রিয়ালের সর্বনাশ করলেন সেই গার্দিওলা

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

রিয়ালের সর্বনাশ করলেন সেই গার্দিওলা

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

রিয়ালের সর্বনাশ করলেন সেই গার্দিওলা

খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে অনেক অনেক দুঃস্বপ্নের রাত উপহার দিয়েছেন পেপ গার্দিওলা। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এসেও রিয়ালকে অনেক অনেকবার কাঁদিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক কোচ। দীর্ঘদিন পর গতকাল রাতে আরও একবার একজন গার্দিওলাই সর্বনাশ করলেন রিয়ালের। রিয়ালের মুঠো থেকে কেড়ে নিলেন জয়।

তবে এই গার্দিওলা যে পেপ গার্দিওলা নন, সেটি অনুমিতই। বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলা এখন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির কোচ। কাল রাতে রিয়ালের সর্বনাশকারী হলেন রিয়াল ভায়াদোলিদের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড সের্গি গার্দিওলা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে তিনিই কাল বার্নাব্যুতে ড্র হতাশায় পুড়িয়েছেন রিয়ালকে। ভায়াদোলিদকে এনে দিয়েছেন জয় সমান ড্র।

নামে মিল থাকলেও পেপ গার্দিওলা ও সের্গি গার্দিওলার মধ্যে কোনো রকম রক্তের সম্পর্ক নেই। দুজনের বাড়িও এক জায়গায় নন। পেপ গার্দিওলা একজন কাতালুনিয়া। সের্গি গার্দিওলা একজন আপাদমস্তক স্প্যানিশ। অন্য আর দশজন খাঁটি স্পানিয়ার্ডের মতো সের্গি গার্দিওলাও পেপ গার্দিওলার কাতালুনিয়ার ঘোর শত্রু।

কাকতালীয়ভাবে সঙ্গে বার্সেলোনা এবং রিয়ালের সঙ্গে ২৮ বছর বয়সী এই সের্গি গার্দিওলার অন্য রকম একটা যোগসূত্র আছে। যে যোগসূত্রটা তৈরি করেছিল ছোট্ট একটা টুইট। হ্যাঁ, ছোট্ট একটা টুইট বার্তাই সের্গিকে ক্যারিয়ারে কখনোই না খেলা রিয়াল-বার্সার সঙ্গে গেঁথে দিয়েছিল। যে টুইটটির জন্য পরে সের্গি গার্দিওলাকে দিতে হয়েছে চড়া মূল্য। ভেঙে খানখান হয়েছে বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন।

২০১৩ সালের একটা ‘এল ক্লাসিকো’কে সামনে রেখে সের্গি গার্দিওলার টুইটার অ্যাকাউন্টে একটা টুইট পোস্ট করা হয়। টুইট বার্তাটিতে রিয়ালের সাফল্য এবং বার্সেলোনার অমঙ্গল কামনা করা হয়। এমনকি স্পেন থেকে স্বাধীন হতে চাওয়া কাতালুনিয়ার প্রতিও বাজে মন্তব্য করা হয়। টুইটটি ছিল এমন, ‘হালা মাদ্রিদ! হালা মাদ্রিদ! ফা… কাতালুনিয়া।’

স্প্যানিশ শব্দ ‘হালা মাদ্রিদের’ কাছাকাছি বাংলা ‘এগিয়ে যাও রিয়াল।’ স্পষ্টতই বার্তাটি সের্গি গার্দিওলাকে রিয়ালের সমর্থক এবং বার্সেলোনার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। তবে অখ্যাত সের্গি গার্দিওলার টুইটটি তখন আলোতেই আসেনি। এক ক্লাবকে সমর্থন এবং অন্য ক্লাবকে গালিগালাজ করে এমন টুইট তো কত-শত ভক্তরাই করেন।

কিন্তু স্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়া অখ্যাত সের্গি গার্দিওলার সেই টুইটটি আলোতে উঠে আসে ২০১৫ সালে। আলকর্কন ছেড়ে সের্গি গার্দিওলা বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি করার পর।

হ্যাঁ, ২০১৫ সালে নিজেদের বি দলের সঙ্গে সের্গি গার্দিওলার সঙ্গে চুক্তি করে বার্সেলোনা। সবকিছু নিয়ে সের্গি ন্যু-ক্যাম্পে চলেও আসেন। কিন্তু চুক্তির পরপরই তার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা দুই বছর আগের সেই টুইটটি কে যেন রি-পোস্ট করে। ব্যস, মুহূর্তে সেই টুইট ভাইরাল হয়ে বার্সেলোনার কর্তাদের কানে যায়। টুইটটি দেখে চুক্তির ৮ ঘণ্টা পরই সের্গির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বার্সেলোনা।

বিশ্বসেরা বার্সেলোনায় খেলার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সের্গিকে ফিরে যেতে হয় বাড়ি। পরে তিনি যোগ দেন গ্র্যানাডায়। সেখান থেকে বর্তমানে ভায়াদোলিদে। টুইটটি সম্পর্কে সের্গি গার্দিওলার দাবি ছিল, টুইটটি তিনি নিজে করেননি। তার এক বন্ধু মজা করে তার অ্যাকাউন্টে পোস্টটা দিয়েছিলেন। এবং টুইটটি সম্পর্কে তিনি তৎক্ষণাত জানতেও না। পরে জেনেছিলেন বটে, তবে ছোট ছিলেন বলে টুইটটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি।

সেই সের্গি গার্দিওলা এবং তার সেই টুইট কাণ্ড আবার আলোচনায় উঠে আসার কারণ, সেদিন টুইটে যে রিয়ালকে সমর্থন করা হয়েছিল, কাল রাতে সেই রিয়ালেরই যে সর্বনাশ করেছেন। সেদিন জয় কামনা করা রিয়ালের হাতের মুঠো থেকে কেড়ে নিয়েছেন জয়। রিয়ালকে হতাশায় পুড়িয়েছে নিজের দল ভায়াদোলিদকে পাইয়ে দিয়েছেন মহামূল্যবান একটা পয়েন্ট।

দলকে ড্র এনে দেওয়া গোলটি করে সের্গি গার্দিওলা নিশ্চয়ই খুব খুশি। একই সঙ্গে বিতর্কিত সেই টুইট কাণ্ড সামনে চলে আসায় হয়তো কষ্টও পাচ্ছেন। যে টুইটের কারণে বার্সেলোনার মতো ক্লাবে খেলার স্বপ্ন মিলিয়ে গেছে, তার জন্য কষ্ট তো হবেই।

কেআর

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও