চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই আর্জেন্টাইনের ‘বিপরীত’ কান্না

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বিষয় :

ফুটবল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

লিওনেল মেসি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই আর্জেন্টাইনের ‘বিপরীত’ কান্না

খলিলুর রহমান ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, মে ০৯, ২০১৯

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই আর্জেন্টাইনের ‘বিপরীত’ কান্না

লিওনেল মেসি ও মরিসিও পচেত্তিনো। দুজনেই আর্জেন্টাইন। দুজনই ফুটবলের মানুষ। ৩১ বছর বয়সী মেসি এখনো মাঠে রাজত্ব করে চলেছেন। ৪৭ বছর বয়সী পচেত্তিনো খেলোয়াড়ী জীবনের পাট চুকিয়ে বনে গেছেন কোচ। কাকতালীয়ভাবে এই দুই আর্জেন্টাইনকেই কাঁদাল এবারের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। আরও একটু স্পষ্ট করে বলা যায়, মেসি-পচেত্তিনো, দুজনকেই কাঁদাল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ! কী কাকতাল!

তবে একদিন আগে-পরে কাঁদা দুজনের সেই কান্নার মধ্যে তফাত আছে। আকাশ-পাতাল পার্থক্য। মঙ্গলবার রাতে মেসি কেঁদেছেন গোপনে। বুক ফাটা কষ্টে, স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল হয়ে। বুধবার রাতে পচেত্তিনো কাঁদলেন প্রকাশ্যে। অতি আনন্দে, আবেগে। অসম্ভবকে সম্ভব করার অবিশ্বাস্য ভালো লাগায়। বুকের ভেতর লালন করা স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দেওয়ায়। প্রথমবারের মতো টটেনহামকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তোলার ইতিহাস গড়ার আনন্দে।

প্রথম লেগে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও মঙ্গলবার দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের মাঠে গিয়ে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে মেসির বার্সেলোনা। প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে ফাইনালে পা রেখেছে লিভারপুল। মেসিদের কাঁদতে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায়।

না, মেসিরা প্রকাশ্যে কাঁদেননি। কেঁদেছেন গোপনে, ড্রেসিংরুমে গিয়ে। অবশ্য মেসির চোখে কান্নার ভাবটা ম্যাচ শেষেই চলে এসেছিল। মঙ্গলবার রাতে রেফারি যখন লম্বা বাঁশিতে সেমি ফাইনাল দ্বৈরথের যবনিকা টানলেন, অ্যানফিল্ডের সুবজ ঘাসের ওপর মেসি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকেন বেশ খানিকটা সময়।

তবে বুকের ভেতরের কষ্টটা যখন দলা পাকিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইল কান্না হয়ে, মেসি লুকানোর চেষ্টা করলেন। প্রথমে নিজ হাতে মুখ চেপে ধরলেন। পরে মাথাটা নিচু করে মাটির দিকে ঝুঁকে। তবে মাঠে সেই চেষ্টায় সফল হলেও ড্রেসিংরুমে গিয়ে মেসি আর কান্না লুকাতে পারননি। গণমাধ্যমের খবর, ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পর অঝোরে কেঁদেছেন মেসি।

গণমাধ্যম সূত্রে স্বদেশি মেসির সেই গোপন কান্নার কথা পচেত্তিনোর কানেও যায়। তবে পচেত্তিনো হয়তো ভাবতেও পারেননি, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি ফাইনাল তাকেও কাঁদানোর গোপন আয়োজন করে বসে আছে। জয়ের পরিকল্পনা, স্বপ্ন অবশ্যই ছিল। তবে সেই জয়টা যে এতটা অবিশ্বাস্যভাবে হবে, সেটা হয়তো ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেননি।

প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-০ গোলের হার। তারপরও ফাইনালের স্বপ্ন নিয়েই কাল আয়াক্সের মাঠে গিয়েছিল পচেত্তিনোর টটেনহাম। পরিকল্পনা ছিল শুরুতেই গোল আদায় করে আয়াক্সকে চাপে ফেলার। কিন্তু তাদের স্বপ্নরাজ্য ধূসর করে নিজেদের মাঠে আয়াক্স প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় ২-০ গোলে।

ফলে বিরতির সময় পচেত্তিনোর টটেনহাম ৩-০ গোলে পিছিয়ে। তখন হয়তো পচেত্তিনো ধরেই নিয়েছিলেন হবে না! কারণ, ম্যাচের তখন বাকি মাত্র ৪৫ মিনিট। ৪৫ মিনিটে ৩ গোলের ঋণ শুধিয়ে ফাইনালে ওঠা, এটা অসম্ভব!

কিন্তু ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদে সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে টটেনহাম। আসলে সম্ভব করেছেন লুকাস মৌরা। ব্রাজিলিয়ান তরুণ অবিশ্বাস্য ম্যাজিক দেখিয়ে করেছেন হ্যাটট্রিক। তার সেই অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিকেই আয়াক্সের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে অল-ইংল্যান্ড ফাইনালে টটেনহাম।

ম্যাচের ইনজুরি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে লুকাস যখন টটেনহামকে ফাইনালে তোলা গোলটা করলেন, ডাগ আউটে পচেত্তিনোর যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না! তবে মুহূর্তেই যখন সত্য আবিষ্কার করতে পারলেন, আর্জেন্টাইন কোচ ভেতরের অতি আবেগটা আর ধরে রাখতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। তার চোখ দিয়ে গড়াল জল।

সেই জলের স্রোত আরও প্রবল হলো পচেত্তিনো যখন নিজ দলের খেলোয়াড়দের বুকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করলেন। এমনকি টটেনহামের আর্জেন্টাইন কোচ আনন্দ-কান্না কাঁদলেন সংবাদ সম্মেলনেও। কান্নাভেজা কণ্ঠে বললেন, ‘এমন জয় ব্যাখ্যা করা কঠিন। এটা আবেগি, এটা অবিশ্বাস্য, বিস্ময়কর। ফুটবল তোমাকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য, দুই লেগ মিলিয়ে আয়াক্স-টটেনহাম দ্বৈরথের স্কোর ৩-৩। টটেনাহম ফাইনালে উঠেছে অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকায়

কেআর/