শেষ ম্যাচেও লজ্জার হার রিয়ালের

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

শেষ ম্যাচেও লজ্জার হার রিয়ালের

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ, মে ২০, ২০১৯

শেষ ম্যাচেও লজ্জার হার রিয়ালের

যদি এমন কোনো মুছনি থাকত, যা দিয়ে এক ঘষাতেই স্মৃতির পাতা থেকে লজ্জার স্মৃতি মুছে ফেলা যেত, নিশ্চিতভাবেই ২০১৮-১৯ মৌসুমটি মুছে ফেলত রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পে ২০১৮-১৯ মৌসুমটি যে বড্ড বেমানান, লজ্জার। মৌসুম শেষের তিন মাসেই আগেই মৌসুম শেষ হয়ে গেছে রিয়ালের। এক সপ্তাহে নিজেদের ঘরের মাঠে টানা তিন হারে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই তিনটি শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যায়। ঐতিহাসিক ব্যর্থতার মৌসুমটির শেষটাও রিয়ালের হলো লজ্জার হার দিয়ে।

গতকাল নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মৌসুমের শেষ ম্যাচে জিনেদিন জিদানের রিয়াল ০-২ গোলে হেরেছে রিয়াল বেটিসের কাছে। সর্বশেষ ৪ ম্যাচের মধ্যে এটা রিয়ালের তৃতীয় হার! সব মিলে মৌসুমে লিগে ১২তম হার। সর্বশেষ কবে রিয়াল এক মৌসুমে লা লিগায় এত বেশি ম্যাচ হেরেছে, সেটি রীতিমতো গবেষণার বিষয়।

ঘরের মাঠের এই হারের মধ্য দিয়ে মাত্র ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করল রিয়াল। সর্বশেষ কবে রিয়াল এত কম পয়েন্ট পেয়ে মৌসুম শেষ করেছে, সেটিও রীতিমতো গবেষণার বিষয়। ব্যর্থতার চিত্র এখানেই শেষ নয়। লিগ শিরোপা জয়ী বার্সেলোনার চেয়ে ১৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে লিগ শেষ করল রিয়াল। একুশ শতকে কখনোই শিরোপাজয়ী দলের চেয়ে এত বেশি পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে রিয়ালকে মৌসুম শেষ করতে হয়নি।

আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় রিয়াল। কোচ জিদান তাই খুব করে চেয়েছিলেন মৌসুমের শেষটা অন্তত জয় দিয়ে করতে। সেই লক্ষ্যেই দলে ৬টি পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি! মানে রিয়াল সোসিয়েদাদের ম্যাচের দল থেকে ৬ জনকে পরিবর্তন করে কাল একাদশ সাজান জিদান।

কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। উল্টো ঘরের মাঠে লজ্জাই পেতে হয়েছে। মৌসুমের শেষ ম্যাচ। ধারণা করা হচ্ছে, রিয়ালের জার্সি গায়ে গ্যারেথ বেল-এরও এটাই ছিল শেষ ম্যাচ! কিন্তু এই শেষ ম্যাচেও বেলকে মাঠে নামাননি জিদান। শুরুর একাদশে তো নয়ই, এমনকি বদলি হিসেবেও বেলকে খেলাননি জিদান। তার পরিবর্তে করিম বেনজেমার সঙ্গে আক্রমণভাগে নামিয়ে দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও ব্রাহিম দিয়াজকে।

এদের কাঁধে চেপে রিয়াল শুরুটা করেছিল আশাজাগানিয়াই। কিন্তু রিয়াল বেটিসের রক্ষণ দেয়াল ভেঙে গোল আদায় করতে পারেননি বেনজেমা, ভিনিসিয়াসরা। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের রক্ষণ দেয়ালই ভেঙে দুদুটো গোল আদায় করে নেয় সফরকারী বেটিস। অতিথিদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন লরেন, ৬২ মিনিটে। এরপর ৭৫ মিনিটে শেষের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন রিয়ালেরই সাবেক খেলোয়াড় হেসে রদ্রিগেজ।

বেলের মতো রিয়ালের জার্সি গায়ে এটা শেষ ম্যাচ ছিল কেইলর নাভাসেরও। কোস্টারিকান গোলরক্ষককে অবশ্য শুরুর একাদশেই নামান জিদান। কিন্তু রিয়ালের হয়ে টানা তিন মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়া নাভাসের শেষটা হলো লজ্জার হার দিয়েই। তবে রিয়ালের সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে উষ্ণ বিদায়ী সম্ভাবনাই জানিয়েছে তাকে।

কেআর/আরপি

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও