১৪ বছর পর ইউরোপ সেরা লিভারপুল

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

১৪ বছর পর ইউরোপ সেরা লিভারপুল

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

১৪ বছর পর ইউরোপ সেরা লিভারপুল

এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সব রোমাঞ্চ, আকর্ষণ, উত্তেজনাকর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের গল্প-সবই যেন কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনালেই শেষ! গতকাল রোববার রাতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানোতে অল-ইংলিশ ফাইনালটি যেন তাই হলো বিবর্ণ, ম্যাড়ম্যাড়ে, প্রাণহীন। আকর্ষণহীন সেই ফাইনালে টটেনহামকে ২-০ গোলে হারিয়ে ষষ্ঠ বারের মতো ইউরোপ সেরা লিভারপুল।

রিয়াল মাদ্রিদকে সরিয়ে লিভারপুল ইউরোপা সেরার মুকুট পরলো দীর্ঘ ১৪ বছর পর। অলরেডরা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছিল সেই ২০০৫ সালে, নাটকীয় এক ম্যাচে এসি মিলানকে হারিয়ে। এর পর অবশ্য আর একবারই ফাইনাল খেলেছে লিভারপুল। গত মৌসুমে।

কিয়েভের সেই ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায় লিভারপুল। তবে এবার আর শিরোপা হাতছাড়া করার হতাশায় পুড়তে হয়নি। মোহামেদ সালাহ ও ডিভক অরিগির গোলে ঠিকই শিরোপা উৎসব করেছে লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে উৎসব এখনো চলছে। চলবে আরও কয়েকটা দিন।

মুহূর্মুহু আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ-এসবের কিছুই ঘটেনি কালকের অল-ইংল্যান্ড ফাইনালে। তবে নাটক যে একেবারেই হয়নি, তা নয়। বরং ম্যাচের প্রথম মিনিটেই মঞ্চস্থ হয় নাটক। মোসা সিসোকোর হ্যান্ডবলের সুবাদে ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় লিভারপুল। তা থেকে গোল করে লিভারপুলকে প্রথম মিনিটেই এগিয়ে দেন সালাহ।

গত মৌসুমে রিয়ালের বিপক্ষে ফাইনালে ম্যাচের শুরুর দিকেই চোট পান সালাহ। সার্জিও রামোসের সঙ্গে সংঘর্ষে পাওয়া সেই চোট নিয়ে সালাহ মাঠ ছাড়েন কাঁদতে কাঁদতে। ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদে সেই সালাহ সেই আক্ষেপ-আফসোস মুছে ফেলেন ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর পরই। দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিশরীয় ফরোয়ার্ড গড়েন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোলের রেকর্ডও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের রেকর্ডটি এসি মিলানের সাবেক কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনির দখলে। ২০০৫ সালে এই লিভারপুলের বিপক্ষে ৫০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল করেন তিনি।

শুরুতে সালাহর এই পেনাল্টি গোলের পর পুরো ম্যাচে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনাই ঘটেনি! প্রথম বারের মতো ফাইনালে উঠা টটেনহাম গোল পরিশোধের তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা লিভারপুলও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তেমন পায়নি।

চোট শঙ্কা দূর করে ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেন খেললেও তিনি দলকে উদ্ধার করতে পারেননি। ফলে লিভারপুলের ১-০ গোলের জয়কেই মনে হচ্ছিল ম্যাচের নিয়তি। ঠিক তখনই বিবর্ণতার খোলস ছেড়ে ঝলসে উঠেন ডিভক অরিগি। বার্সেলোনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের সেই রূপকথার গল্পের নায়ক তিনি। তার কাঁধে চেপেই প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ফাইনালে উঠে লিভারপুল।

সেই অরিগি কি ফাইনালে একেবারেই বিবর্ণ থাকতে পারেন! অদৃশ্যে বসে থাকা ভাগ্যদেবীও হয়তো তেমনটা চাচ্ছিলেন না। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে তাই দুর্দান্ত এক গোল করে নিজের অবস্থান জানান দিলেন লিভারপুলের বেলজিয়ান তারকা। সঙ্গে ম্যাচটাও শেষ করে দেন। নিশ্চিত করেন লিভারপুলের শিরোপা।

কেআর/আরপি

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও