যে কারণে মেসির চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখলেন রোনালদো

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

যে কারণে মেসির চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখলেন রোনালদো

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৪৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০১৯

যে কারণে মেসির চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখলেন রোনালদো

লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মধ্যে সেরা কে? গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে দামী প্রশ্ন এটি। কিন্তু আজও এই প্রশ্নের সমাধান মেলেনি। বরং এই প্রশ্নে ফুটবল দুনিয়া দ্বিধাবিভক্ত। এক দল মেসিকে এগিয়ে রাখেন তো, অন্য দলের কাছে রোনালদো সেরা।

তবে ফুটবল দুনিয়া দ্বিধাবিভক্ত হলেও রোনালদো তার ধার ধারেন না। তার মতে তিনিই মেসির চেয়ে এগিয়ে। মেসির চেয়ে নিজেকে শুধু এগিয়ে রাখা নয়, পর্তুগিজ সুপারস্টার নিজেকে সর্বকালের সেরা হিসেবেও ঘোষণা দিয়েছেন।

দুই বছর আগে ব্যালন ডি’অর হাতে নিয়ে দেওয়া সেই ঘোষণাটা নতুন করে দেননি রোনালদো। তবে পর্তুগিজ তারকা ডিএজেডএনকে দেওয়া ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারে একটু অন্যভাবে নিজেকে সেরা দাবি করেছেন। বলেছেন, তার মতো রেকর্ড ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো ফুটবলারের নেই।

শুধু তাই নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির চেয়ে তিনি ঠিক কোন জায়গায় এগিয়ে, সেটিও ফুটবল দুনিয়াকে স্পষ্ট করে দিলেন রোনালদো। নিজেকে এগিয়ে রাখতে পর্তুগাল তারকা তুলে ধরলেন পরিসংখ্যানের বিশেষ একটা অধ্যায়কে। সেই অধ্যায়টি হলো দুটি ভিন্ন ক্লাবের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়। রোনালদো স্পষ্ট করেই বলেছেন, ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স জেতাটাই মেসির চেয়ে আলাদা করেছে তাকে।

আসলে মেসি-রোনালদো দুজনেই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। মানে দুজনেই ফরোয়ার্ড। মাঠে নেমে দুজনেই কাড়ি কাড়ি গোল করতে সিদ্ধহস্ত। বিশেষ এই গুণ দিয়েই তারা ফুটবল বিশ্বকে মোহিত করে রেখেছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে।

কিন্তু গোল-মেশিন হলেও দুজনের খেলার ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। স্বাধীন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলা মেসি অনেক বেশি সৃষ্টিশীল। গোল করার পাশাপাশি মাঝমাঠে নেমে দলের খেলাটা তৈরি করতে পারেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়। সতীর্থদের সঙ্গে বল আদান-প্রদানও করেন বেশি। ড্রিবলিংও অবিশ্বাস্য। মেসির দুর্বলতা একটাই, তিনি এক পায়ের খেলোয়াড়। মানে এক বাম পা দিয়েই বিশ্বকে মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। ডান পা ও মাথার ব্যবহারে একেবারেই দুর্বল মেসি।

অন্যদিকে রোনালদো খুবই ক্ষীপ্রগতির। বল নিয়ে উল্কার গতিতে ছুটতে পারেন। গতি আর ক্ষীপ্রতা দিয়ে মুহূর্তেই ভেঙে ফেলতে পারেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল। পাশাপাশি বাম পা, ডান পা এবং মাথা— তিনটি দিয়েই গোল করতে সমান দক্ষ। এমনকি জটলার মধ্যে দাঁড়িয়ে বডি দিয়ে গোল করতেও দেখা যায় তাকে!

এই ভিন্ন স্টাইলের দুই ফরোয়ার্ডকে এক পাল্লায় মাপাটা কঠিন। ফুটবলবোদ্ধারা কঠিন সেই কাজটা করার জন্য মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন তাদের অর্জন, অর্থাৎ সাফল্যকে। কিন্তু সেই পরিসংখ্যানও লুকিয়ে রেখেছে রহস্য। কারণ ব্যক্তিগত অর্জনের পাল্লা দুজনেরই ভারি। এক পরিসংখ্যান মেসিকে এগিয়ে রাখছে, তো অন্য পরিসংখ্যান স্পষ্টতই রোনালদোর জয়গান করছে।

দ্বিধায় ফেলে দেওয়া সামগ্রিক সেই পরিসংখ্যানের দিকে না তাকিয়ে রোনালদো তুলে ধরলেন আরেকটা পরিসংখ্যান। বললেন, ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স জেতাটাই তাকে মেসির চেয়ে আলাদা করেছে। দুজনেই সমান ৫টি করে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। মেসি লিগ শিরোপা জেতায় অনেকটা এগিয়ে থাকলেও রোনালদো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন একটি বেশি। মেসি ৪টি, রোনালদো ৫টি।

এই ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা রোনালাদা জিতেছেন ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪টি। অন্যটি ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। অন্য দিকে মেসি ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগই জিতেছেন এক বার্সেলোনার হয়ে।

শুধু তাই নয়। মেসি পুরোটা ক্যারিয়ারই কাটিয়ে দিলেন এক বার্সেলোনায়। সেখানে রোনালদো খেলেছেন ভিন্ন ৪টি দেশের ভিন্ন ৪টি লিগে। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা ও ইতালিয়ান সিরি আ’র শিরোপা।

এই ভিন্ন দেশের ভিন্ন লিগে খেলার চ্যালেঞ্জ এবং ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা, এটাই মেসিরি চেয়ে তাকে এগিয়ে রেখেছে বলে মনে করেন রোনালদো।

বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাওয়ায় মেসিকেও ফুটবল ইতিহাসে চিরদিন মনে রাখবে জানিয়ে রোনালদো বলেছেন, ‘মেসি শীর্ষ ফুটবলার। তাকে শুধু তার জেতা ব্যালন ডি’অর গুলোর জন্যই ফুটবল মনে রাখবে না। আমার মতো বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে যাওয়ার জন্যও ইতিহাস মনে রাখবে তাকে। তবে তার চেয়ে আমাকে একটা বিষয় আলাদা করেছে, আমি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন লিগে খেলেছি এবং ভিন্ন দুটি ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি।’

নিজের জেতা ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইতিহাসে খুব বেশি খেলোয়াড় ৫টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেনি। এটাই আমাকে এই অনুভূতি দিয়েছে যে, এই প্রতিযোগিতায় আমি স্পেশাল।’

কেআর/পিএ

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও