বিদ্রোহী মেসি, প্রতিবাদে পুরস্কারই নিলেন না!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বিদ্রোহী মেসি, প্রতিবাদে পুরস্কারই নিলেন না!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

বিদ্রোহী মেসি, প্রতিবাদে পুরস্কারই নিলেন না!

ভালো মানুষ কোনো কারণে রেগে গেলে বিপদ আছে। তার রাগ সহজে নিবৃত্ত করা যায় না। ফুটবলে নিপাট ভদ্রলোক হিসেবে খ্যাত লিওনেল মেসি যেমন, রাগে-ক্ষোভে হতাশায় হঠাৎই বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন। বিতর্কিত রেফারিংয়ের রাগে-ক্ষোভে, প্রতিবাদস্বরূপ নিজের পুরস্কারটাই নিলেন না! গত রাতে চিলিকে হারিয়ে এবারের কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচে লালকার্ড পাওয়া মেসি ‘অন্যায়’ রেফারিংয়ের প্রতিবাদে নিজের ব্রোঞ্জ মেডেলটা নেননি!

এবারের কোপা আমেরিকার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন মেসি। তার প্রথম অভিযোগ ছিল ব্রাজিলের মাঠ নিয়ে। ব্রাজিলের মাঠগুলো ভালো ফুটবল খেলার উপযুক্ত নয়, এমন অভিযোগই করেন মেসি। এর পর ব্রাজিলের বিপক্ষে সেমিফাইনালের পর ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তোলেন আরও বড় অভিযোগ। প্রশ্ন তোলেন স্বাগতিক ব্রাজিলের পক্ষে রেফারির নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের।

দাবি করেন, ব্রাজিলের বিপক্ষে রেফারি তাদের দু-দুটো ন্যায্য পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত করেছেন! পরে অধিনায়ক মেসির সঙ্গে সুর মিলিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে কনমেবলের (দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা) কাছে লিখিত অভিযোগও করেছে। এএফএ-এর সেই অভিযোগের জবাব কনমেবল কীভাবে দেবে, বলবে সময়। তবে তার আগেই গত রাতে ঘটে গেল আরেক কাণ্ড।

গত রাতে চিলির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ৩৭ মিনিটে লালকার্ড পেয়েছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে এটা মেসির দ্বিতীয় লালকার্ড। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে নিজের অভিষেক ম্যাচেই লালকার্ড পান মেসি। তবে সেটি ছিল রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের ফল। কাকতালীয়ভাবে কাল রাতের লালকার্ডটিতেও মেসির দায় অপেক্ষাকৃত কম।

শুধু মেসিকে একা নয়, তার সঙ্গে লালকার্ড পেয়েছেন চিলির ডিফেন্ডার গ্যারি মেডেলও। সাদা চোখে দোষটা মেডলেরই। উঁচু করে বাড়ানো সতীর্থের পাস থেকে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য লাফিয়ে উঠেন মেসি। বল দখলের লড়াইয়ে মেডেলের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে দুজনেই মেজাজ গরম করে একে অন্যের দিকে তেড়ে যান। দুজনে একেবারে মুখোমুখি অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে মেডলে দুহাতে ধাক্কা মেরে বসেন মেসিকে। মেডলের মতো মেসির শারীরিক ভঙ্গিও আগ্রাসী ছিল বটে। তবে তিনি হাতের ব্যবহার করে ধাক্কা দেননি।

কিন্তু রেফারি দুজনকেই লালকার্ড দিয়েছেন। মেসিকে লালকার্ড দেওয়ার পেছনে রেফারির যুক্তি, মেসি মেডেলকে ফাউল করতে উৎসাহিত করেছেন! স্বাভাবিকভাবেই রেফারির এই যুক্তি মনঃপুত হয়নি মেসির। রেফারিরা তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় পক্ষপাতিত্বের মিশনে নেমেছে বলেই অভিযোগ করেছেন তিনি।

মেসি লালকার্ড পেলেও সার্জিও আগুয়েরো ও পাওলো দিবালার গোলে চিলিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছে আর্জেন্টিনা। নিয়েছে গত দুই বারের ফাইনালে হারের প্রতিশোধও।

যাই হোক, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা দলের অন্য খেলোয়াড়েরা পুরস্কারের মেডেল নিলেও মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বেরই হননি।

জানা গেছে, ম্যাচ শেষে তিনি নিজেকে লকার রুমে বন্দী রাখেন। মেসি কেন পুরস্কার নিতে গেলেন না বা নিলেন না? প্রথমে কারণটা জানা যায়নি। তবে পরে মেসি নিজেই বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণ।

লকার রুমের নিজের বন্দী দশা থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে নিজেই বলেছেন, বিতকির্ত রেফারিংয়ের প্রতিবাদ হিসেবেই পুরস্কার নেননি তিনি। প্রতিবাদ জানিয়ে শুধু পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তা নয়। মনের ক্ষোভ উপড়ে দিয়ে কনমেবলকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন মেসি। অভিযোগ করেছেন, কনমেবল স্বাগতিক ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করার মিশন থেকেই রেফারিদের দিয়ে তাদের বিপক্ষে অন্যায় করাচ্ছে।

বিতর্কিত রেফারিংকে কনমেবলের দুর্নীতির অংশ আখ্যায়িত করে মেসি বলেছেন, ‘আমরা এমন দুর্নীতির অংশ হতে চাই না। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই রেফারিং ছিল অত্যন্ত বাজে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, ব্রাজিলকে কোপার শিরোপা জেতানোর মিশনের অংশই এটা। আমি এখনই দেখতে পাচ্ছি, এবারের কোপার শিরোপা জিততে যাচ্ছে ব্রাজিল।’

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও