আয়াক্সের ৩০ সেকেণ্ডের মহা আক্ষেপ

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

আয়াক্সের ৩০ সেকেণ্ডের মহা আক্ষেপ

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ০৯, ২০১৯

আয়াক্সের ৩০ সেকেণ্ডের মহা আক্ষেপ

এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একের পর এক রূপকথার জন্ম দিয়েছে পুঁচকে আয়াক্স। রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের মতো দৈত্যদের হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল সেমি ফাইনালে। টটেনহামের সঙ্গে সেমির যুদ্ধেও এক পর্যায়ে ডাচ ক্লাবটি এগিয়ে ছিল ৩-০ গোলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। আয়াক্সের সুখের রূপকথার গল্পের শেষটা হলো ৩-২ গোলের অতি কষ্টের হারে। আর এই হারের সঙ্গে মিশে থাকল আয়াক্সের ৩০ সেকেণ্ডের মহা আক্ষেপ।

ম্যাচ শেষের ৩০ সেকেণ্ড আগে ওই গোলটা না খেলে তো ফাইনালে উঠে যেত আয়াক্সই। ফলে আয়াক্সের স্বপ্নভঙ্গের বেদনার সঙ্গে মিশে থাকল ৩০ সেকেণ্ডের আক্ষেপও।

টটেনহামের মাঠ থেকে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতে আসা আয়াক্স কাল নিজেদের মাঠেও প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। মানে বিরতির সময়ও আয়াক্স এগিয়ে ছিল ৩-০ গোলে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে টটেনহামের রূপকথার গল্পের শুরু। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে যে গল্পটা লিখেছেন লুকাস মৌরা। ব্রাজিলিয়ান তরুণ অবিশ্বাস্য এক হ্যাটট্রিক করে টটেনহামকে এনে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য এক জয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টটেনহামকে তুলে দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে।

৫৫ থেকে ৫৯, এই ৪ মিনিটের মধ্যেই ২ গোল করে ম্যাচটাকে ২-২ বানিয়ে ফেলেন লুকাস। কিন্তু টটেনহাম রূপকথার জয়সূচক গোলটি আর পাচ্ছিল না কিছুতেই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর ইনজুরি সময়ের সাড়ে ৫ মিনিট পর্যন্তও ম্যাচের স্কোর ২-২। মানে ম্যাচের তখন আর ৩০ সেকেণ্ড বাকি। এই অবস্থায় ম্যাচ শেষ হলে স্বপ্নের ফাইনালে উঠে যেত আয়াক্স। আশা জাগিয়েও টটেনহামকে ফিরতে হতো স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে।

সবাই তখন রেফারির লম্বা বাঁশির অপেক্ষায়। গ্যালারিভর্তি আয়াক্সের সমর্থকেরা ফাইনালে ওঠার আনন্দ-উদযাপনের প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। ঠিক তখনই কপাল পুড়ে আয়াক্সের। আয়াক্সকে পোড়ান সেই লুকাস মৌরা। বক্সের ভেতর আয়াক্সের ডিফেন্ডারদের বেষ্টনির মধ্যে দাঁড়িয়ে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে বল আয়াক্সের জালে জড়িয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।

বল জালে জড়াতে দেখেই হতাশায়, স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় মাটিতে শুয়ে পড়েন আয়াক্সের খেলোয়াড়রা। লুকাসকে ঘিরে টটেনহামের খেলোয়াড়রা মেতে উঠে বাধভাঙা উল্লাসে। গোলটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই পক্ষ বুঝে যায় ম্যাচের পরিণতি! টটেনহামের খেলোয়াড়রা বেশ খানিকটা সময় নিয়ে উদযাপন করাতেই কিনা রেফারি পরে মিনিট খানেক অতিরিক্ত সময় ম্যাচ চালিয়েছেন। কিন্তু অল্প সেই সময়ে আয়াক্স কাঙ্খিত গোল আর পায়নি।

এক সময় আয়াক্সেরও ইউরোপে দোর্দণ্ড দাপট ছিল। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত ইয়োহান ক্রুইফদের সৌজন্যে ইউরোপিয়ান (বর্তমান উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ) একচ্ছত্র রাজত্ব করেছে আয়াক্স। তবে ডাচ ক্লাবটির সেই সুবর্ণ দিন এখন আর নেই। গত ২২ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনালেই উঠতে পারেনি তারা।

সেই দলটিই তারুণ্য শক্তিতে ভর করে এবার একের পর এক চমক দেখিয়েছে। দুর্দান্তভাবে গ্রুপপর্ব শেষ করার পর শেষ ষোল ও কোয়ার্টার ফাইনালে লিখেছে রূপকথার গল্প। হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসকে। কিন্তু দীর্ঘ ৯ মাসের সেই কঠোর পরিশ্রম ৩০ সেকেণ্ডের জন্য মাটি।

এক-দুই দিন নয়, আয়াক্সকে এই ৩০ সেকেণ্ডের আক্ষেপ পোড়াবে অনেক অনেক দিন।

কেআর/

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও