কোপায় সবচেয়ে বড় খলনায়ক কারা?

ঢাকা, ১৬ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

কোপায় সবচেয়ে বড় খলনায়ক কারা?

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

কোপায় সবচেয়ে বড় খলনায়ক কারা?

আরও একবার কোপার শিরোপা জিততে ব্যর্থ আর্জেন্টিনা। দেশকে শিরোপা জেতাতে আরও একবার ব্যর্থ লিওনেল মেসি। মেসি এবং তার আর্জেন্টিনার মতো শিরোপা স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন চিলি, উরুগুয়ে, কলম্বিয়াও। ফাইনালে উঠেও হেরে যাওয়া পেরু তো আছেই।

ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, কাতার, জাপানের গায়ে তো ‘হারু’ পাট্টির তকমা লেগেছে আগেই। ১২ দলের টুর্নামেন্টে একমাত্র ব্রাজিলই সত্যিকারের বিজয়ী। গত রাতে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নবম বারের মতো কোপার শিরোপা জিতেছে তারা। বাকি ১১ দলই কার্যত পরাজিত!

যদি প্রশ্ন করা হয়, এবারের কোপায় সবচেয়ে সত্যিকারের হারটা কাদের? সবচেয়ে বড় খলনায়ক কারা? তারকা খ্যাতির বিচারে কেউ মেসি এবং তার দল আর্জেন্টিনার কথা বলতে পারেন! কিন্তু ফুটবলবোদ্ধাদের বিশ্লেষণী রায়ে কোপায় সত্যিকারের পরাজয় হয়েছে রেফারিদের! রেফারিরাই সবচেয়ে বড় খলনায়ক!

রেফারিদের এই খলনায়ক বনে যাওয়া পেছন থেকে অনুসঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে ভিএআরও (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি, রিভিউও)। প্রযুক্তির ব্যবহারের অদক্ষতার কারণে ভিএআরের সহায়তা নিয়ে বারবারই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেফারিরা!

১৪ জুলাই (বাংলাদেশ সময় ১৫ জুলাই ভোর) ব্রাজিল-বলিভিয়ার উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই রেফারিং এবং ভিএআর বিতর্কের শুরু। তা অব্যাহত ছিল গত রাতের ফাইনাল পর্যন্তও। গত রাতে এস্তাদিও মারাকানার ফাইনালেও ভিএআরের সহায়তায় দু-দুটো পেনাল্টি নিয়েছেন চিলিয়ান রেফারি রবার্তো তোবার। ব্রাজিল-পেরুকে ভাগাভাগি করে দেওয়া সেই দুটো পেনাল্টির সিদ্ধান্তই মূলত রেফারির তোবারের ছিল। পরে প্রতিপক্ষের আবেদনেরর প্রেক্ষিতে রিভিউ দেখেও নিজের সিদ্ধান্তই বলবৎ রেখেছেন রেফারি তোবার।

তবে ফাইনালের দুই পেনাল্টি নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই। রেফারি তোবার বিতর্কিত কাণ্ডটা করেছেন ম্যাচের ৭০ মিনিটে। গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে দ্বিতীয় হলুদকার্ড বা লালকার্ড দেখিয়ে। পেরুর ডিফেন্ডার কার্লোস জামব্রানোকে যে ফাউলটা করেছেন জেসুস, ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, তা কোনোভাবেই দ্বিতীয় হলুদকার্ড বা লালকার্ডের অপরাধ নয়। রেফারিং ভুল করেছেন! বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

জেসুসের সঙ্গে করা ভুলটা তবু মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মেসিকে বিতর্কিত লালকার্ড দিয়েছেন ওই ম্যাচের রেফারি, সেটি মেনে নেওয়া ফুটবলপ্রেমীদের জন্য কষ্টকরই। রিপ্লেতে দেখা গেছে ঘটনার পুরো দায়টা ছিল চিলির অধিনায়ক গ্যারি মেডেলের। চরম উত্তেজিত হয়ে তিনিই মেসিকে নিজের কাঁধ দিয়ে বারবার গুতো মেরেছেন! অথচ রেফারি লালকার্ড দিয়েছেন মেডেল এবং মেসি দুজনকেই।

রেফারির চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি মেনে নিতে না পেরে মেসি তো ম্যাচ শেষে চরম প্রতিবাদই করেছেন। রাগে-ক্ষোভে, হতাশায় নিজের পদক নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি রেফারি এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ফেডারেশন কনমেবলকেও ধুয়ে দিয়েছেন।

শুধু চিলির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নয়। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমি ফাইনাল ম্যাচেও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন মেসি। দাবি করেন, রেফারি তাদের দু-দুটো ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করেছে। মজার ব্যাপার হলো, মেসির সেই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রিভালদোও। ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা অকপটে বলেছেন, ‘আর্জেন্টাইনদের দাবি সঠিক। ব্রাজিল ম্যাচে দুটো পেনাল্টিই প্রাপ্য ছিল তাদের।’

মেসি এবং তার আর্জেন্টিনাই যে এবারের কোপায় রেফারিদের সবচেয়ে বড় ‘ভিকটিম’ সেটি স্পষ্টই। তবে অন্য দলগুলোও বিতর্কিত রেফারিংয়ের স্বীকার। এমনকি শিরোপা জেতা ব্রাজিলও। সবকিছু দেখেই ফুটবলবোদ্ধাদের নিঃসংশয় রায়, রেফারিরাই কোপায় সত্যিকারের পরাজিত, সবচেয়ে বড় খলনায়ক!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও