফুটবল ইতিহাসে এত দামি স্কোয়াড কখনো কোনো ক্লাব গঠন করেনি।

দামি স্কোয়াড গঠনে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজিও খুব পিছিয়ে নেই। তবে ম্যান সিটির পেছনে থাকলেও খরচে রিয়ালকে হারিয়ে দিয়েছে পিএসজি। সিআইইএসের গবেষণায় উঠে এসেছে, পিএসজির বর্তমান স্কোয়াডের মূল্য ৯১৩ মিলিয়ন ইউরো বা ৮৫০৪ কোটি ২৪ লাখ ৩৪ হাজার ২৩৮ টাকা। মানে স্কোয়াড গঠনের খরচে ম্যান সিটির চেয়ে এখনো ১০১ মিলিয়ন ইউরো পিছিয়ে আছে পিএসজি। তবে অদূর ভবিষ্যতেই যে ম্যান সিটিকে টপকে সবচেয়ে দামি স্কোয়াড গঠনের তকমাটা পিএসজি কেড়ে নিতে পারে, সেই সম্ভাবনা প্রবলই।

সবচেয়ে দামি স্কোয়াডের তালিকায় এই দুই ক্লাবের পরই রয়েছে রিয়াল। মাদ্রিদ জায়ান্টদের বর্তমান স্কোয়াডের মূল্য ৯০২ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৪০১ কোটি ৭৮ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৭ টাকা। ইউরোপের সব ক্লাবের স্কোয়াড ব্যয় হিসাব করে সিআইইএস প্রকাশ করেছে খরচে শীর্ষ ১০টি ক্লাবের তালিকা।

তাতে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে দামি স্কোয়াড গঠনের মর্যাদার তালিকার ৪ নম্বরে আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তাদের মোট ব্যয় ৭৫১ লিয়ন ইউরো। ৫ নম্বরে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাস, যাদের স্কোয়াড মূল্য ৭১৯ মিলিয়ন ইউরো। ৬ নম্বরে আছে বার্সেলোনা। তাদের স্কোয়াড ব্যয় ৬৯৭ মিলিয়ন ইউরো। এরপর পর্যায়ক্রমে আছে লিভারপুল (৬৩৯ মিলিয়ন ইউরো), চেলসি (৫৬১ মিলিয়ন ইউরো), অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ (৫৫০ মিলিয়ন ইউরো) ও আর্সেনাল (৪৯৮ মিলিয়ন ইউরো)।

উপরের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, দামি দল গঠনে শীর্ষ দশের ৫টি ক্লাবই ইংল্যান্ডের। স্পেনের ৩টি এবং একটি করে ফ্রান্স ও ইতালির। জার্মানির বুন্দেসলিগা ইউরোপের অন্যতম সেরা লিগ হলেও তাদের কোনো ক্লাব শীর্ষ দশে নেই।

সিআিইএসের গবেষণায় উঠে এসেছে আরও একটা মজার তথ্য। স্পেনের লা লিগায় সবচেয়ে দামি স্কোয়াড রিয়ালের সেটি তো উপরের তালিকাতেই স্পষ্ট। সিআইইএসের গবেষণায় জানা গেছে, লা লিগার দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দামি স্কোয়াড রিয়াল মায়োর্কার। দুই ক্লাবের মধ্যে ব্যয়ের ব্যবধানটা কত জানেন? রিয়াল মায়োর্কার স্কোয়াডের মূল্য ১৪৮ গুণ কম রিয়ালের ১৪৮ ভাগের এক ভাগ! মাত্র ৭ মিলিয়ন ইউরো।

ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে সর্বোচ্চ পিএসজির তুলনায় সর্বনিম্ন নিমের ব্যয় ১১৪ ভাগের এক ভাগ। ইতালিয়ান সিরি আ’তে সর্বোচ্চ ব্যয়দারী জুভেন্টাসের তুলনায় সর্বনিম্ন লেচ্চের মূল্য ৬৩ গুণ কম। জার্মান বুন্দেসলিগায় সবচেয়ে দামি বায়ার্ন মিউনিখের তুলনায় সর্বনিম্ন পাদেরবর্নের ব্যয় ৮৫ ভাগের এক ভাগ। তুলনামূলকভাবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বৈষম্যটা অনেক কম। সর্বোচ্চ ম্যান সিটির তুলনায় সর্বনিম্ন নরউইচ সিটির ব্যয় ৩২ ভাগের এক ভাগ।

উপরের এই তথ্য স্পষ্ট করেই বলে দিচ্ছে, ইউরোপিয়ান লিগগুলোতে একই দেশের বিভিন্ন ক্লাবগুলোর আর্থিক বৈষম্য আকাশ-পাতাল। অথচ সেই ইউরোপিয়ানরাই দুনিয়াজুড়ে বৈষম্য দূরীকরণের স্লোগান আওড়ে বেড়ায়!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও