এই তেতো স্বাদ আগে কখনোই পেতে হয়নি মেসিকে!

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

এই তেতো স্বাদ আগে কখনোই পেতে হয়নি মেসিকে!

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

এই তেতো স্বাদ আগে কখনোই পেতে হয়নি মেসিকে!

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের কাছে ৪-০ গোলের হার বার্সেলোনার জন্য শুধুই একটি হার নয়। অ্যানফিল্ডের ওই হারে মৃত্যু হয়েছে মৌসুমে জুড়ে দেখে আসা একটি স্বপ্নের। এই স্বপ্নভঙ্গের বেদনার কষ্টটা যেন অন্য সবার চেয়ে লিওনেল মেসিরই বেশি। ওই হারের মধ্যদিয়ে মেসিকে যে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হজম করতে হয়েছে বার্সেলোনার সমর্থকদের দুয়ো!

বিশ্বকাপ এবং কোপা আমেরিকায় বারবার ব্যর্থতার কারণে দেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দুয়ো, সমালোচনা অনেকবারই শুনতে হয়েছে তাকে। সবই মেসি হজম করেছেন নিরবে। তিলে তিলে দ্বগ্ধ হয়েছেন ভেতরের ছাই চাপা কষ্টের আগুনে।

তবে দেশবাসীর দেওয়া সেই কষ্টের পরও মেসির মনে একটা বড় সান্ত্বনা ছিল, বার্সেলোনার সমর্থকদের দুয়ো, সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ শুনতে হয়নি কখনোই। দুহাত ভরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ক্যারিয়ার জুড়েই পেয়ে এসেছেন বার্সা সমর্থকদের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সম্মান। দেবতার আসনে বসিয়ে মেসিকে পুজোই করে এসেছেন বার্সার সমর্থকরা।

লিভারপুলের কাছে হারটি সেই মেসিকে বার্সা সমর্থকদের দেবতার আসন সরিয়ে বানিয়ে দিল দুয়োর পাত্র! গত মঙ্গলবার লজ্জাজনক ওই হারের পর লিভারপুল বিমানবন্দরে বার্সেলোনার দুজন সমর্থক দুয়ো দেওয়ার পাশাপাশি মেসির কড়া সমালোচনাও করেন। নিজ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো সেই দুয়ো যেন মেসির হৃদয়ে শেল হয়ে বিঁধেছে। মাথা নিচু করে নিরবে ঢুকে যান ভেতরে।

মেসির এই দুয়ো শাস্তির মধ্যে অন্য রকম একটা কাকতালীয় ঘটনা আছে। আগের সপ্তাহে, ন্যু-ক্যাম্পে সেমি ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দেয় বার্সা। সেদিন মেসি করেন জোড়া গোল। তো ওই ম্যাচ চলাকালেই ব্রাজিলিয়ান তারকা ফিলিপে কুতিনহোকে দুয়ো দেন বার্সার সমর্থকেরা।

মেসি মাঠে দাঁড়িয়েই তার প্রতিবাদ করেন। মুখে হাত গুজে, শাহাদাত আঙুল উঁচিয়ে সমর্থকদের কাছে আকুল আকুতি জানান, কুনিতহোকে দুয়ো না দেওয়ার জন। আহ্বান জানান, ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য। পরে ম্যাচ শেষে মুখেও কুতিনহোকে দুয়ো দেওয়ার সমালোচনা করেন মেসি। এক সপ্তাহ পর সেই মেসিই বার্সার সমর্থকদের দুয়োর শিকার প্রথমবার!

যাই হোক, বার্সা সমর্থকদের দুয়ো মেসিকে কতটা কষ্ট দিয়েছে, আহত করেছে, সেটি বোঝা গেল গত রোববার, গেটাফের বিপক্ষে লিগ ম্যাচে। আগের ম্যাচেই লিগ শিরোপা বার্সা রোববার ন্যু-ক্যাম্পে ২-০ গোলে জিতেছে গেটাফের বিপক্ষে।

দল জিতলে, এমন প্রতিটা ম্যাচেই ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। অধিনায়ক মেসিও এই কাজটা করেন পরম আনন্দের সঙ্গে। কিন্তু রোববার গেটাফের বিপক্ষে জয়ের পর হাত নেড়ে অভিবাদন, শুভেচ্ছা বিনিময় দূরের কথা, মেসি মুখ তুলে গ্যালারির দিকে তাকানইনি। করেননি জয় উদযাপনও।

জয়ের পরও অধিনায়ক মেসি মাঠ ছাড়েন হতাশ বদনে, একাকী। তার সেই অভিব্যক্তি স্পষ্ট করেই বলে দিচ্ছিল, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে মানসিকভাবে বেশি কষ্ট পেয়েছেন মেসি! শুধু সমর্থকদের দুয়োর কারণে নয়। ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ফিরতি লেগে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্নভঙঙ্গের বিষয়টি মানতে পারেননি মেসিও। গত বছরও এ রকম একটা হারই গুড়িয়ে দিয়েছিল বার্সার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্ন। নিজেদের মাঠের প্রথম লেগে ৪-১ গোলে জেতার পরও এএস রোমার মাঠে গিয়ে ফিরতি লেগে হেরে যায় ৩-০ গোলে।

সেই ম্যাচেও মেসি হয়েছিলেন নিজের ছায়া। দলের প্রয়োজনে জ্বলে উঠতে পারেননি। ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে। দলের সর্বনাশ চেয়ে চেয়ে দেখেছেন। করতে পারেননি কিছুই। আরও একবার লজ্জাজনক হারে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ায় এমনিতেই মেসি প্রচণ্ড হতাশ। তার সেই হতাশা, কষ্টে বাড়তি যন্ত্রণার আগুন দিয়েছে বার্সা সমর্থকদের দুয়ো, সমালোচনা।

কেআর/