প্রতি গোলে খরচ ১১৪ কোটি টাকা!

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

প্রতি গোলে খরচ ১১৪ কোটি টাকা!

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০১৯

প্রতি গোলে খরচ ১১৪ কোটি টাকা!

বার্সেলোনা ও আর্সেনালে কি অবিশ্বাস্য সময়টাই না কাটিয়েছেন অ্যালেক্সিস সানচেজ। নিজে কাড়ি কাড়ি গোল করেছেন। সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন রাশি রাশি। সেই সানচেজ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসে হয়ে গেছেন ‘সাদা হাতি’।

ফুটবলে ‘সাদা হাতি’ এমন খেলোয়াড়দের বলা হয়, যাদের পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু, বিনিময়ে পাওয়া যায় না তেমন কিছুই।

ম্যানইউতে অ্যালেক্সিস সানচেজ এখন ঠিক তাই। চিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পেছনে ইংলিশ ক্লাবটির মাসে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বিনিময়ে পাচ্ছে খুব সামান্যই। ব্যয় আর প্রাপ্তির হিসেবে কতটা ফারাক, সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট।

সানচেজের প্রতি গোলের পেছনে ম্যানইউর খরচ ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১৪ কোটি টাকা! প্রতি অ্যাসিস্টের পেছনে খরচ ৬১ লাখ পাউন্ড বা ৬৪ কোটি টাকা। এমন খেলোয়াড়কে ‘সাদা হাতি’ বলবেন না তো কি!

অথচ আর্সেনাল থেকে এই সানচেজকে কত আশা নিয়েই না নিয়ে এসেছিল ম্যানইউ। ইংলিশ ক্লাবটি অনেক দিন ধরেই একজন নিখূঁত রাইট উইঙ্গারের অভাব বোধ করছিল। হুয়ান মাতা, হেনরিখ মখাতারিয়ান, অ্যান্থনি ভ্যালেন্সিয়া, মার্কাস রাশফোর্ড, অ্যাশলি ইয়াং- অনেককে দিয়েই এই অভাব পূরণের চেষ্টা করে ম্যানইউ। কিন্তু, এদের কেউই ম্যানইউর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ম্যানইউর তৎকালীন কোচ হোসে মরিনহো তাই আর্সেনাল থেকে রেকর্ড বেতনে নিয়ে আসেন সানচেজকে। আর্সেনালে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন সানচেজ। তাই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি বেতনধারী খেলোয়াড় বানিয়ে তাকে নিয়ে আসেন মরিনহো। তাকে নিয়ে আসার বিনিময়ে আর্সেনালকে হেনরিখ মখাতারিয়ানকে দেয় ম্যানইউ।

সানচেজের সঙ্গে চুক্তি করে মরিনহো এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে, পানির দরে একজন বিশ্বসেরাকে কিনেছেন বলেও দাবি করে বসেন। মরিনহো এমন ইঙ্গিতও দেন সানচেজ তার প্রতিভা ও সামর্থ দিয়ে ম্যানইউর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবেন এবং দলকে পৌঁছে দেবেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

কিন্তু, বাস্তবে সানচেজ তার ছিটেফোটাও পূরণ করতে পারেননি। বরং আর্সেনালে থাকতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সানচেজ ম্যানইউতে শুরুর একাদশে জায়গাটাই পাকা করতে পারেননি। যার ফল, গত দেড় মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে খেলেছেন মাত্র ৪৫ ম্যাচ। এর মধ্যে শুরুর একাদশে খেলেছেন মাত্র ১৩ ম্যাচে!

যতটুকু খেলার সুযোগ পেয়েছেন, তাতে পারফরম্যান্স এতটাই বিবর্ণ যে, পরিসংখ্যান দেখে চোখ বন্ধ করেই তাকে ‘সাদা হাতি’ অ্যাখ্যা দেয়া যায়। দেড় মৌসুমে ৪৫ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন মাত্র ৫টি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৯টি।

অথচ গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত, গত দেড় মৌসুমে বেতন-বোনাস, সাইনিং মানি, ম্যাচ ফি মিলিয়ে তার পেছনে ম্যানইউর খরচ ৫ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৭০ কোটি টাকারও বেশি।

সপ্তাহে তার বেতন ৩ লাখ ৯১ হাজার পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া ম্যাচ ফি হিসেবে পান ৭৫ হাজার পাউন্ড বা ৭৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকারও বেশি। সাইনিং মানি হিসেবে পেয়েছেন ২ কোটি পাউন্ড বা ২০৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তার এজেন্টকে ফি দিতে হয়েছে ৫০ লাখ পাউন্ড বা ৫১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

ম্যানইউর সঙ্গে তার চুক্তিটা ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এই হিসেবে সব মিলে তার পেছনে ম্যানইউর মোট খরচ হবে ৯ কোটি ৬৮ লাখ পাউন্ড বা ১০০৩ কোটি টাকারও বেশি। সামনের খরচের কথা বাদ দিন। এ পর্যন্ত তার পেছনে ম্যানইউর যা ব্যয় এবং তার কাছ থেকে যা প্রাপ্তি, সেই হিসেবে তার প্রতি গোলের পেছনে খরচ ১১৪ কোটি টাকা।

অ্যাসিস্ট প্রতি ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা। প্রতি শট প্রতি ব্যয় ২৫ লাখ পাউন্ড বা ২৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। প্রতি সুযোগ প্রতি ব্যয় ৭ লাখ ৬৪ হাজার পাউন্ড বা ৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ম্যাচ প্রতি খরচ ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড বা ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এমনকি প্রতি মিনিটে খরচ ১৯ হাজার ৮০০ পাউন্ড বা ২০ লাখ ৫২ হাজার টাকারও বেশি! ভাবা যায়।

এমন খেলোয়াড়কে ‘সাদা হাতি’ বলবেন না তো কি!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও