টুর্নামেন্ট সেরা দানি আলভেস, গোল্ডেন বুট এভারটনের

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

টুর্নামেন্ট সেরা দানি আলভেস, গোল্ডেন বুট এভারটনের

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

টুর্নামেন্ট সেরা দানি আলভেস, গোল্ডেন বুট এভারটনের

পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নবম বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল। শুধু ১২ বছর পর কোপার শিরোপা-খরা ঘোচানো নয়, নিজেদের ঘরের মাটির টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোও জিতে নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ানরা। ব্যক্তিগত ৪টি পুরস্কারই ব্রাজিলিয়ানদের পকেটে। এমনকি ফেয়ার-প্লে ট্রফিটাও উঠেছে ব্রাজিলের হাতে। মানে নিজেদের ঘরে মাঠে ব্রাজিলিয়ানদের সাফল্য শতভাগ!

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বলটা জিতে নিয়েছেন ব্রাজিল অধিনায়ক দানি আলভেস। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার সোনার জুতো জিতেছেন এভারটন। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছেন ২৩ বছর বয়সী তরুণ। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লাভসটা জিতেছেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন।

গত মৌসুম শেষেই দানি আলভেস হয়ে গেছেন ফ্রি এজেন্ট। মানে তার এখন কোনো ক্লাব নেই। চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিয়েছে পিএসজি। বয়স ৩৬ হয়ে গেছে। বয়সের দিকে তাকিয়েই হয়তো পিএসজি চুক্তি নবায়ন না করে ছেড়ে দিয়েছে। দানি আলভেসের ভবিষ্যতের ঠিকানা কোথায় হবে, সেটি এখনো অজানা। জানেন না তিনিও।

নিজের ক্যারিয়ারের এই শঙ্কা মাথায় নিয়েই খেলতে নামেন কোপা আমেরিকায়। ভাগ্যের ফেরে পেয়ে যান অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ডও। বিতর্কিত কাণ্ডে নেইমারের কাছ থেকে অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ডটি ছিনিয়ে এনে অভিজ্ঞ দানি আলভেসের বাহুতে বেঁধে দেন ব্রাজিল কোচ তিতে।

কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দুর্দান্তভাবেই দিয়েছেন দানি আলভেস। সাবেক বার্সেলোনা তারকা প্রতিটা ম্যাচেই নিজের কাজটা দুর্তান্তভাবে করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল মাত্র একটা গোল হজম করেছে। সেটিও গত রাতের ফাইনালে, পেনাল্টি থেকে। মানে পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল কোনো ফিল্ড গোল হজম করেনি। এতেই স্পষ্ট, অভিজ্ঞ থিয়াগো সিলভা, দানি আলভেসরা নিজেদের রক্ষণ কতটা সার্থকতার সঙ্গে সামলেছেন।

রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি দানি আলভেস দলের আক্রমণেও সহায়তা করেছেন। করেছেন একটা গোলও। তার পুরস্কার হিসেবেই জিতে নিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সোনার বল। যাতে তার ভবিষ্যতের পথটি পরিস্কারই হওয়ার কথা। কোপায় এমন উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের পর ইউরোপের ক্লাবগুলো তাকে দলে টানার জন্য লাইন লাগাবে, এটা অনুমিতই।

দানি আলভেসের চেয়েও বড় চমকটা উপহার দিয়েছেন এভারটন। লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো, অ্যালেক্সিস সানচেজ, লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানি, জেমস রদ্রিগেজদের মতো বিশ্ব মাতানো ফরোয়ার্ডরা নিজ নিজ দলের হয়ে অংশ নিয়েছিলেন কোপায়। এমনকি এভারটনের ব্রাজিল দলেও ছিলেন ফিলিপে কুতিনহো, রবার্তো ফিরমিনো, গ্যাব্রিয়েল জেসুসদের মতো প্রতিষ্ঠিত সব ফরোয়ার্ড।

এদের সবাইকে টপকে ‘অখ্যাত’ এভারটন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হবেন, এমনটা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। এমনকি এভারটন নিজেও হয়তো এমন স্বপ্ন দেখার সাহস পাননি। সবাইকে পেছনে ফেলে সেই এভারটনই জিতে নিলেন গোল্ডেন বুট। পাশাপাশি জিতে নিয়েছেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। পেরুর বিপক্ষে ফাইনালেও একটা গোল করেছেন এভারটন। সব মিলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওতে খেলা ২৩ বছর বয়সী তরুণ ৫ ম্যাচে ৩ গোল করেছেন। সঙ্গে একটি অ্যাসিস্টও আছে।

তার সমান ৩টি গোল করেছেন পেরুর ফরোয়ার্ড পাওলো গুয়েরেরোও। তবে একটি অ্যাসিস্ট করার সুবাদে গোল্ডেন বুটটা জিতে নিয়েছেন এভারটন।

২টি করে গোল করেছেন আগুয়েরো, লাওতারো মার্টিনেজ, কুতিনহো, ফিরমিনো, জেসুস, সুয়ারেজ, কাভানি, সানচেজসহ মোট ১৩ জনে। ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি করেছেন মাত্র ১ গোল। সেটিও পেনাল্টি থেকে।

পুরো টুর্নামেন্টের পাশাপাশি ফাইনালেও দারুণ কিছু সেভ করেছেন কদিন আগেই লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা আলিসন। ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক তার স্বীকৃতি হিসেবেই পেলেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার।

কেআর

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও