মেসিকে ব্রাজিলের সাফল্যের ইতিহাস পড়ালেন সিলভা!

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

মেসিকে ব্রাজিলের সাফল্যের ইতিহাস পড়ালেন সিলভা!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

মেসিকে ব্রাজিলের সাফল্যের ইতিহাস পড়ালেন সিলভা!

পেরুকে হারিয়ে কোপার শিরোপা জয়ের পরপরই লিওনেল মেসির সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল কোচ তিতে।

সমালোচনার জবাবে মেসিকে তিনি রীতিমতো ধুয়ে দিয়েছেন। সতর্ক করেছেন, সম্মানের সঙ্গে কথা বলতে।

কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে মেসিকে পাল্টা তোপ দাগালেন থিয়াগো সিলভা এবং মারকুইহোসও। দুই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারই মেসির বিরুদ্ধে উল্টো রেফারিকে প্ররোচিত করার পাল্টা তীর দেগেছেন।

প্রশ্ন তুলেছেন মেসির সততা নিয়ে। পাশাপাশি সিলভা ব্রাজিলের ফুটবল সাফল্যের ইতিহাসও পড়ালেন মেসিকে! মনে করিয়ে দিলেন, বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের অর্জন কত!

এবারের কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের কাছে সেমিফাইনালে হেরে শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় আর্জেন্টিনার। ওই ম্যাচের পর থেকেই রেফারিং নিয়ে মহাখ্যাপ্পা মেসি। ব্রাজিল ম্যাচে তাদের দুটো ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করেছে দাবি করে রেফারিকে ধুয়ে দেন মেসি।

অবশ্য শুধু রেফারির সমালোচনা করলেও সিলভাদের গায়ে লাগত না! কিন্তু, রেফারির সমালোচনা করতে গিয়ে রাগে-ক্ষোভে, হতাশায় মেসি ব্রাজিলের মর্যাদা-অহংবোধেও আঘাত করেন।

অভিযোগ করেন, ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানোর মিশন হিসেবেই কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশন) রেফারিদের দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের দুর্নীতি করছে। রেফারিরা তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

চিলির বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ড পাওয়ার পর আরও বেশি চটে যান মেসি। রাগে-ক্ষোভে, প্রতিবাদে নিজের পদক নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। দুর্নীতির প্রতিবাদস্বরূপ শেষ পর্যন্ত পদকম নেনও-নি মেসি।

রেফারিংয়ের সমালোচনা করতে গিয়ে মেসি ব্রাজিলিয়ানদের মর্যাদা-অহংবোধ, ফুটবল ঐতিহ্যে কলঙ্কের চুন-কালি মাখবেন, আর সিলভা-মারকুইনহোসরা তা চুপচাপ সহ্য করবেন!

সহ্য করতে পারেননি বলেই মেসিকে পাল্টা তোপ দেগেছেন। এক সময় সিলভাকে বিবেচনা করা হতো বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডার। বয়সের ভারে সেই তকমা হারিয়ে ফেলেছেন বটে। তবে এখনো যে তিনি রক্ষণের অতন্ত্র প্রহরী, এবারের কোপায় তা ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন সিলভা।

বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মেসিকে রুখে দেয়ার কাজটা তিনি করেছেন দারুণভাবে। এবার জানা গেল, পায়ের দক্ষতার পাশাপাশি মুখেও বেশ দক্ষ ৩৪ বছর বয়সী সিলভা।

সমালোচনার জবাব দিতে পারেন দারুণভাবে, ‘এটা নিয়ে কথা বলাটা কঠিন। মাঝে মাঝে যখন কেউ হারে, তখন তারা হারের দায় নিতে চায় না। অন্যের ঘাড়ে চাপাতে চায়। এটা দুঃখ্যজনক।’

২০১৭ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলতে পিএসজির বিপক্ষে বার্সেলোনার সেই জয়ের উদাহরণ টেনে সিলভা বলেছেন, ‘সেবার তো পিএসজির বিপক্ষে হাস্যকর রেফারিংয়ের সহায়তা নিয়ে বার্সেলোনা জিতেছিল। সে (মেসি) নিজেও নিজেদের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে রেফারিকে প্ররোচিত করেছে। কই, পিএসজিতে আমরা তো কেউ তখন বলিনি যে, উয়েফা চাইছে বার্সেলোনা শিরোপা জিতুক। আমি মনে করি, তারও উচিত অন্যকে সম্মান দেখানো।’

ব্রাজিল সর্বোচ্চ ৫ বার বিশ্বকাপ জিতেছে। এটা মনে করিয়ে দিয়ে সিলভা বলেছেন, ‘ব্রাজিল ওই ৫ তারা (বিশ্বকাপ শিরোপা) এমনি এমনিতেই পায়নি। এগুলো চুরিও করেনি। মাঠে খেলেই এটা অর্জন করেছে।’

সতীর্থ সিলভার সঙ্গে সুর মিলিয়ে মারকুইনহোস প্রশ্ন তুলেছেন, ক্যারিয়ারজুড়ে মেসির দল (ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল) রেফারিদের অনেক অনেক সহযোগিতা পেয়েছেন, তখন কেন মেসি রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি?

মারকুইনহোসও ২০১৭ সালের পিএসজি-বার্সার দ্বৈরথ টেনে বলেছেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে তার মানের একজন খেলোয়াড় এসব বলছে। রেফারিরা বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পক্ষে অনেক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন তো কখনো ‍দুর্নীতির কথা বলতে শুনিনি। হারটা কিভাবে মেনে নিতে হয়, সেটি তাকে শিখতে হবে। আমরাও তো হারি। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে আমরা ভালো খেলেও হেরেছি। কিন্তু, প্রশ্ন তুলিনি। বরং হারটা আমরা মেনে নিয়েছি।’

ব্রাজিলের অধিনায়ক, মেসির এক সময়ের বার্সেলোনা সতীর্থ দানি আলভেস বলেছেন, ‘আমি মেসির সঙ্গে একমত নই। আমরা অনেক কষ্ট এবং পরিশ্রম করেই শিরোপা জিতেছি।’

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও