টানা এক সপ্তাহ কাঁদবেন তিনি!

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

টানা এক সপ্তাহ কাঁদবেন তিনি!

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

টানা এক সপ্তাহ কাঁদবেন তিনি!

গত ৮ মে একবার কেঁদেছেন তিনি। ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সেই হাউমাউ কান্না যেন মরিসিও পচেত্তিনোকে নেশা ধরিয়ে দিয়েছে! সেই নেশার পাল্লায় পড়ে টটেনহামের আর্জেন্টাইন কোচ কাঁদতে চান আবারও। তাও এই-দুই ঘণ্টা বা এক-দুই দিন নয়, পচেত্তিনো কাঁদতে চান টানা এক সপ্তাহ ধরে!

বুঝতেই পারছেন, কষ্টের নয়। পচেত্তিনো সখ করে আরও একবার কাঁদতে চান সুখের কান্না। আসলে সুখের কান্না এমনই। একবার পেলে, বারবার সেই স্বাদ নিতে মন চায়। আর সুখের হোক বা দুঃখের, বিশেষ মুহূর্তে কান্না করাটা তো পচেত্তিনোর চিরকালীন অভ্যাসই!

বিশেষ গান শুনলেই যার চোখ বেয়ে বান নামে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত এলে, আবেগে-উচ্ছ্বাসে তিনি কেঁদে ফেলবেন, এটা তো অনুমিতই। নিজের আবেগটা জানা বলেই পচেত্তিনো বলছেন,  লিভারপুলকে হারিয়ে টটেনহাম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিততে পারলে হয়তো টানা এক সপ্তা্হ কাঁদবেন তিনি।

সেমিফাইনালে ডাচ ক্লাব আয়াক্সকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে টটেনহামে। ফাইনালে উঠার গল্পটাও অবিশ্বাস্য। সেমিতে নিজেদের ঘরের মাঠের প্রথম লেগে ১-০ গোলে হেরে যায় টটেনহাম। গত ৮ মে আয়াক্সের মাঠে গিয়ে ফিরতি লেগেও প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। মানে দ্বিতীয় লেগের মাঝ বিরতি পর্ন্তও পচেত্তিনোর টটেনহাম ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিল।

খাদের সেই কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে টটেনহাম ফাইনালে উঠবে, এটা বিশ্বাস করাটাই ছিল কঠিন। কিন্তু আয়াক্সের মাঠে সেই রূপকথারই জন্ম দিয়েছে পচেত্তিনোর শিষ্যরা। দ্বিতীয়ার্ধে ৩ গোল করে পচেত্তিনোর দল লিখে ফেলে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প। টটেনহামের যে রূপকথার গল্পের নায়ক লুকাস মৌরা। ব্রাজিলিয়ান তরুণ অবিশ্বাস্য এক হ্যাটট্রিক করে দলকে এনে দেন অবিশ্বাস্য এক জয়।

জয়টা এতোটাই মধুর এবং আনন্দের ছিল যে, কোচ পচেত্তিনো নিজের আবেগটা ধরে রাখতে পারেননি। রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর পরপরই কেঁদেছেন তিনি। সেদিনের সেই আনন্দ অনুভূতি এখনো পচেত্তিনোর চোখে জল নামায়। তাই বলছেন, শিরোপা জিততে পারলে তার কান্নাটা হয়তো থামবেই না। কিন্তু চোখে যতই অশ্রু বন্যা নামুক, পচেত্তিনো সেই কান্নাটা কাঁদতে চান! কাঁদার জন্য রীতিমতো পণই করে ফেলেছেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো, কান্নার পণ করতে গিয়ে নিজের কান্নার অভ্যাসের মজার একটা গল্পও শুনিয়েছেন পচেত্তিনো, ‘আমার মা আমাকে বলত, ‘তুমি একটা ইলোরোনা’। (যার অর্থ, যে প্রায়ই কাঁদে।) অনেক সময় এমনটাও ঘটে, দেখা গেল আমি গাড়ি চালিয়ে বাসায় যাচ্ছি (ট্রেনিং সেন্টার থেকে ২০ মিনিটের দূরত্ব), যাওয়ার সময় এমন কিছু গান শুনি যেগুলো আমার জীবনে ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। আর তখনই আমি কাঁদতে শুরু করি।’

পচেত্তিনো যোগ করেন, ‘এরপর যখন বাসায় যাই, আমার স্ত্রী জানতে চায়, ‘কি হয়েছে?’ আমি বলি, ‘কিছু গান আমাকে ৩০ বছর আগের আর্জেন্টিনার সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সে বলে, ‘তুমি কি পাগল হয়ে গেছো!’

‘কি সিনেমা মনে হচ্ছে? সত্যিই, কিছু হলেই আমি কাঁদি। আমি ঠিক জানি না, তবে এমনও হতে পারে, যদি আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারি, আমি হয়তো এক সপ্তাহ ধরে কাঁদব। তবে হ্যাঁ, আমরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা জিততে চাই।’

ভাগ্য ভালো হলে ৪৭ বছর বয়সী পচেত্তিনোর সেই সখের ও সুথের কান্নাটা দেখতে পারবেন আগামী ২ জুন। সেদিনই যে স্পেনের মাদ্রিদ, অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা ম্যাট্রোপলিতানোতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল। যাতে মুখোমুখি হবে দুই ইংলিশ ক্লাব লিবারপুল ও টটেনহাম।

কেআর

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও