হোটেলবয় সেজে রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি!

ঢাকা, ১২ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

হোটেলবয় সেজে রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৪ অপরাহ্ণ, মে ১৮, ২০১৯

হোটেলবয় সেজে রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি!

খুব বেশি দিন নয়। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মাত্র একটা মৌসুমই বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনাল্ডো রোজারিও। কিন্তু সেই একটা মৌসুমের জন্য ব্রাজিলের সাবেক তারকাকে দলে পেতে কি বিচিত্র কাণ্ডটাই না করেছিলেন বার্সেলোনার সাবেক সভাপতি হুয়ান গ্যাসপার্ত। আরেকটু হলে রোনাল্ডোকে দলে টানার আশা ভেস্তেই যেতে যাচ্ছিল। উপায়ান্তর না দেখে হুয়ান গ্যাসপার্ত রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তিটা করেন হোটেলবয় অর্থাৎ ওয়েটার সেজে!

এতদিন পর ইউটিউভ চ্যানেল আইডলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্যাসপার্ত নিজেই বলেছেন নিজের সেই অদ্ভূত কাণ্ডের কথা। ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দোহোপেন থেকে বার্সেলোনা রোনাল্ডোকে তৎকালীন রেকর্ড ১৯.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে, ১৯৯৬ সালের আগস্টে। চুক্তির সময় গ্যাসপার্ত ছিলেন বার্সেলোনার অন্যতম পরিচালক। সভাপতি নির্বাচিত হন তারও বছর চার পর, ২০০০ সালে।

যাই হোক, এই রেকর্ড চুক্তিটা করতে তৎকালীন পরিচালক গ্যাসপার্তকে সাজতে হয়েছিল হোটেলবয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে রোনাল্ডো বার্সেলোনার পাশাপাশি ইতালিয়ান ক্লাব ই্ন্টারমিলানেরও নজর কাড়েন। বার্সা-ইন্টার, দুই দলই ভবিষ্যতের সুপারস্টার রোনাল্ডোকে কেনার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সেই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনাই জয়ী হয়। সেটা অবশ্য গ্যাসপার্তের ওই অদ্ভূত কাণ্ডের সুবাদে।

প্রথমে কথা-বার্তা চালালেও কি কারণে যেন শেষে পিএসভি আইন্দোহোপেন রোনাল্ডোকে বার্সেলোনার কাছে বিক্রি করতে চাচ্ছিল না। আল্টিমেটাম দিয়েছিল নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে খেলোয়াড়ের (রোনাল্ডোর) স্বাক্ষর নিতে না পারলে চুক্তির প্রক্রিয়াটা বাতিল করা হবে। কিন্তু বার্সেলোনা পিএসভির আল্টিমেটামের সময়টাতে রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তিটা করতে পারেনি। নির্দিষ্ট ওই দিনটিতে রোনাল্ডো বার্সেলোনাতে যান-ই নি।

কিন্তু বার্সেলোনার এক কথা, যে করেই হোক, রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তি করতেই হবে। কিন্তু উপায়? বার্সেলোনা একটা চালাকির আশ্রয় নেয়। সিদ্ধান্ত নেয় রোনাল্ডোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করে চুক্তিটা সেরে ফেলার।

কিন্তু স্বল্প সময়ে রোনাল্ডোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আলোচনা চালানোরও সুযোগ ছিল না। কারণ, ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে রোনাল্ডো তখন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। বার্সেলোনার তৎকালীন সভাপতি হোসে লুইস নানেস তাই দ্রুত চুক্তিটা সেরে ফেলার দায়িত্ব দিয়ে গ্যাসপার্তকে পাঠিয়ে দেন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে।

যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্যাসপার্তকে কী করতে হয়েছে, শুনুন তার মুখেই, ‘রোনাল্ডোর সঙ্গে চুক্তিটা আসলে ছিল সিনেমার মতো। আমি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই বটে। কিন্তু রোনাল্ডোর সঙ্গে যোগাযোগ করাটা মোটেই সহজ ছিল না। তার হোটেল রুমের দরজার সামনে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তাদেরকে কাউকেই রুমে ঢুকতে না দেওয়ার নির্দেশ ছিল। দুই মিটার উচ্চতার সেই নিরাপত্তাকর্মীদের হারানোও আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

এর পরের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমি হোটেলের এক ওয়েটারের কাছে তার বো টাই এবং জ্যাকেটটা ধার চাই। সে আমাকে একটা কোকা-কোলার ট্রেও দেয়। আমি ওয়েটার সেজে ট্রে হাতে তার রুমের কাছে যাই। ব্রাজিলের পুরো দলটি ততক্ষণে লিফটে। সেখানেও দুইজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন। তাদেরকে বলি, আমি রোনাল্ডোর জন্য পানীয় নিয়ে এসেছি। এর পর আমি রোনাল্ডোকে আমার পরিচয় দিই। সে তার এজেন্টকে বলে যে সে ধরা খেয়েছে! আমি রোনাল্ডোকে এই হুমকিও দিই যে, যদি সে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর না করে তাহলে আমরা অভিযোগ করব। শেষ পর্যন্ত সে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়। এবং আমরা তার রুমে গিয়ে চুক্তিটা চূড়ান্ত করে ফেলি।’

কিন্তু এত নাটক করে যাকে রেকর্ড দামে কেনা, সেই রোনাল্ডো এক মৌসুম পরই বার্সেলোনা ছেড়ে পাড়ি জমান ইন্টার মিলানে। ইতালিয়ান ক্লাবটি থেকে ২০০২ সালে যোগ দেন বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদে। এবং এখনো তিনি নিজেকে একজন মাদ্রিদিস্তা (রিয়ালের সমর্থক) দাবি করেন।

কেআর/আরপি

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও