সর্বকালের সবচেয়ে দামী একাদশ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সর্বকালের সবচেয়ে দামী একাদশ

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৯

সর্বকালের সবচেয়ে দামী একাদশ

সোমবার হুট করেই ফুটবল দুনিয়াকে বড় এক চমক উপহার দিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। লেস্টার সিটি থেকে পাক্কা ৮৮ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে হ্যারি মাগুইরেকে কিনে এনেছে ম্যানইউ। চুক্তির যে মূল্যটা ২৬ বছর বয়সী ইংলিশ ডিফেন্ডার মাগুইরেকে বানিয়েছে সর্বকালের সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার।

তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভিরগিল ফন ডিককে। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাউদাম্পটন থেকে ভিরগিল ফন ডিককে ৮৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছিল লিভারপুল। দেড় বছর মাথায় নিয়ে চলা সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডারের মুকুটটা ভিরগিলকে এবার পরিয়ে দিতে হলো মাগুইরের মাথায়।

যাই হোক, মাগুইযের এই চুক্তির পর অন্য রকম একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা। পত্রিকাটি পজিশন ভিত্তিক চুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে সাজিয়েছে সর্বকালের সবচেয়ে দামী একাদশ। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামী সেই একাদশের মোট মূল্য কত জানেন? মাত্র ১১৮৩ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ১ লাখ ১১ হাজার ২৮৩ কোটি ৫৪ লাখ ২১ হাজার ৪৩৪ টাকা মাত্র! অঙ্কটা ছোটখাট দেশের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি।

পজিশন ভিত্তিক চুক্তি মূল্যের ভিত্তিতেই অঙ্কটা এত। যদি সর্বোচ্চ চুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে সেরা ১১ জনকে বেছে নেওয়া হতো, নিশ্চিতভাবেই মোট মূল্যটা আরও বেশি হতো।

সে যাই হোক, পজিশন ভিত্তিক সবচেয়ে দামী গোলরক্ষকের তকমাটা চেলসির স্প্যানিশ গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগার মাথায়। গত মৌসুমে তাকে পাক্কা ৮০ মিলিয়ন ইউরে দিয়ে দলে ভেড়ায় চেলসি। চুক্তির পর কেপা পেছনে ফেলে দেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে।

চুক্তি মূল্যের ভিত্তিতে সাজানো সর্বকালের সবচেয়ে দামী একাদশের গোলপোস্টে তাই কেপারই জায়গা হয়েছে। রাইটব্যাক হিসেবে সবচেয়ে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তিটি কাইল ওয়াকারের দখলে। স্বাভাবিকভাবেই রাইটব্যাকের জায়গাটি নিয়েছেন তিনি। তবে একটা ফ্যাকড়া আছে।

২০১৭ সালে টটেনহাম থেকে ইংলিশ এই রাইটব্যাককে ম্যানচেস্টার সিটি দলে ভেড়ায় ৫৬.৭ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে। চুক্তিটি করে তিনিই তখন বনে যান সবচেয়ে দামী ডিফেন্ডার। তবে গত দুই বছরে একের পর এক চড়া মূল্যের চুক্তিতে কাইল ওয়াকার এখন অনেক পেছনে পড়ে গেছেন। তবে রাইটব্যাক হিসেবে তিনি এখনো সবচেয়ে দামীই আছেন।

অবশ্য তার চুক্তিটা ৫৬.৭ মিলিয়ন হলেও সিটি টটেনহামকে নগদ পরিশোধ করেছে ৫৩ মিলিয়ন ইউরো। একাদশের মোট মূল্যে তাই কাইল ওয়াকারের জন্য ৫৩ মিলিয়ন ইউরোই ধরেছে মার্কা।

দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন যথাক্রমে ৮৫ মিলিয়নের ভিরগিল ফন ডিক ও ৮৮ মিলিয়নের হ্যারি মাগুইরে। লেফটব্যাক হিসেবে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। যাকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে পাক্কা ৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছে বায়ার্ন।

মিডফিল্ডে জায়গা করে নিয়েছেন পল পগবা, রদ্রি ও ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। ২০১৬ সালে পগবাকে তৎকালীন রেকর্ড ১০৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পরে অবশ্য সবচেয়ে দামী ফুটবলারের তকমাটি হারিয়ে ফেলেছেন পগবা। সেটি এখন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের মাথায়। তবে সবচেয়ে দামী মিডফিল্ডারের তকমাটি এখনো পগবার দখলেই আছে।

মিডফিল্ডে তার দুই সঙ্গীই অবশ্য বড় চমক। এই মৌসুমেই ডাচ ক্লাব আয়াক্স থেকে তরুণ ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে ৭৫ মিলিয়ন ইউরোয় কিনে এনেছে বার্সেলোনা। বার্সেলোনার চেয়েও বড় চমকটা দেখিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ইংলিশ ক্লাবটি ৭০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনেছে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রিকে। বর্তমানের বিশ্বসেরা মিডফিল্ডার হিসেবে যার নাম এখনো সেভাবে কেউ নেয় না। মানে না হোক, দামের মাপকাঠিতে রদ্রি ঠিকই সেরা তিনের একজন।

আক্রমণভাগে জায়গা পাওয়া তিন সৈনিকের নামও প্রত্যাশিতই। নেইমার, এমবাপে ও ফিলিপে কুতিনহো। নেইমারের মাথায় তো সর্বকালের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের তকমাই। ২০১৭ সালে তাকে বার্সেলোনা থেকে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় কিনেছে পিএসজি। নেইমার-পিএসজির যে রেকর্ডটি এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি। আক্রমণে নেইমারের আরেক সঙ্গী তারই ক্লাব সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে। ২০১৭ সালেই ফরাসি এই তরুণকে পিএসজি মোনাকো থেকে কিনেছে ১৮০ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে।

আক্রমণ ত্রিফলার শেষজন ফিলিপে কুতিনহো। গত বছর এই ব্রাজিলিয়ান তরুণকে বার্সেলোনা লিভারপুলের কাছ থেকে জোর করে কিনেছে ১৬০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে। তবে চুক্তির মোট মূল্যটা ১৬০ মিলিয়ন ইউরো হলেও বার্সেলোনা বড় জোর ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো পাবে। ফলে মোট মূল্যের হিসেবে তার চুক্তিটা ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোই ধরেছে মার্কা।

কেআর/পিএ/

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও