দলবদল যুদ্ধে স্বদেশি লো সেলসোর কাছে হারলেন দিবালা

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

দলবদল যুদ্ধে স্বদেশি লো সেলসোর কাছে হারলেন দিবালা

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৯

দলবদল যুদ্ধে স্বদেশি লো সেলসোর কাছে হারলেন দিবালা

তারকাখ্যাতি, প্রতিভা, সামর্থ, দক্ষতা-সব দিক থেকেই জিওভান্তি লো সেলসোর চেয়ে এগিয়ে পাওলো দিবালা। তবুও এবারের দলবদলে এই দুই আর্জেন্টাইন অন্য রকম একটা যুদ্ধে মুখোমুখি হন। ইংল্যান্ডের দলবদল মৌসুম শেষ হওয়ার আগে আগে এই দুই আর্জেন্টাইনের দিকেই হাত বাড়িয়েছিল টটেনহাম। টটেনহামের আর্জেন্টাইন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোই দুই স্বদেশিকে পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্যি, দুই স্বদেশির সেই লড়াইয়ে দুই বছরের বড় দিবালাকে হারিয়ে দিয়েছেন জিওভান্তি লো সেলসো।

দুই বছরের ছোট লো সেলসোর কাছে হারের জন্য অবশ্য দিবালা নিজেই দায়ী। টটেনহাম নিতে চাইলেও দিবালা চেয়ে বসেন উচ্চ অঙ্কের বেতন। হাঁকিয়ে বসেন তাকে নিতে হলে অন্তত বার্ষিক ১০ মিলিয়ন ইউরো বেতন দিতে হবে। আকাশচুম্বী বেতন চাওয়াতেই শেষ পর্যন্ত দিবালাকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে টটেনহাম দলে টেনেছে লো সেলসোকে।

অবশ্য স্থায়ী চুক্তিতে নয়। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল বেটিস থেকে ২৩ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইনকে টটেনহাম আপাতত ধার চুক্তিতে দলে টেনেছে। প্রথমে অবশ্য লো সেলসোর সঙ্গে পাকা চুক্তিই করতে চেয়েছিল টটেনহাম। সেজন্য ইংলিশ ক্লাবটি ৬২ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবই দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধার চুক্তি হয়েছে।

মানে টটেনহাম এক মৌসুমের জন্য মিডফিল্ডার লো সেলসোকে দলে ভিড়িয়েছে ২১ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে। তবে ধার চুক্তিতে শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে, চাইলে মৌসুম শেষে টটেনহাম এই আর্জেন্টাইনের সঙ্গে পাকা চুক্তিও করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে টটেনহামকে আরও ৪১ মিলিয়ন ইউরো গুণতে হবে।

লো সেলসো মিডফিল্ডার হলেও দিবালা আপাদমস্তক একজন ফরোয়ার্ড। পজিশন ভিন্ন হওয়ায় তাদের মধ্যে লড়াই হওয়ার কথা নয়। তবে তাদেরকে অন্য রকম এই লড়াইয়ে জড়িয়ে ফেলেছিলেন টটেনহাম কোচ পচেত্তিনো, দুই স্বদেশিকেই দলে টানতে চেয়ে।

বেতনের আকাঙ্খা কম হলে দিবালাও জুভেন্টাস ছেড়ে এতক্ষণে হয়ে যেতে পারতেন টটেনহামের। কিন্তু দিবালা কম বেতনে টটেনহামে যেতে রাজি হননি। ফলে এ মৌসুমের জন্য তার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার আশাও শেষ হয়ে গেছে। কারণ, গত ৮ আগস্টই ইংল্যান্ডের দলবদলের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। জুভেন্টাস ছাড়ার আশা বাস্তবন করতে হলে এখন তাকে খুজে নিতে হবে ইংল্যান্ডের বাইরের অন্য কোনো নতুন ক্রেতা।

ইংল্যান্ডের দলবদল দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও ইউরোপের দলবদল মৌসুম চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। মানে আরও দুই সপ্তাহের বেশি বাকি। বাকি এই সময়ের মধ্যেই তাকে খুঁজে নিতে হবে নতুন ঠিকানা।

নতুবা খেলার সুযোগ না পাওয়ার হতাশা নিয়েই তাকে থাকবে হবে জুভেন্টাসে। সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই কাটাতে দিনের পর দিন। গত মৌসুমে ক্রিত্সিয়ানো রোনালদো যোগ দেওয়ায় জুভেন্টাসের একাদশে দিবালার জায়গাটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।

আর্জেন্টাইন তারকা বলতে গেলে শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ তেমন পান না বললেই চলে। সামনেও একই হতাশায় দিন কাটাতে হবে ভেবেই দিবালা নিজেই জুভেন্টাস ছাড়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু আকাশচুম্বী বেতন চাওয়ায় তার এখনো পর্যন্ত যাওয়া হলো না কোথাও।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও