এই মৌসুমেই পিএসজি ছাড়বেন, প্রতিজ্ঞা নেইমারের!

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

এই মৌসুমেই পিএসজি ছাড়বেন, প্রতিজ্ঞা নেইমারের!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

এই মৌসুমেই পিএসজি ছাড়বেন, প্রতিজ্ঞা নেইমারের!

অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দেব না। দলবদল ইস্যুতে দেওয়া নিজের এই বয়কট হুমকির প্রতিজ্ঞা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি নেইমার। ক্লাবের মুখে নিজের পণ ভেঙে ব্রাজিলিয়ান তারকা ঠিক যোগ দিয়েছেন পিএসজির প্রাক-মৌসুম অনুশীলন ক্যাম্পে। তবে নেইমার নাকি নিজের ‘আসল পণ’-এর ব্যাপারে লোহার মতো শক্ত। ভাঙবেনও না, মচকাবেনও না।

তা তার আসল পণটা কি? যে করেই হোক এই মৌসুমেই পিএসজি ছাড়বেন, এটাই নেইমারের প্রতিজ্ঞা। নেইমার পিএসজি ছাড়তে চান, এটা আর গোপন কোনো বিষয় নয়। বিষয়টা এখন সারা দুনিয়াই জানে। পিএসজির কর্তারাও স্বীকার করেছেন, চলে যেতে চান নেইমার। এমনকি পিএসজির জার্মান কোচ টমাস টাচেলও বলেছেন, নেইমারের চলে যাওয়ার ইচ্ছার কথাটা তিনি আগে থেকেই জানেন।

তবে সেই চলে যাওয়োর ইচ্ছাটাকে যে ব্রাজিল তারকা ধনুকভাঙা পণে রূপ দিয়েছেন, সেটি জানা ছিল না। সেই অজানা তথ্যটাই এবার জানিয়ে দিল স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মুন্ডো দেপোর্তিভো।’ পত্রিকাটি দাবি করেছে, নেইমার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেকোনো মূল্যে পিএসজি ছাড়বেন। এবং সেটা এই মৌসুমেই। পিএসজি কর্তাদের আরেক মৌসুম থেকে যাওয়ার টোপ তিনি গিলবেন না!

তা তিনি যাবেন কোথায়? গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সাবেক ক্লাব বার্সেলোনায় ফেরার গুঞ্জনটা তুঙ্গে। বার্সার সঙ্গে নাকি কথা-বার্তা অনেকটা চূড়ান্তও করে ফেলেছেন নেইমার। কিন্তু মুন্ডো দেপোর্তিভোর খবর, নেইমার নাকি এরই মধ্যে বুঝে ফেলেছেন, বার্সেলোনায় ফেরাটা তার জন্য কঠিন হবে।

কারণ, পিএসজি কর্তারা এরই মধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন উপযুক্ত প্রস্তাব বা দাম পেলেই কেবল নেইমারকে ছাড়বে তারা। পিএসজির সেই উপযুক্ত দামের অঙ্কটা যে অন্তত ২২২ মিলিয়ন ইউরো হতে হবে, সেটি স্পষ্টই। দুই বছর আগে যাকে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় কিনেছে, তাকে কি করে কম দামে বিক্রি করে পিএসজি!

পিএসজির চাওয়া বা প্রত্যাশাটা তাই ২২২ মিলিয়ন ইউরো বা তারও বেশি। কিন্তু নেইমার বুঝে গেছেন, তাকে এত টাকা দিয়ে কেনার সামর্থ অন্তত এই মুহূর্তে বার্সেলোনার নেই! নেইমার চলে যাওয়ার পর গত দুই মৌসুমে দলবদলের বাজারে দু-হাতে টাকা ঢেলেছে বার্সেলোনা। এই তো দিন কয়েক আগেও ১২০ মিলিয়ন ইউরোয় কিনেছে অনেক প্রত্যাশার আতোইন গ্রিজমানকে।

অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে ফরাসি এই ফরোয়ার্ডকে কেনার আগে বার্সা কিনেছে ডাচ তরুণ ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে। আয়াক্স থেকে ২১ বছর বয়সী ডাচ তরুণকে কিনতেও বার্সার খরচ হয়েছে ৮৬ মিলিয়ন ইউরো। তার আগে ফিলিপে কুতিনহো, উসমানে ডেম্বেলেদের কিনেছে আরও বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে। একের পর এক নতুন খেলোয়াড় কিনে বার্সেলোনার নগদ তহবিলটাই শূন্য হয়ে গেছে। তারপরও নেইমারকে কেনার আশাটা তাদের বড়।

কিন্তু আশা বড় হলেও সামর্থের বিষয়টি বাঁধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫০-১০০ মিলিয়নের খেলোয়াড়কে না হয়, ধার-দেনা করে কেনা যায়। কিন্তু ২৫০ মিলিয়নের খেলোয়াড় ঋণ করে কেনার ঝুঁকিটা বিশাল। বার্সা কি সেই ঝুঁকিটা নেবে? বার্সা ঝুঁকিটা শেষ পর্যন্ত নেবে কিনা, তাদের ব্যাপার। তবে নেইমার নাকি এরই মধ্যে বুঝে গেছেন ন্যু-ক্যাম্পে ফেরার পথটা তার জন্য এই মুহূর্তে খুবই কঠিন। ওদিকে আবার পণও করে বসেছেন, যেকোনো মূল্যে পিএসজি ছাড়বেন।

তাহলে? বিকল্প হিসেবে নেইমার তাই রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, বায়ার্ন মিউনিখ এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পথটা নিয়েও ভাবছেন। এদের মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের টার্গেট তিনি অনেক আগে থেকেই। পিএসজি থেকে নেইমারকে নিয়ে আসার জন্য অনেক অনেক চেষ্টা-তদ্বিরও করেছে রিয়াল। কিন্তু কাজ হয়নি। পিএসজি কর্তাদের টলাতে পারেনি। তবে নেইমার যেহেতু ক্লাব ছাড়তে মরিয়া, রিয়ালের ক্ষুধাটা আবার জাগ্রত হতেও পারে। পাশাপাশি জুভেন্টাস, বায়ার্ন, ম্যানইউরও নেইমারকে কেনার আগ্রহ আছে।

কিন্তু সবার সমস্যা একটাই। টাকা। একজন খেলোয়াড়কে ২০০-২৫০ মিলিয়ন ইউরো কেনার পরিকল্পনা করতে গেলেও যে আৎকে উঠতে হয়!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও