সেই মারাকানায় ফিরছেন মেসি

ঢাকা, ১৯ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সেই মারাকানায় ফিরছেন মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

সেই মারাকানায় ফিরছেন মেসি

২০১৪ সালের ১৩ জুলাই। দিনটাকে এখনো ভুলতে পারেননি লিওনেল মেসি। কোনো দিন ভুলতে পারবেন বলেও মনে হয় না। ভুলতে পারেননি এস্তাদিও মারাকানাকেও। সেদিন রিও ডি জেনিরোর বিশ্বখ্যাত এই মারাকানা স্টেডিয়ামেই যে বিশ্বকাপের শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসিদের।

ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি। ফাইনালে উঠেও মেসিকে মাঠ ছাড়তে হয় বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশা নিয়ে, মাথা নিচু করে।

এত বড় দুঃখ মেসি ভোলেন কী করে! সেই দুঃখ মুছে তো ফেলতে পারেনই-নি, বরং দিনে দিনে দুঃখটা আরও বড় হয়েছে। ওই মারাকানা ট্র্যাজেডি’র পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে দু’দুবার হার। ২০১৫ ও ২০১৬, দুবারই মেসির আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপার শিরোপা জিতে নেয় চিলি। এর পর ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলতেই স্বপ্ন।

বার বার স্বপ্নভঙ্গের হতাশাটা দলা পাকিয়ে এখন যেন হিমালয় পর্বত হয়ে বুকের মধ্যে চেপে বসে আছে। তবে হতাশার সেই কুণ্ডলিটা বুকের মধ্যে চাপা রেখেই মেসি আবার নতুন করে কোপার শিরোপা যুদ্ধে শামিল। আর কোপার শিরোপা যুদ্ধটা ৫ বছর পর আবার সেই মারাকানায় নিয়ে আসছে মেসিকে।

আগামীকাল দিবাগত রাত ১টায় কোপার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ভেনিজুয়েলা। ম্যাচটি হবে সেই মারাকানায়, ৫ বছর আগে যে মাঠ বিশ্বকাপ জিততে না পারার হতাশায় কাঁদিয়েছিল মেসিকে। মারাকানায় ফিরে মেসি নস্টালজিক হবেন, সেটিই স্বাভাবিক। নিশ্চিতভাবেই মেসির মনের পর্দায় ভেসে উঠছে, ২০১৪ সালের ১৩ জুলাইয়ের সেই বেদনা কাব্যের স্মৃতি। মনে পড়বে সেই এলোপাথারি ফ্রি কিক, বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়েও বল বাইরে মারার করুণ দৃশ্যের কথা।

মেসি চাইলে কষ্টের সেই স্মৃতিগুলোকে অনুপ্রেরণার শক্তিও বানাতে পারবেন। শুধু ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালই নয়, এবারের কোপার ফাইনাল ম্যাচটিও হবে মারাকানায়। ফলে মেসির সামনে সুযোগ আছে ৫ বছর আগের সেই দুঃস্মুতিকে চাপা দিয়ে মারাকানায় শিরোপা সাফল্যের স্মৃতি রচনার।

সেটি অবশ্য পরের বিষয়। আপাতত মেসিদের ভাবনায় শুধুই ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল। বার বার শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ায় মেসির নামের পাশে পড়ে গেছে বড় এক প্রশ্ন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসি কার্যকর নন, এমন অপবাদ মাথা পেতে নিতে হচ্ছে তাকে। চলমান কোপাতেও এই অপবাদ মেসির সঙ্গী।

আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বটে; তবে সেটা স্রেফ ভাগ্যের চাকায় চড়ে। কলম্বিয়ার কাছে ২-০ গোলে হারের পর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কোনো রকমে ড্র। সেটিও বিতর্কিত পেনাল্টি পেয়ে। দুই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ায় মেসিদের কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্নে পড়েছিল শঙ্কার দেয়াল।

সেই দেয়াল ভেদ করে আর্জেন্টিনা শেষ আটে এসেছে ঠিক, তবে মাঠের পারফরম্যান্স মোটেও আর্জেন্টিনার ভালো ছিল না। বিশেষ করে মেসি। তিন ম্যাচের একটিতেও নিজের বিশ্বসেরা রূপ দেখাতে পারেননি। যা দেখে তাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠে গেছে।

দাবিটা করেছেন আর্জেন্টিনারই ১৯৭৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য কেম্পেস। তিনি সরাসরিই বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, এখন সময় এসেছে মেসিকে ছাড়াই নতুন করে দল গড়ে তোলার চেষ্টা করার।’ কেম্পেসের এই দাবি নিশ্চিতভাবেই মেসির চাপটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে জ্বলে উঠাটা এখন তার দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।

মেসি পারবেন ৫ বছর আগের মারাকানার দুঃখের স্মৃতিকে শক্তিতে রূপ দিয়ে মারাকানায় জ্বলে উঠতে। তার জ্বলে উঠাটা আর্জেন্টিনা দলের জন্য বড় প্রয়োজনও। কারণ, প্রতিপক্ষ হিসেবে ভেনিজুয়েলা কঠিনই।

কতটা কঠিন, সেটি মেসিদের ভালো করেই জানা। এই তো গত মার্চে মাদ্রিদের প্রীতি ম্যাচে মেসির আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ভেনিজুয়েলা।

কেআর/আরপি

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও