মেসির লালকার্ড, চিলিকে হারিয়ে তৃতীয় আর্জেন্টিনা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

মেসির লালকার্ড, চিলিকে হারিয়ে তৃতীয় আর্জেন্টিনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০১৯

মেসির লালকার্ড, চিলিকে হারিয়ে তৃতীয় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপ হোক কিংবা কোপা আমেরিকা, অগুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ মানেই পানসে, ম্যাড়ম্যাড়ে এক লড়াই। কিন্তু চিরায়ত এই সত্যকে ভুল প্রমাণ করে গত রাতে আর্জেন্টিনা-চিলির তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঝরল অগ্নি-স্ফূলিঙ্গ। চরম উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে লিওনেল মেসিকে দেখতে হয়েছে লালকার্ড। তবে তার দল আর্জেন্টিনা ঠিকই চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়ে হয়েছে তৃতীয়।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল দুটো করেছেন সার্গিও আগুয়েরো ও পাওলো দিবালা। চিলির হয়ে একমাত্র গোলটা করেছেন মেসির বার্সেলোনা-সতীর্থ আরতুরো ভিদাল, পেনাল্টি থেকে।

সাও পাওলোর অ্যারেনা করিন্থিয়ান্সে ম্যাচের শুরুটাই হয় যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব নিয়ে। যতটা না ফুটবলীয় যুদ্ধ, তার চেয়ে বেশি শারীরিক যুদ্ধ। দুই দলের খেলোয়াড়েরাই যেন মাঠে নামে মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে। ফল, বল দখলে মুখোমুখি হলেই ট্যাকল, পাল্টা ট্যাকল, বাদ-প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড়েরা। লিপ্ত হয় শারীরিক সংঘর্ষে।

দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুদ্ধ যুদ্ধ মনোভাবের কারণটাও স্পষ্ট। কোপা আমেরিকায় সর্বশেষ দুইবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেই দুটি ফাইনালেই টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় চিলি। গতকাল রাতের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা ছিল আর্জেন্টাইনদের জন্য প্রতিশোধের মঞ্চ। আর চিলির জন্য নিজেদের সম্মান ধরে রাখার লড়াই।

এই অহংবোধের কারণেই কিনা, ম্যাচের শুরু থেকেই শরীর নির্ভর ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। মাঠে খেলোয়াড়েরা এতোটাই যুদ্ধাংদেহী মনোভাবাপন্ন ছিলেন যে, শক্ত হাতে ম্যাচ পরিচালনা করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে রেফারিকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই দল মিলে ফাউল করেছে ২১টি! সব মিলে ম্যাচে রেফারিকে কার্ড বের করতে হয়েছে ৯ বার। দুটি লালকার্ড, ৭টি হলুদকার্ড।

৩৭ মিনিটে সেই শারীরিক সংঘর্ষের সুবাদেই লালকার্ড পান মেসি। শুধু মেসি একা নন, ওই ঘটনায় লালকার্ড পান চিলির ডিফেন্ডার গ্যারি মেডেলও। ফলে দুই দলই পরিণত হয় ১০ জনের দলে। তার আগেই অবশ্য ২-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

মেজাজ গরম হলেও ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। আক্রমণও তারাই করেছে বেশি। তার ফলও পায় আর্জেন্টিনা। ১২ মিনিটেই মেসির তড়িৎ ফ্রি কিক থেকে বল পেয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন আগুয়েরো। ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ডের এই গোলের রেশ পুরোপুরি না কাটতেই আবারও আর্জেন্টাইনদের গোল-উৎসব।

২২ মিনিটে জিওভান্তি লো সেলসোর পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন দিবালা। টুর্নামেন্টে প্রথম বারের মতো আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে জায়গা পান জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিবালা দিয়েছেন গোল করে।

এর পর ৩৭ মিনিটের সেই জোড়া লালকার্ড কাণ্ড। বল দখলের লড়াইয়ে মেজাজ হারিয়ে একে অন্যের উপরে চড়াও হন মেডেল ও মেসি। দুইজনেই আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে মুখোমুখি হন। তবে দায়টা চিলিয়ান ডিফেন্ডারেরেই বেশি।

মেজাজ হারিয়েই তিনিই মেসিকে হাত দিয়ে ধাক্কা মারেন। ক্ষিপ্ত ষাড়ের মতো মেসিও মেডেলের ওপর চড়াও হন। তবে মেসি নিজের হাত ব্যবহার করেননি। শারীরিক আগ্রাসী ভাবই দেখিয়েছেন শুধু। কিন্তু রেফারি লালকার্ড দেকান দুজনকেই। এই লালকার্ড কাণ্ডে খেলা বন্ধ থাকে অনেকটা সময়। মাঠের পাশাপাশি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রিজার্ভ বেঞ্চেও।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা হয় আর্জেন্টিনার পেনাল্টির আবেদনের মধ্য দিয়ে। চিলির ডিফেন্ডার চার্লস আরানগুইস বক্সের মধ্যে আগুয়েরোকে ফাউল করলে পেনাল্টির আবেদন করেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা। রেফারি সেই আবেদনে সারা না দিয়ে চালিয়ে যান খেলা। তবে ৫৯ মিনিটে ঠিকই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আর্জেন্টিনার পক্ষে নয়, চিলির পক্ষে।

সেই আরানগুইসকেই ফাউল করেন লো সেলসো। ভিএআরের সহায়তায় চিলিকে পেনাল্টি দেন রেফারি। গোলের সহজ সুযোগটি দুর্দান্তভাবেই কাজে লাগিয়েছেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ভিদাল। কিন্তু ব্যবধান কমালোও ভিদাল-সানচেজরা চিলিকে সমতায় ফেরাতে পারেননি।

সমতা ফেরানো কি, চিলি যে শেষ দিকে আরও গোল খায়নি সেটিই তাদের ভাগ্য। দিবালার পরিবর্তে নামা অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া, লো সেলসোরা ম্যাচের শেষ দিকে বেশ কয়েকবারই গোলের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সুযোগগুলোকে তারা কাজে লাগাতে পারেননি। পারলে আর্জেন্টিনার জয়ের ব্যবধানটা আরও বড় হতো।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও