৭৭১২ কোটি টাকায়ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হলো না!

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

৭৭১২ কোটি টাকায়ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হলো না!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

৭৭১২ কোটি টাকায়ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা হলো না!

পেপ গার্দিওলা

কত বিলিয়ন ডলার খরচ করলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিততে পারবেন পেপ গার্দিওলা? এটা এখন সত্যিকার অর্থেই হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন। ৭৭১২ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার ২৬ টাকা খরচ করেও যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার মুখ দেখতে পারলেন না গার্দিওলা!

২০১৩ থেকে ২০১৯, গত এই ৬ বছরে যথাক্রমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটির কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন গার্দিওলা। দুটি ক্লাবেই ডাগ আউটে কাটালেন সমান ৩ বছর করে। এই ৬ বছরে বায়ার্ন ও ম্যানসিটি মিলিয়ে নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে তিনি খরচ করেছেন ৮১২ মিলিয়ন ইউরো! বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ৭৭১২ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার ২৬ টাকা!

বায়ার্ন ও ম্যানসিটি, দুটি ক্লাবই গার্দিওলাকে কোচ হিসেবে ভাড়া করেছে মূলত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপাকে পাখির চোখ করেই। বার্সেলোনাকে মাত্র ৪ বছরেই দু-দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতান তিনি। ন্যু-ক্যাম্পে তার এই সাফল্যে উজ্জীবিত হয়েই তাকে কোচ করে বায়ার্ন-ম্যানসিটি।

কিন্তু দুটি ক্লাবের একটিরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার আশা পূরণ করতে পারলেন না গার্দিওলা। বায়ার্নে ৩ বছরে পারেননি। ম্যানসিটিকেও গত ৩ বছরে পারলেন না।

বায়ার্ন-ম্যানসিটি যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে কেন্দ্র করেই গার্দিওলাকে কোচ করে, সেটি খরচের বিষয়টিতেই স্পষ্ট। গার্দিওলাকে কোচ করার আগেও জার্মান বুন্দেসলিগায় একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল বায়ার্নের। তারপরও জার্মান জায়ান্টরা গার্দিওলাকে ভাড়া করে একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা স্বপ্ন পূরণের নিয়েই।

শুধু কোচ নিয়োগ করা নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার জন্য দলকে যথেষ্ট শক্তিশালী করতে গার্দিওলাকে ইচ্ছেমতো টাকা খরচের অধিকারও দেয় বায়ার্ন!

তিনি যাওয়ার আগেও তারকায় ঠাঁসা ছিল বায়ার্ন। তারপরও বায়ার্নে তিন বছরে গার্দিওলা নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে খরচ করেন মোট ২০৪.৫ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু ফল জিরো। গার্দিওলার বায়ার্ন তিন বছরই বিদায় নেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনাল থেকে।

টানা তিন বছরেও স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় বায়ার্নে তার আর থাকা হয়নি। একই স্বপ্ন নতুন করে সাজিয়ে ২০১৬ সালে তিনি যোগ দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। ম্যানসিটির আমিরাতি মালিক শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান তো টাকার ভাণ্ডারই খুলে দেন গার্দিওলার জন্য। ব্যাপারটা ঠিক ‘যত টাকা লাগে ঢালো, বিনিময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এনে দাও’— এর মতো!

অধিকার পেয়ে গার্দিওলা টাকা ঢেলেছেনও উদারহস্তে। ম্যানসিটিতে তিন বছরেই নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে খরচ করেছেন ৬০৭.৫ মিলিয়ন ইউরো।

দায়িত্বের প্রথম বছরেই খরচ করেন ২১৩ মিলিয়ন ইউরো। দলকে চ্যাম্পিয়ন্স শিরোপা জয়ের মতো শক্তিশালী করে তুলতে কিনেন জন স্টোনস, ইকাই গন্ডোগান, গ্যাব্রিয়েল জেসুসদের মতো তারকাদের। কিন্তু ফল সেই জিরো। কিলিয়ান এমবাপে নামের এক বিস্ময়বালকের ঝলকে শেষ ষোল থেকেই বিদায় নেয় গার্দিওলার ম্যানসিটি। হেরে যায় মোনাকোর কাছে। বর্তমানে পিএসজিতে নাম লেখানো এমবাপে তখন মোনাকোতে ছিলেন।

এই ব্যর্থতা ঢাকতে পরের মৌসুমে খরচের হাতটা আরও বেশি প্রসারিত করেন গার্দিওলা। দ্বিতীয় মৌসুমে নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের পেছনে ঢালেন ৩১৭.৫ মিলিয়ন ইউরো। এবার কেনেন বার্নার্ডো সিলভা, এদেরসন, কাইল ওয়াকার, বেঞ্জামিন মেন্ডি, অ্যামেরিক লাপোর্তে ও দানিলোর মতো তারকাদের। কিন্তু এবার সেই একই পরিণতি। স্বদেশি ক্লাব লিভারপুলের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় গার্দিওলার ম্যানসিটি।

ব্যর্থতায় মুখ না লুকিয়ে গত গ্রীষ্মেই দলের শক্তি আরও বেশি বৃদ্ধি করায় মনোযোগী হন গার্দিওলা। এবার খরচ করেছেন ৭৭ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু ফল সেই হতাশাই। এবারও আরেক স্বদেশি ক্লাব টটেনহামের কাছে হেরে সেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায়।

কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করেও বারবার ব্যর্থতার পর তাই ওই প্রশ্নটাই উড়ছে ইউরোপে, ঠিক কত টাকা খরচ করলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ধরতে পারবেন গার্দিওলা?

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও