রাতেই মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

রাতেই মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি?

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৬, ২০১৯

রাতেই মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি?

লিওনেল মেসি তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ‘ট্র্যাজিক হিরো’ হয়েই থাকছেন? না, মেসি নিজে এখনো অবসরের বিষয়ে কিছু বলেননি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল বা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে কিছু বলা বা ইঙ্গিত দেয়া হয়নি।

তবে আর্জেন্টিনাসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে গুঞ্জন, চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটির পর অবসর নিয়ে ফেলতে যাচ্ছেন মেসি!

গুঞ্জনটা সত্যি হলে শনিবার রাতে চিলির বিপক্ষে তৃতীয় হওয়ার ম্যাচটাই হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ! সাও পাওলোতে যে ম্যাচটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

এই ম্যাচ খেলেই তিনি নাকি পাকাপাকিভাবে অবসর নিয়ে নাম লেখাবেন ‘সাবেক’- এর খাতায়।

মেসি বা আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি বটে। তবে গুঞ্জনটির সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্কটা নিবিড়! সম্ভাবনার বাঁধনটা শক্ত। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য সবকিছুই জেতা হয়ে গেছে তার। বাকি নেই কিছুই। কিন্তু, জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রাপ্তির খাতাটা এখনো শূন্য। শূন্য সেই ঘরটা বরং বারবার তীরে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গের হতাশা দিয়ে পরিপূর্ণ।

একবার নয়, তিন তিনবার শিরোপা স্বপ্ন ভেস্তে গেছে ফাইনালে গিয়ে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হারের পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হেরেছে টানা দু’বার। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের শতবর্ষী কোপায়।

বারবার শিরোপা স্বপ্নভঙ্গের হতাশায়, কষ্টে এরই মধ্যে দু’বার ‘অবসর, অবসর’ নাটক মঞ্চস্থ করে ফেলেছেন মেসি! ২০১৬ সালে কোপায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো চিলির কাছে ফাইনালে হারের পর হতাশাটা লুকাতে পারেননি মেসি। তীরে গিয়ে তরি ডোবার কষ্টে মাঠেই কেঁদে ফেলেন তিনি।

হতাশার চাপ সইতে না পেরে পরে নিয়ে ফেলেন অবসরই। সেই অবসর পর্ব অবশ্য মাস দুয়েকের বেশি স্থায়ী হয়নি। আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ, বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষি, আপজনজন, সর্বোপুরি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের সরাসরি অনুরোধে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন মেসি।

কিন্তু, তার সেই ফিরে আসাটা সার্থক হয়নি। বরং ব্যর্থতা এবং হতাশার গল্পটাই দীর্ঘতর হয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই ফিরে আসেন মেসি বা তাকে অনুনয়-বিনয় করে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু, রাশিয়া বিশ্বকাপে আবারও সেই স্বপ্নভঙ্গের দুর্বিষহ কষ্ট। এক ম্যাচের ঝলকে মেসি কোনো রকমে আর্জেন্টিনাকে বাছাইপর্বের বাঁধা পার করালেও বিশ্বকাপ মঞ্চে তেমন কিছু করতে পারেননি। দ্বিতীয় রাউন্ডে বিশ্বসেরা মেসিকে ‘স্ট্যাচু’ বানিয়ে আর্জেন্টিনার সর্বনাশ করেন কিলিয়ান এমবাপে নামের ১৯ বছরের এক ফরাসি তরুণ।

ফ্রান্সের কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায় মেসিদের। রাশিয়ার ব্যর্থতার পর আবারও মেসির ‘অবসর’ নাটক। এবার অবশ্য অবসরের জন্য অবসর নয়, নেন সাময়িক অবসর। বিশ্রামের নাম করে সরে দাঁড়ান জাতীয় দল থেকে। তবে কবে আবার জাতীয় দলে ফিরবেন, তার ইঙ্গিত না দেয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, মেসি আর জাতীয় দলে ফিরবেন না?

সেই গুঞ্জনকে মিথ্যা প্রমাণ করে মেসি ঠিকই জাতীয় দলে ফিরে আসেন কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে। তাকে ঘিরে আর্জেন্টাইনরা আবার স্বপ্নের জাল বুনে কোপার শিরোপার। মেসিও পণ করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে একটা কিছু জিতবেনই।’ কিন্তু, তার সেই পণ ব্রাজিলের সবুজ ঘাসের সঙ্গে মিশে গেছে।

ভাগ্যের চাকায় চড়ে আর্জেন্টিনা কোনো রকমে সেমিফাইনালে উঠেছিল বটে। কিন্তু, সেমিতে ব্রাজিল বাঁধা পেরোতে পারেনি। শিরোপা স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে আজ তাই তাদের নামতে হচ্ছে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে!

আরও একবার স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় তাই গুঞ্জন উঠেছে, মেসি হয়তো পাকাপাকিভাবেই অবসর নিয়ে ফেলবেন। এই গুঞ্জনকে বাস্তবতার সুতোয় বাঁধছে তিনটি বিষয়— মেসির বিবর্ণতা, বয়স এবং বাইরের সমালোচনা বা সরে দাঁড়ানোর ডাক।

সাম্প্রতিক সময়ে বারবার আর্জেন্টিনার শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বড় কোপটা পড়েছে মেসির উপরই। সেই মেসি এবারের কোপায় আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন বড় বিবর্ণ। খোদ মেসি-ভক্তও মানবেন, আর্জেন্টিনার এবারের শিরোপা স্বপ্নভঙ্গের পেছনে সবচেয়ে বেশি দায় মেসির!

৪ ম্যাচের একটিতেও জ্বলে উঠতে পারেননি মেসি। মেসি নিজেও স্বীকার করেছেন, কোপাটা ভালো যাচ্ছে না তার।

মেসির অবিশ্বাস্য বিবর্ণতা দেখে খোদ আর্জেন্টাইনরাই তাকে জাতীয় দল থেকে সরে যাওয়ার বা তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবি তুলেছেন।

তাদের মধ্যে আছেন আর্জেন্টিনার ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী কেম্পেসও। তিনি সরাসরিই বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে মেসিকে বাদ দিয়ে নতুন করে দল গড়ে তোলার।’ মানে প্রকাশ্যেই মেসিকে জাতীয় দল থেকে বিদায় করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এই দাবি আরও অনেক আর্জেন্টাইনেরও। এমনকি দেশটির গণমাধ্যমগুলোও মেসি-ভরসা বাদ নতুন করে পথ চলার দাবিতে বড় বড় প্রতিবেদন ছাপাচ্ছে।

বাইরের এসব কোনো সমালোচনাই ধোপে টিকতো না যদি মেসি দলকে ফাইনালে তুলতে পারতেন এবং শিরোপা জেতাতে পারতেন। কিন্তু, মেসি তা পারেননি। যে না পারাটা অন্য সবার চেয়ে মেসির জন্যই বেশি কষ্টের। বারবারই তো চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যর্থ। আর কত?

তা ছাড়া তার বয়সও হয়ে গেছে ৩২। ২০২২ বিশ্বকাপে তার বয়স হয়ে যাবে ৩৫। ২০২৩ সালের কোপায় ৩৬। ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে থাকতে যা করতে পারলেন না, বুড়ো বয়সে তা করবেন, এমনটা হয়তো মেসি নিজেও এখন বিশ্বাস করতে পারছেন না। সব মিলে তরুণদের সুযোগ করে দিয়ে মেসি অবসরের চূড়ান্ত ঘোষণাটা দিতে যাচ্ছেন বলেই চারদিকে জোর গুঞ্জন।

প্রশ্ন হলো, মেসি সত্যিই কি ট্যাজিক হিরো হয়ে অবসর নিয়ে ফেলবেন? নাকি ২০২২ বিশ্বকাপটা জীবনের শেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে চালিয়ে যাবেন আরও ৩টি বছর?

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও