লিভারপুলের রূপকথার অন্যতম নায়ক বলবয়ও!

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

লিভারপুলের রূপকথার অন্যতম নায়ক বলবয়ও!

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৩ অপরাহ্ণ, মে ১০, ২০১৯

লিভারপুলের রূপকথার অন্যতম নায়ক বলবয়ও!

মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লিভারপুল।

বার্সেলোনার মাঠ থেকে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরে আসার পরও নিজেদের ঘরের মাঠে ৪-০ গোলে জিতে উঠে গেছে ফাইনালে।

স্কোরকার্ড বলছে, মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ইমেলে উইয়িনালডাম ও ডিভক অরিগি। এই দু’জনেই করেছেন দুটি করে গোল।

তবে লিভারপুলের ফুটবল বিশ্লেষক, বোদ্ধারা গবেষণা করে দেখেছে, লিভারপুলের এই রূপকথার জয়ে বড় অবদান রেখেছেন মাঠের বাইরের একজনও। না, কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ নন, লিভারপুলের এই মাঠের বাইরের নায়ক একজন বলবয়। নাম তার ওকলে ক্যানোনিয়ের।

প্রিয় দল লিভারপুলকে জেতাতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, লিভারপুলের ফাইনাল নিশ্চিত করা ম্যাচের চতুর্থ গোলটির পেছনে বলবয় ওকলে ক্যানোনিয়েরের রয়েছে বড় অবদান। বল কুড়ানোর কাজের মধ্যদিয়েই প্রিয় দলকে গোলটি করতে সাহায্য করেছেন তিনি!

প্রতিটা ম্যাচেই একদল কিশোর বলবয়ের গুরু দায়িত্বে থাকেন। যেদিন যে ক্লাবের মাঠে খেলা হয়, এই বলবয়রা মূলত সেই দলেরই সমর্থক হন। তো বল কুড়ানোর গুরুদায়িত্বে থাকা এই বলবয়রা সব সময়ই বল কুড়ানো কাজের মাধ্যমে প্রিয় দলকে সাধ্যমতো সাহায্য করে থাকে।

মাঠের লড়াইয়ে প্রিয় দলটি পিছিয়ে থাকলে, মানে গোল হজম করে বসলে তারা দ্রুত বল কুড়িয়ে এনে দেয়। যাতে সময় ক্ষেপণ না হয়। আবার প্রিয় দল এগিয়ে থাকলে বল কুড়াতে সময় ক্ষেপণ করে। কিন্তু কখনোই তাদের এই অবদানের কথা সেভাবে আলোতে আসে না।

কিন্তু, মঙ্গলবার ঠিক এই কাজটাই করে নায়ক বনে গেছেন ওকলে। কারণ, তার তড়িৎ বল ছুড়ে দেয়ার কারণেই কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই গোলটা করতে পেরেছে লিভারপুল।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে কর্নার পায় লিভারপুল। ম্যাচে তখন লিভারপুল ৩-০ গোলে এগিয়ে। মানে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর সমানে সমানে, ৩-৩। যার অর্থ, ফাইনালে যেতে হলে লিভারপুলকে করতে হবে আরও একটি গোল।

সেই প্রয়োজনীয় গোলটি পেতেই লিভারপুলকে বিশেষ সাহায্য করেন ওকলে। আগে থেকেই একটা বল হাতে নিয়ে বসেছিলেন ওকলে।

তো ৭৯ মিনিটে বল মাঠের সীমানা পেরোতেই নিজের হাতে থাকা বলটা কর্নারের কাছে দাঁড়ানো ট্রেন্ড আলেক্সান্ডার আরনল্ডের কাছে ছুড়ে মারেন ওকলে। ওকলে বলটা এত দ্রুত দেয় যে, বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা তখনো কর্নার মোকাবিলার প্রস্তুতিই নেয়নি!

ট্রেন্ড আলেক্সান্ডার আরনল্ড বল কর্নার স্পটে বসিয়ে রেখে অন্য এক সতীর্থকে কিক নেয়ার আহ্বান করে সরেও আসতে যান! কিন্তু, মুহূর্তেই তিনি লক্ষ্য করেন, বার্সেলোনার খেলোয়াড়েরা তখনো কর্নার মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত নয়। ওদিকে ডিভক অরিগিও বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাঁড়ানো।

ব্যস, ট্রেন্ড আলেক্সান্ডার আরনল্ড মত পাল্টে দ্রুতই শট নেন। তার আচমকা নিচু শটটি ঠিক অরিগির পায়ে গিয়ে পড়ে। এমন সহজ সুযোগ কি তিনি মিস করতে পারেন!

আচমকা এই শট নেয়ায় ট্রেন্ড আলেক্সান্ডার আরনল্ডের অবদানও কম নয়। তবে লিভারপুলের ফুটবল বিশ্লেষকরা মূল অবদানটা দেখছেন বলবয় ওকলেরই। সে যদি এত দ্রুত বলটা না দিত, আরনল্ড কি আচমকা ওই শটটা নিতে পারতেন!

শুধু গোলে অবদান রেখেই নয়, ওকলে ক্যামেরার দৃষ্টি করেছেন ম্যাচ শেষে লিওনেল মেসিকে অশোভন অঙ্গভঙ্গিতে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেও। রেফারি ম্যাচ শেষের লম্বা বাঁশি বাজানোর মেসি অধিনায়কত্বের আর্মব্র্যান্ডটা বাহু থেকে খুলতে খুলতে মাঠ ছাড়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করেন। পেছন থেকে দৌড়ে তার সামনে এসে দুই আঙুল উঁচিয়ে মেসিকে কি যেন বলেন ওকলে।

আঙুল দেখিয়ে ওকলে মেসিকে ঠিক কি বলেছেন, আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে তার উদ্দেশ্য যে ছিল ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসিকে ব্যঙ্গ করা, সেটি তার অঙ্গভঙ্গিতেই স্পষ্ট।

কেআর/আইএম

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও