পারলেন না মেসি, পারল না বার্সেলোনা

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

পারলেন না মেসি, পারল না বার্সেলোনা

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৩ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

পারলেন না মেসি, পারল না বার্সেলোনা

লিওনেল মেসির এই ছবিটাই বলে দিচ্ছে সব। আরও একবার শিরোপা স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল মেসি এবং তার দল বার্সেলোনা। কোপা ডেল রে’তে বার্সেলোনার সাফল্যের গল্পটা অবিশ্বাস্য। রেকর্ড ৩০ বারের শিরোপা জয়ী বার্সা সর্বশেষ ৪ বারেরই চ্যাম্পিয়ন। এবারও যখন টানা ষষ্ঠ বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালের টিকিট কাটে, মনে হচ্ছিল টানা পঞ্চম বারের মতো হয়তো শিরোপা উৎসবটা করতে যাচ্ছে বার্সাই। কিন্তু গতকাল সেভিয়ার মাঠে সেই বিশ্বাসটাকে বাস্তবে মেলাতে পারেননি মেসিরা। উল্টো বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে ক্লাবের শতবর্ষপূর্তিটাকে শিরোপার রঙে রাঙিয়েছে ভ্যালেন্সিয়া।

পরিসংখ্যান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, দলীয় শক্তিমত্তা-সবদিক থেকেই এগিয়ে বার্সেলোনা। কালকের ফাইনালে বার্সেলোনাকে ফেভারিটের আসনে বসিয়েছিল আরও একটি কারণ। সেই কারণের নাম লিওনেল মেসি। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকা ফেভারিট হিসাবটা মেলাতে পারেননি। বরং এই মৌসুমে লিগের দুই দলের দুই সাক্ষাত যে বার্তাটি দিয়েছিল, কাল কোপার ফাইনালে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে!

সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে লিগে দুই বারের সাক্ষাতে একবারও ফেভারিট বার্সেলোনাকে জিততে দেয়নি ভ্যালেন্সিয়া। নিজেদের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার বার্সার মাঠ ন্যু-ক্যাম্পে গিয়ে ২-২ গোলের হতাশায় পোড়ায় বার্সাকে। সেই দুই সাক্ষাতের ফল কোপা ডেল রের ফাইনাল নিয়ে একটা বার্তাই দেয়, এক মেসির উপর ভরসা করে বার্সেলোনার পক্ষে শিরোপা সম্ভব নাও হতে পারে!

কারণে লিগে দুই সাক্ষাতে বার্সেলোনার ৩টি গোলই করেন মেসি। কিন্তু একবারও দলকে জেতাতে পারেননি। কাল সেভিয়ার মাঠেও সেটিই হলো। এক মেসি বার্সাকে জেতাতে সক্ষম হননি। কালও দলের একমাত্র গোলটি করেছেন তিনিই। কিন্তু সেটা শিরোপা উৎসবের জন্য যথেষ্ট হয়নি। বরং ৭৩ মিনিটে করা তার গোলটি সান্ত্বনাই জুগিয়েছে কেবল। তার আগেই যে ২ গোল করে জয়ের পথটা পরিস্কার করে ফেলে ভ্যালেন্সিয়া।

২০১৯ সালটা ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার শতবর্ষ পূর্তির বছর। আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে মানে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ভ্যালেন্সিয়া। শতর্বষপূর্তির বছরটিতে ফাইনাল। উপলক্ষটি শিরোপা জেতার জন্য ভ্যালেন্সিয়ার খেলোয়াড়দের যে বাড়তি উজ্জীবিত করেছিল, সেটি বোঝা যায় কাল ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই।

শতবর্ষপূর্তিটাকে শিরোপায় রাঙাতে শুরু থেকেই বার্সার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকে ভ্যালেন্সিয়া। বার্সেলোনার চিত্রটা ঠিক তার উল্টো। কদিন আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয় বার্সা। সেদিন অ্যানফিল্ডে মেসিরা ছিলেন হতাশার প্রতিমূর্তি। বার্সার খেলা ছিল ছন্নছাড়া। কাল তার চেয়েও বিবর্ণ মনে হয়েছে বার্সাকে।

গায়ে ফেভারিটের যে তকমা জড়িয়ে ছিল, মাঠের খেলায় তার প্রমাণ মেলেনি। বরং ফেভারিট তকমাটাকে হাস্যকর রূপ দিয়েছে! ভ্যালেন্সিয়ার এই শিরোপা উৎসবের মূল নায়ক দুজন। গামেইরো ও রদ্রিগো মরেনো। ম্যাচের ২২ মিনিটেই ভ্যালেন্সিয়াকে প্রথম এগিয়ে দেন গামেইরো। ৩৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রদ্রিগো। ভ্যালেন্সিয়ার শিরোপা জয়টা যেন নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই!

কারণ, বার্সার ছন্নহীন খেলাই বলে দিচ্ছিল ২ গোলের ঋণ পরিশোধের সামর্থ তাদের নেই! ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর বার্সা বড় আশা করেছিল, অন্তত ঘরোয়া ‘ডাবল’ জয়ের উৎসব করার। ম্যাচ বিরতির সময় সেই স্বপ্নটাই হয়তো তাড়না জোগায় বার্সাকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তাই কিছুটা উজ্জীবিত হয়ে খেলতে থাকা বার্সা। ৭৩ মিনিটে একটি গোল করে বার্সেলোনাকে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখান মেসি। কিন্তু স্বপ্ন দেখানো পর্ন্তই। স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও