চরম পরীক্ষায় মেসি পাসও না, ফেলও না!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

চরম পরীক্ষায় মেসি পাসও না, ফেলও না!

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

চরম পরীক্ষায় মেসি পাসও না, ফেলও না!

পাস এবং ফেল-এর মাঝমাঝি কি কিছু আছে? যদি থাকে, আজ বৃহস্পতিবার প্যারাগুয়ের বিপক্ষে চরম পরীক্ষায় লিওনেল মেসি সেটিই। পাস-ফেলের মাঝামাঝি। এক অর্থে তিনি পাস। আরেক অর্থে তিনি ফেল!

প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়া-বিপর্যয়ের পর আজ আর্জেন্টিনার দরকার ছিল জয়। কাঙ্খিত সেই জয় আর্জেন্টিনা পায়নি। উল্টো আরেকটি বিপর্যয়ের শঙ্কায় জেগেছিল। সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তে নোভায় প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল প্যরাগুয়েই। আর্জেন্টিনা সম্ভাব্য সেই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে ভিএআর বিতর্কে। মানে সৌভাগ্যের বিতর্কিত এক পেনাল্টি থেকে গোল করে হার বাঁচিয়েছে আর্জেন্টিনা। মাঠ ছেড়েছে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে।

ভিএআরের সহায়তায় আর্জেন্টিনার প্রাপ্ত পেনাল্টিটা বিতকির্ত, তাতে প্রশ্ন নেই। তবে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে আরেকটি হার থেকে বাঁচিয়েছেন মেসিই। এই অর্থে মেসি পাস। বার্সেলোনা তারকা পেনাল্টি থেকে গোলটা করেছেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়।

যদিও তার মুভমেন্ট ভালোভাবেই পড়তে পেরেছিলেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক হার্নান্দেজ। মেসি বাঁ-পায়ের শট নেন গোলরক্ষকের বাম দিয়ে। হার্নান্দেজ ঝাপিয়েও ছিলেন বাম দিকেই। তবে শটটির গতি জোরালো হওয়ায় হার্নান্দেজ রুখতে পারেননি।

একই সঙ্গে মেসি ফেল। কারণ, দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, ঠাণ্ডা মাথার ওই পেনাল্টি গোলটি বাদে মেসি পুরো ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারেননি। কলম্বিয়া ম্যাচের তুলনায় আজ কিছুটা স্বচ্ছন্দে ছিলেন বটে। তবে দুই দল মিলিয়ে মাঠের ২০ খেলোয়াড়ের ভিড়ে বিশ্বসেরা মেসিকে আলাদা করে চেনা যায়নি। মানে নিজেকে বিশ্বসেরা রূপে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বরং আর্জেন্টিনার এই আশা বাঁচিয়ে রাখা ড্রয়ের পেছনে মেসির চেয়েও বড় নায়ক গোলরক্ষক আরমানি। ১-১ সমতার পরও ম্যাচ জেতার সুযোগ পেয়েছিল প্যরাগুয়ে। পেয়েছিল পেনাল্টি থেকে গোল করার সহজ সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ নষ্ট করেছেন গঞ্জালেস।

তবে ৬১ মিনিটে পাওয়া এই পেনাল্টি মিসের জন্য গঞ্জালেস যতটা দায়ী, তার চেয়েও বেশি কৃতিত্ব আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আরমানির। বাম কর্নার ঘেষে নেওয়া গঞ্জালেসের নিচু শটটি আরমানি ঠেকিয়েছেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়। বাঁচিয়েছেন আর্জেন্টিনার হার। জিঁইয়ে রেখেছেন আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালের আশা।

আর্জেন্টিনার সেই আশাটা অবশ্য অনেক ‘যদি-কিন্তু’র ভেড়াজালে বন্দি। গ্রুপের শেষ ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে নিজেদের জিততে হবে। পাশাপাশি কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্যারাগুয়ের পরাজয় কামনা করতে হবে। কারণ, দুই ড্রয়ে প্যারাগুয়ের অর্জন ২ পয়েন্ট, আর্জেন্টিনার ১। আর্জেন্টিনার সমান ১ পয়েন্ট কাতারেরও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বি গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার ৩ নম্বরে কাতার। আর্জেন্টিনা সবার নিচে! প্যারাগুয়ে দুই নম্বরে। এক নম্বরে থাকা কলম্বিয়া তো টানা দুই জয়ে এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতই করে ফেলেছে। যারা দিনের অন্য ম্যাচে কাতারকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। কাতারের বিপক্ষে এই জয়ের মধ্য দিয়ে কলম্বিয়া নিশ্চিত করেছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও।

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। তৃতীয় হলেও শেষ আটের সুযোগ থাকবে। তবে সেক্ষেত্রে ‘সেরা তৃতীয়’র লড়াইয়ে নামতে হবে। কারণ, তিন গ্রুপ থেকে তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্য থেকে পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানে সেরা দুটি দল পাবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও