গোলে সেরা, গতিতেও যৌথ সেরা মেসি

ঢাকা, রবিবার, ১৯ মে ২০১৯ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

গোলে সেরা, গতিতেও যৌথ সেরা মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৮ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০১৯

গোলে সেরা, গতিতেও যৌথ সেরা মেসি

নিজেদের ঘরের মাঠের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জেতার পরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়েছে বার্সেলোনা।

গত মঙ্গলবার ফিরতি লেগে লিভারপুলের মাঠে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে ৪-০ গোলে। বার্সার এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের পেছনে অধিনায়ক লিওনেল মেসির দায়টাও বড়।

লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে দলে অতি প্রয়োজনের সময় কিছুই করতে পারেননি এই আর্জেন্টাইন। হয়ে ছিলেন হতাশার প্রতিমূর্তি।

তবে দলকে ফাইনালে তুলতে না পারলেও এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রেকর্ড-পরিসংখ্যানের পাতায় মেসিরই জয়জয়কার!

এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন তিনি, ১২টি। এই রেকর্ডটি যে মেসির দখলেই থাকছে সেটিও নিশ্চিত। কারণ, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল যে মাত্র ৬টি করে। সেই ৬টি করে গোল যারা করেছেন, সেই সার্জিও আগুয়েরো, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, মুসা মারেগা, দুসান টাডিচরাও মেসির মতো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছেন আগেই।

যে দুটি দল টিকে আছে, মানে ফাইনালে উঠেছে, সেই লিভারপুল ও টটেনহামের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫টি করে গোল করেছেন দু’জনে- হ্যারি কেন ও লুকাস মৌরা। এই ‍দু’জনই টটেনহামের।

যাই হোক, মেসিকে ছুঁতে হলে ফাইনালে এই ‍দু’জনকে করতে হবে অন্ততটি ৭টি করে গোল। যা এক কথায় অসম্ভব। সুতরাং ২০১৮-১৯ মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারটা মেসিই পাচ্ছেন।

এই ১২টি গোল করার পথে এবারের আসরে প্রতিপক্ষের পোস্টে সবচেয়ে বেশি শটও নিয়েছেন মেসিই, ৩৯টি। এমনকি বল পায়ে গতির ঝড় তোলার ক্ষেত্রেও তিনিই সেরা। এখানে অবশ্য মেসির একজন অংশীদার আছেন। বল পায়ে গতির ঝড় তোলায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও মেসির সমানে সমান।

মেসির কল্যাণে তার দল বার্সেলোনাও সবচেয়ে বেশি শট নিয়েছে প্রতিপক্ষের জাল লক্ষ্য করে। ১২ ম্যাচে মোট ১৯৯টি শট নিয়েছে বার্সা। এর মধ্যে লক্ষ্যে শট ছিল ৭৭টি। ঘটনাবহুল এবারের আসরে এ পর্যন্ত সব দল মিলে ১২৪ ম্যাচে ২৬৪টি গোল করেছে। মানে ম্যাচ প্রতি গোল হয়েছে ২.৯৪টি করে। একটি করে গোল হয়েছে প্রতি ৩২ মিনিটে।

এই ২৬৪টি গোলের মধ্যে ২২টি গোল হয়েছে নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরোনোর পর ইনজুরি সময়ে। ম্যাচের অন্তিত মুহূর্তের এই ২২ গোলের সর্বশেষটি হয়েছে গত বুধবার সর্বশেষ ম্যাচে।

আয়াক্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে টটেনহামের ৩-২ গোলের জয়ে শেষ গোলটি লুকাস মৌরা করেছেন ইনজুরি সময়ের সাড়ে ৫ মিনিটে। ম্যাচ শেষের মাত্র ৩০ সেকেণ্ড আগে। আর লুকাস মৌরার সেই গোলটিই আয়াক্সের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে টটেনহামকে তুলে দিয়েছে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে।

এবারের আসরে মাঠে সবচেয়ে বেশি সময় খেলেছেন আয়াক্সের দুসান টাডিচ। দলের হয়ে ১২টি ম্যাচেই পুরো সময় মাঠে কাটিয়েছেন। মানে তিনি খেলেছেন ১২ ম্যাচে পুরো ১০৮০ মিনিটই। সবচেয়ে বেশি ১৪০ কিলোমিটার দৌড়েছেনও তিনিই।

৩০ বছর বয়সী এই ডাচ মিডফিল্ডারের নাম রয়েছে আরও একটি পরিসংখ্যানে। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬টি গোল করা দুসান টাডিচ সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টও করেছেন, ৫টি। তবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রে তার আরও ৩ জন সঙ্গী আছেন।

বার্সেলোনার লুইস সুয়ারেজ ও জর্ডি আলবা এবং ম্যানচেস্টার সিটির তরুণ জার্মান উইঙ্গার লেরয় শেন, এই তিনজনেও অ্যাসিস্ট করেছেন সমান ৫টি করে।

উপরের এই পরিসংখ্যান বলছে, মেসির মতো দুসান টাডিচও এবারের আসরে দুর্দান্ত খেলেছেন। কাকতালীয়ভাবে, মেসির মতো তিনিও সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ট্র্যাজেডির শিকার। দু’জনের দলেরই শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে।

কেআর/আইএম