প্রশ্নের মুখে জিদানের ৬ সিদ্ধান্ত!

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

প্রশ্নের মুখে জিদানের ৬ সিদ্ধান্ত!

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:১৭ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৯

প্রশ্নের মুখে জিদানের ৬ সিদ্ধান্ত!

দল পরিচালনায় সর্বময় ক্ষমতা নিশ্চিত করেই দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন জিনেদিন জিদান।

ফরাসি মহানায়ক দায়িত্ব নেয়ার আগেই শর্ত দিয়েছিলেন, তাকে সর্বময় ক্ষমতা দিতে হবে। দলে কাকে রাখবেন, নতুন কাকে কিনবেন, কোন ম্যাচে কাকে খেলাবেন- সব সিদ্ধান্তই তিনি একা নেবেন। অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

এই শর্ত মেনেই তাকে ফিরিয়ে এনেছে রিয়াল। কিন্তু, আড়াই মাস না যেতেই কোচ জিদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠে গেছে প্রশ্ন।

না, রিয়ালের কর্তারা নন। জিদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন আসলে রিয়ালের সমর্থকেরা! গত মার্চে যখন চরম বিপর্যস্ত রিয়ালের কোচের দায়িত্বে ফেরেন জিদান, সমর্থকেরা হাফ ছেড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আশায় বুক বাঁধে, জিদান যখন দায়িত্ব নিয়েছেন, রিয়ালে আবার সুদিন ফিরবে। মাঠে আবার রাজত্ব করবে রিয়াল।

জিদানকে নিয়ে রিয়ালের কর্তা-সমর্থকদের সেই আস্থা-বিশ্বাস এখনো একই রকমই আছে। তবে কোচ জিদানের বিশেষ ৬টি সিদ্ধান্ত সমর্থকদের মনক্ষুণ্ন করেছে। সমর্থকদের মনকষ্টের কারণ হওয়া এই ৬টি প্রশ্নই একক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে কোচ জিদানের একাদশ নির্বাচন নিয়ে।

আরও একটু স্পষ্ট করে বললে খেলোয়াড়দের কাউকে বেশি, কাউকে কম গুরুত্ব দেয়া নিয়ে! গত আড়াই মাসে রিয়ালের ম্যাচগুলো স্পষ্ট করেই বলে দিচ্ছে মাঠে খেলানোর দিক থেকে সের্গিও রেগুইলিয়ন, মার্কোস লরেন্তে, ড্যানি ক্যাবালোস, ইসকো, ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের একটু কমই গুরুত্ব দিয়েছেন জিদান! এদের খেলাননি বললেই চলে।

এমনকি এদের কাউকে কাউকে পাকাভাবে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন জিদান। মানে বিক্রি করে দিতে চাইছেন।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠেছে কেইলর নাভাসের পরিবর্তে নিজের ছেলে লুকা জিদানকে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ঘোষণা করায়!

কোচ হিসেবে প্রথম মেয়াদে জিদানের এক নম্বর গোলরক্ষক ছিলেন কেইলর নাভাস। ইতিহাসের প্রথম ক্লাব হিসেবে রিয়ালের টানা তিন মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ার পেছনে এই কোস্টারিকার গোলরক্ষকের ভূমিকা ছিল অনেক।

কিন্তু, রিয়াল কর্তাদের কাছে সেই নাভাসের প্রয়োজন এখন ফুরিয়ে গেছে! গত মৌসুমেই নাভাসকে দুইয়ে ‍ছুড়ে ফেলে থিবো কুর্তোইসকে কিনে এনেছে রিয়াল। ক্লাব কর্তাদের পছন্দ মতো জুলিয়েন লোপেতেগুই ও সান্তিয়াগো সোলারি কুর্তোইসকেই এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে লিগে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলিয়েছেন। নাভাসকে ডেকেছেন শুধু কোপা ডেল রের কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে!

মার্চে জিদান ফিরে অবশ্য নাভাসাকে লিগেও খেলিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে রিয়াল যেহেতু জিদান আসার আগেই ছিটকে পড়ে। তাই তিনি নাভাসকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলাতে পারেননি। কিন্তু, সেই জিদানই ক’দিন আগে ঘোষণা করেছেন, আগামী মৌসুমে রিয়ালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক হবেন লুকা জিদান। মানে ক্লাব কর্তাদের মতো তিনিও এখন নাভাসকে বিক্রি করে দেয়ার পক্ষে!

তা নাভাসকে বিক্রি করাতেও সমস্যা নেই। সমর্থকদের ক্ষোভটা লুকাকে দ্বিতীয় গোলরক্ষক ঘোষণা করায়। রিয়াল সমর্থকদের দাবি, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে লুকা জিদান কোনোভাবেই বিশ্বসেরা রিয়ালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক হওয়ার যোগ্য নন!

কোচ জিদান সর্বময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেই স্বজনপ্রীতি করে নিজের ছেলেকে দ্বিতীয় গোলরক্ষক পদে উন্নতি করছেন!

জিদানের আগে সান্তিয়াগো সোলারি রেগুইলিয়ন, ড্যানি ক্যাবালোস, ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। অফর্মের মার্সেলোর জায়গায় তরুণ রেগুইলিয়নকে গড়ে তোলার চেষ্টা চালান তিনি। ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক ভিনিসিয়াসকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন সোলারি।

ভিনিসিয়াস কোচের আস্থার প্রতিদানও মাঠে। খুব কম সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেন রিয়ালের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। কিন্তু, জিদানে পুনরায় দায়িত্বে আসার পর ব্রাজিলিয়ান তরুণকে খেলাননি বললেই চলে।

শুধু জিদান নয়, ইসকোর সমস্যাটা আগের দুই কোচ লোগেতেগুই এবং সোলারির সঙ্গেও ছিল। জিদানও স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে বিক্রি করে দেয়ারই পক্ষে। কিন্তু, সমর্থকেরা চান, ইসকো রিয়ালেই থাকুক। সব মিলে কোচ হিসেবে জিদানের ওপর অগাধ আস্থা-বিশ্বাস থাকলেও তার এই ৬টি সিদ্ধান্ত এখন প্রশ্নের মুখে। জিদান কিভাবে সমর্থকদের মনে এই প্রশ্ন দূর করেন, সেটিই এখন দেখার।

কেআর/আইএম

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও