বিতর্কিত পেনাল্টিতে বেঁচে রইল আার্জেন্টিনার আশা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বিতর্কিত পেনাল্টিতে বেঁচে রইল আার্জেন্টিনার আশা

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

বিতর্কিত পেনাল্টিতে বেঁচে রইল আার্জেন্টিনার আশা

দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার বাঁচা-মরার সেই লড়াইয়ে কেউ পরিপূর্ণ বাঁচেওনি। কেউ মরেওনি। সালভাদরের অ্যারেনা ফন্তে নোভায় কোপা আমেরিকার ম্যাচটা ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। যে ড্রয়ে বেঁচে রইল আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার আশা।

আশা জিঁইয়ে রাখা এই ড্রয়ের জন্য আর্জেন্টাইনরা ধন্যবাদ জানাতে পারে ভাগ্যকে। সঙ্গে রেফারিকেও। প্রথমে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা যে ড্র’টা পেয়েছে সৌভাগ্যের বিতর্কিত পেনাল্টিতে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। নিউক্যাসলের ফরোয়ার্ড আলমিরন বল নিয়ে ক্ষিপ্রগতির এক দৌড়ে ঢুকে পড়েন আর্জেন্টিনার বিপদ সীমানায়। বক্সে ঢুকে তিনি বল বাড়ান সতীর্থ ফরোয়ার্ড সানচেজকে। সানচেজ বল জালে জড়োতে ভুল করেননি।

এই ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে আর্জেন্টিনা কিছুটা হলেও চাঙা হয়ে ফিরে। গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই গড়ে ফেলে তিনটি আক্রমণ। এর একটি আক্রমণেরই ফসল পেনাল্টি থেকে লিওনেল মেসির গোলটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলি হিসেবে নামা সার্জিও আগুয়েরো ডানপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সের ভেতরে। একবোরে সাইডলাইন থেকে তিনি বল পাস করেন ৬ মিটারের ছোট বক্সের ভেতরে থাকা মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে। মার্টিনেজ জোরালো শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু তার শট প্রতিহত হয় বারে। ফিরতি বল এসে পড়ে মেসির পায়ে। কিন্তু বার্সেলোনা তারকার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দেজ।

মেসি দ্রুতই বল কুড়িয়ে নিয়ে কর্নার নিতে যান। বল বসিয়ে কর্নার নেবেন তিনি, ঠিক তখনই খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেননি ঠিক কি কারণে খেলা থামিয়েছেন রেফারি! পরে জানা গেল রেফারি আসলে ভিএআর-এর সহায়তা নেওয়ার জন্য খেলা থামিয়েছেন।

ভিভিও কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে কন্ট্রাক করে তিনি শেষ পর্যন্ত ভিএআর নেন। ভিডিও দেখে তিনি যেঙ সিদ্ধান্ত দেন, তা শুনে প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আর্জেন্টাইনদের হতাশ মুখে ফুটে চকচকে হাসি। ভিডিও দেখে রেফারি যে দেন পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। তবে ভিএআরের সৌজন্যে দেওয়া সেই পেনাল্টি নিয়েও বিতর্ক আছে।

রিপ্লেতে দেখা গেছে মার্টিনেজের শট বারে প্রতিহত হওয়ার আগে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার পিরিসের হাতের স্পর্শ লাগে। তবে স্পষ্ট নয়। রেফারি চাইলে পেনাল্টির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলেও পারতেন। কিন্তু তিনি পেনাল্টিই দেন। কর্নারের পরিবর্তে পাওয়া সৌভাগ্যের পেনাল্টিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি।

এর মিনিট চারেক পর আবারও পেনাল্টি নাটক। এবার পেনাল্টি পায় প্যরাগুয়ে। এবারের পেনাল্টি নিয়ে কোনো বিতর্কও নেই। আর্জেন্টিনার বক্সের ভেতর লম্বা পাস পেয়ে যান প্যরাগুয়ের ফরোয়ার্ড গঞ্জালেস। বিপদ বুঝে নিকোলাস ওটামেন্টি পেছন থেকে সরাসরি লাথি মারেন গঞ্জালেসের পায়ে। বল স্পর্শ করার সুযোগই তার ছিল না। সুতরাং রেফারি সরাসরি বাজিয়ে দেন পেনাল্টির বাঁশি। পেনাল্টিটা এতোটাই স্পষ্ট ছিল যে, আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ করার বিন্দুমাত্র কারণও খুঁজে পায়নি!

যাই হোক, পুনরায় এগিয়ে যাওয়ার এই সুবর্ণ সুযোগটি নষ্ট করেছে প্যরাগুয়ে। নষ্ট করেছেন গঞ্জালেস নিজেই। অবশ্য পেনাল্টি মিস করায় গঞ্জালেস যতটা দোষী, তার চেয়েও বেশি কৃতিত্ব আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক আরমানির। তিনি গঞ্জালেসের মুভমেন্ট ভালোভাবেই পড়তে পেরেছিলেন। ফলে বাম দিকে ঝাপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিতে পেরেছেন বাম পোস্টের কোণা ঘেষে নেওয়া গঞ্জালেসের নিচু শটটি। শেষ পর্যন্ত আরমানির সেই সেভই আর্জেন্টিনাকে বাঁচিয়েছে নিশ্চিত পরাজয় থেকে। কারণ, ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি।

এই ড্র প্যরাগুয়ে-আর্জেন্টিনা, দুই দলেরই বেঁচে রইল আশা। তবে কাগজে-কলমের হিসেবে মেসির আর্জেন্টিনার তুলনায় প্যরাগুয়ের আশাটা তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল। কারণ, দুই ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। আর্জেন্টিনার ১। দিনের অন্য ম্যাচে কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ আট নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। টানা দুই জয়ে নিশ্চিত কলম্বিয়ার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও।

প্যারাগুয়ের চেয়ে পয়েন্টে পিছিয়ে থাকলেও এক অর্থে আর্জেন্টিনাই স্বস্তিতে বেশি। কারণ, গ্রুপের শেষ ম্যাচটিতে তাদের প্রতিপক্ষ পুঁচকে কাতার। অন্যদিকে প্যারাগুয়েকে নামতে হবে শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে, যারা এরই মধ্যে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও