ডি লিখতকে কথায় ভিজিয়েছিলেন রোনালদো!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ডি লিখতকে কথায় ভিজিয়েছিলেন রোনালদো!

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

ডি লিখতকে কথায় ভিজিয়েছিলেন রোনালদো!

তাকে দলে ভেড়ানোর জন্য যুদ্ধে নেমিছল রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ম্যানচেস্টার সিটি, পিএসজির মতো বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোও।

তবে দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। কাতালন ক্লাবটি মাতিয়াস ডি লিখতের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে কথা-বার্তা অনেক দূর এগিয়েও নিয়েছিল। কিন্তু, বার্সেলোনাকে না করে ডাচ তরুণ শেষ পর্যন্ত পাড়ি জমিয়েছেন জুভেন্টাসে।

অবশেষে ৭০ মিলিয়ন ইউরো খরচায় ১৯ বছর বয়সী ডাচ তরুণকে দলে ভেড়াল জুভেন্টাস। বার্সেলোনার পথ থেকে ডি লিখতকে জুভেন্টাসে নিয়ে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

নেশনস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল রোনালদোর পর্তুগাল ও ডি লিখতের নেদারল্যান্ডস। সেদিন মাঠে নেমে রোনালদো সরাসরিই ডি লিখতকে আমন্ত্রণ জানান জুভেন্টাসে যোগ দেয়ার।

যদিও রোনালদোর আমন্ত্রণই মূল ভূমিকা পালন করেছে, এটা অস্বীকার করেছেন ডি লিখত। তবে ডাচ তরুণ এটা অকপটে স্বীকার করেছেন, রোনালদোর কথায় গলে কাঁদা হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

রোনালদোর আন্তরিক আমন্ত্রণকে না করার শক্তি তার ছিল না, ‘নেশনস লিগের ফাইনালের কিছুদনি আগ পর্যন্তও আমি নিশ্চিত ছিলাম না, কোথায় যাব। ভেবেছিলাম নেশনস লিগটা যাক। কিছুদিন ছুটি কাটাই। তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। কিন্তু, নেশনস লিগের ফাইনালের আগেই নিশ্চিত ছিলাম যে, আমি জুভেন্টাসে যাচ্ছি। কাজেই ফাইনালের পর রোনালদোর সঙ্গে যে কথা-বার্তা হয়েছে, আমার জুভেন্টাসে যোগ দেয়ার পেছনে তার তেমন প্রভাব নেই। তবে হ্যাঁ, এটা স্বীকার করতেই হবে, রোনালদোর কথাগুলো খুবই ভালো লেগেছিল আমার। তার আন্তরিক আমন্ত্রণকে না করার উপায় ছিল না।’

কেন বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন। তার কারণটাও জানিয়েছেন ডাচ তরুণ। রক্ষণের জটিল কৌশলগুলো ভালোভাবে রপ্ত করার জন্য। ইতালিয়ান ফুটবল নিশ্চিতভাবেই রক্ষণ নির্ভর ফুটবলের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

ইতালিয়ান ফুটবলে গোল করার চেয়ে গোল না খাওয়াকেও প্রাধান্য দেয় বেশি। আর এই দর্শন বাস্তবায়নে বড় ভূমিকাটা রাখতে হয় ডিফেন্ডারদের। এই দর্শনের কারণেই কিনা, যুগে যুগে অনেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের জন্ম দিয়েছে ইতালি। ক্লাব জুভেন্টাসেও যুগে যুগে খেলেছেন অনেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার।

বর্তমান দলটিতেও যেমন আছেন জর্জো কিয়েলিনি, লিওনার্দো বোনাচ্চির মতো বর্ষীয়ান দুই ডিফেন্ডার। এই দু’জনের সঙ্গে মিলিয়ে জুভেন্টাসের রক্ষণ ত্রয়ী গড়েছিলেন বারজাগলি। কিন্তু, গত মৌসুম শেষেই তিনি অবসর নিয়েছেন।

বারজাগলি বিদায় নেয়ার কারণেই জুভেন্টাসে একজন প্রতিভাবান ডিফেন্ডারের দরকার ছিল, যিনি অভিজ্ঞ কিয়েলিনি ও বোনাচ্চির সঙ্গে মিলে জুভেন্টাসের রক্ষণভাগে গড়ে তুলতে পারবেন দুর্ভেদ্য প্রাচীর। এই চাওয়া পূরণের জন্যই ডি লিখতকে দলে ভেড়াল জুভেন্টাস।

নিজে যেহেতু ডিফেন্ডার, ডি লিখতের স্বপ্নের নায়কেরাও তাই ডিফেন্ডারই। জুভেন্টাসের বর্তমানের দুই ডিফেন্ডার কিয়েলিনি এবং বোনাচ্চি, দু’জনেই যেমন ডি লিখতের হিরো। তবে ডি লিখতের স্বপ্নের নায়কদের মধ্যে হালের কিয়েলিনি-বোনাচ্চির চেয়েও এগিয়ে আছেন একজন। সেই ফ্যাবিও ক্যানাভারোও (ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক) জুভেন্টাসেরই সাবেক খেলোয়াড়।

জুভেন্টাসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনটাও করে ফেলেছেন ডাচ তরুণ। সেখানেই তিনি বলেছেন, ‘আমার বয়স যখন ৬ কি ৭, তখন ফ্যাবিও ক্যানাভারো জুভেন্টাসে খেলতেন। তাকে অনেক বেশি পছন্দ করতাম আমি। একবার তো তার জার্সি কিনে ছবিও তুলেছিলাম। আপনারা আমার সঙ্গে একমত হবেন কিনা জানি না। তবে আমি মনে করি, ডিফেন্ডারদের জন্য জুভেন্টাসই সবচেয়ে আদর্শ জায়গা।’

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও