অবিশ্বাস্য ‘২০০’ দেখছেন রামোস

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

অবিশ্বাস্য ‘২০০’ দেখছেন রামোস

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

অবিশ্বাস্য ‘২০০’ দেখছেন রামোস

সাফল্য বা রেকর্ড ক্ষুধাটা এমনই। একটা গড়লে আপনা থেকেই মনের কোণে জন্ম নেয় নতুন আরেকটা রেকর্ডের স্বপ্ন। তবে সার্জিও রামোস নতুন করে হৃদয় কোণে নতুন করে যে স্বপ্নের চারাটা বুনলেন, সেটি অবিশ্বাস্যই। তার চোখ যে এখন ‘২০০’তে।

গতকাল রাতেই স্পেন জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা ছুঁয়েছেন রামোস। ১৬৭ ম্যাচ খেলার এতদিন যে রেকর্ডটা ছিল তারই সাবেক ক্লাব সতীর্থ কিংবদন্তি ইকার ক্যাসিয়াসের দখলে। কাল ফারো দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ের ম্যাচ দিয়ে সেটিই ছুঁয়ে ফেলেছেন রামোস।

এই রেকর্ড গড়ার পরপরই রামোস বুনে ফেলেছেন নতুন স্বপ্নের জাল। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশেই বলেছেন, এখন ২০০-তে চোখ তার। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ছুঁতে চান ২০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচের মাইলফলক একজন ফুটবলারের জন্য কতটা অবিশ্বাস্য, সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে কত লক্ষ লক্ষ ফুটবলারই আন্তর্জাতিক ফুটবল মাতিয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো দেশের কোনো ফুটবলারই ‘২০০’-এর সীমানায় পৌঁছতে পারেননি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার বিশ্ব রেকর্ডটি যার দখলে, সেই আহমেদ হাসান খেলেছেন ১৮৪টি ম্যাচ। মিশরের সাবেক মিডফিল্ডার যে রেকর্ডটা গড়েছেন ২০১২ সালে। রামোস আহমেদ হাসানের সেই বিশ্ব রেকর্ডটি কেড়ে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে চান না, খেলতে চান তার চেয়েও ১৬টি বেশি ম্যাচ। ছুঁতে চান ২০০-এর অবিশ্বাস্য উচ্চতা! যে উচ্চতায় পা রাখার স্বপ্ন কেউ কখনো স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি।

আগে কেউ না ভাবতে পারলেও রামোসের জন্য ভাবনাটা মোটেও অবাস্তব নয়। বয়স সবে ৩৩। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ১৬৭টি ম্যাচ। মানে ২০০ থেকে তিনি আর মাত্র ৩৩ ম্যাচ দূরে। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর যেভাবে টানা খেলে চলেছেন রামোস, তাতে আর বছর তিনেক খেলতে পারলেই অবিশ্বাস্য ‘২০০’ এসে লুটোপুটি খাবে রামোসের পায়ে।

অনন্য এই লক্ষের পথে রামোসের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধার জায়গা হলো, তিনি একজন ডিফেন্ডার। বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা অনায়াসেই ৩৭-৩৮ বছর বয়স পর্যন্ত খেলতে পারেন। রামোসের যা শারীরিক ফিটনেস এবং ফর্ম, তাতে আরও ৩-৪ বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল মাতানোর স্বপ্নটা তিনি দেখতেই পারেন। আর সেটা করতে পারলে ‘২০০’এর স্বপ্ন পূরণ হবে অনায়াসেই।

সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার তালিকায় এখনো অবশ্য রামোসের উপরে আছেন ৮ জন। তবে যেভাবে টানা খেলছেন, সেভাবে খেলতে পারলে রামোস হয়তো আগামী বছরই পেছনে ফেলে দিতে পারবেন সবাইকে। কারণ, এ বছরই স্পেনের ইউরো বাছাইয়ের ম্যাচ আছে আরও ৪টি। এরপর আগামী বছরের মার্চে আছে দুটি প্রীতি ম্যাচ। এরপর জুনে অনুষ্ঠিত হবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। যে টুর্নামেন্টে স্পেন ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে রামোস সামনের অনেকেই পেছনে ফেলতে পারবেন।

যারা এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলে চলেছেন, তাদের মধ্যে রামোসের চেয়েও এগিয়ে আছেন দুজন। কুয়েতের বাদের আল মুতাওয়া এবং ওমানের আহমেদ মুবারক, দুজনেই খেলেছেন সমান ১৭১টি করে ম্যাচ। তবে সামনেই ইউরো বলে রামোসের সামনে এদের দুজনকেই টপকে যাওয়ার সুযোগ।

তবে চাইলে বাদের আল মতাওয়া এবং আহমেদ মুবারকও রামোসের মতো ২০০এর স্বপ্ন দেখতে পারেন। কিন্তু তাদের জন্য কাজটা কঠিন। কারণ, তারা দুজনেই মিডফিল্ডার। আর বয়সও খানিকটা বেশি, সমান ৩৪ করে। মিডফিল্ডার হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ডাকটা হয়তো তারা এরই মধ্যে শুনতে পাচ্ছেন। কারণ, একজন ডিফেন্ডার ক্যারিয়ার যতটা লম্বা করতে পারেন, মিডফিল্ডারের জন্য তা করা কঠিন। সুতরাং রামোসের স্বপ্নটাই বেশি বাস্তবসম্মত।

বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে এই তিনজনের পরই আছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ সুপারস্টার খেলেছেন ১৫৯টি ম্যাচ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি? অনেকটাই পেছনে। আর্জেন্টাইন সুপারস্টার খেলেছেন সবে ১৩৬ ম্যাচ।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও