ওজিলের বিয়েতে এরদোয়ান

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

ওজিলের বিয়েতে এরদোয়ান

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ০৮, ২০১৯

ওজিলের বিয়েতে এরদোয়ান

জার্মান জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল বিয়ে করেছেন। গতকাল শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে এ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, যাতে যোগ দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান।

সবারই জানা, ওজিলের আদর্শ মানুষ এরদোয়ান। সুতরাং বিয়ের অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি অনুমেয় ছিল।

৩০ বছর বয়সী ওজিল টার্কিশ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক। তবে তার পরিবার এখনো তুরস্কেই রয়েছেন।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানি খুবই বাজেভাবে বিদায় নেয়। এরপর এরদোয়ানের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানের ছবি ছড়িয়ে পড়লে জার্মান দলের হয়ে ওজিলের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বসফরাস প্রণালীর তীরে অভিজাত হোটেলে হয় ওজিলের বিয়ের অনুষ্ঠান। শুক্রবার বিকেলে সেখানে যোগ দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

পরে তার উপস্থিতিতে আর্সেনালের সাবেক এই মিড-ফিল্ডার বাগদত্তা তুরস্কের সাবেক মিস ওয়াল্ড অ্যামিনি গালসকে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ করেন।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতি ফটোশ্যুটে অংশ নেন। সেখানে তাদের পাশে হাসিমুখে দেখা যায় এরদোয়ান ও তার স্ত্রী এমিনে এরদোয়ানকে।

জার্মানির জাতীয় দলের হয়ে ওজিল ৯২টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ জয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন তিনি।

কিন্তু, গত বছরের জুলাইয়ে হঠাৎ করেই জার্মান ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদের’ অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান ওজিল।

এরপর চলতি বছরের মার্চে ওজিল তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে তার আদর্শ মানুষ বলে ঘোষণা দেন। আর শুক্রবার সেই এরদোয়ানকে পাশে রেখেই জীবনসঙ্গীকে আপন করে নিলেন।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের চিফ অব স্টাফ হেলগে ব্রাউন বিয়ের অনুষ্ঠানে এরদোয়ানকে নিমন্ত্রণ করার সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবার এরদোয়ানের সঙ্গে ওজিলকে দেখে জার্মানিরা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, এরপরও তার এমন পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হয়নি।’

২০১৭ সালে অ্যামিনি গালসের সঙ্গে ওজিলের প্রথম পরিচয়। এরপর তারা জুনে আংটি বদল করেন। আর গতকাল শুক্রবার বিয়ে করলেন।

বিশ্বকাপে চরম ভরাডুবির পর সতীর্থরাই ওজিলের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরই মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে ছবি ছড়িয়ে পড়লে দেশটিতে তাকে নিয়ে ব্যাপক বর্ণবাদী সমালোচনা হয়।

সমালোচনার মুখে ওজিল জার্মান দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘জিতলে আমাকে জার্মানি বলে বরণ করা হয়। আর হারলে অভিবাসী বলা হয়।’

এরদোয়ানও ওজিলকে ভালবাসেন। এজন্যই নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালে সময় বের করে তার বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। আগামী ২৩ জুন ইস্তাম্বুলে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচন হবে। গত মার্চে মেয়র নির্বাচনে প্রধান বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টি স্বল্প ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিল। রী অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় এই ভোট হতে যাচ্ছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানে ওজিল নববধূকে নিয়ে প্যারেড করেন। তখন ঢাক বাজানো ও বাজি পোড়ানো হয়। এ সময় গানের তালে তালে এই দম্পতি নাচও করেন।

ওজিল চলতি সপ্তাহে শিশুদের প্রতি তার দাতব্য অবস্থান প্রকাশের পর বিয়ের অনুষ্ঠানেও আরেক দফা উদারতা দেখান। বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে তিনি কোনো ধরনের উপহার না আনতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানে নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উপহার দেয়ার দীর্ঘ প্রচলন রয়েছে তুরস্কে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া বিবৃতিতে ওজিল এবং গালস অনুরোধ করেন, যারা তাদের উপহার দেয়ার চিন্তা করেছেন, তারা সত্যিই যেন সমাজে যাদের প্রয়োজন তাদের তা দেন।

বিবৃতিতে ওজিল বলেন, ‘পেশাদার ফুটবলার হিসেবে আমি ভাগ্যবান এবং সমাজে যে অবস্থানে এসেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। আমন্ত্রিত যারা স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চান, তাদের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তা ‘বিগসু’ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখছি।’

তিনি বলেন, ‘অ্যামিনি গালস এবং আমি ১ হাজার শিশুর অস্ত্রোপচারের খরচ বহন করব। এতে কেউ যুক্ত হতে চাইলে, খুশিই হব। তাতে বিশ্বের আরও শিশুর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় ওজিল অ্যামিনি গালসের সঙ্গে একটি ছবি দিয়েছেন, যেখানে তাদের হাতে দাতব্য প্রকল্পের ‘বিগসু’ রয়েছে।

২০১৪ সালে ওজিল এই ‘বিগসু’ প্রকল্প চালু করেন। বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের চিকিৎসার জন্য তার এই কাজে জার্মান ও সুইডেনের চিকিৎসকরা যুক্ত আছেন।

আইএম

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও