ম্যানসিটির হৃদয় খুঁড়ে ইতিহাস লিখল টটেনহাম

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ম্যানসিটির হৃদয় খুঁড়ে ইতিহাস লিখল টটেনহাম

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

ম্যানসিটির হৃদয় খুঁড়ে ইতিহাস লিখল টটেনহাম

না, এবারেও হলো না। পিএসজির মতো ম্যানচেস্টার সিটির দু’হাতে ঢালা বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগও ভেস্তে গেল। যে টুর্নামেন্টকে পাখির চোখ করে দু’হাতে টাকা ঢেলে দলে তারকার মেলা বসানো, সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আরও একবার দুঃখই উপহার দিল ম্যান সিটিকে।

দুঃখ বলছেন কি, কাল নিজেদের মাঠে রীতিমতো ম্যানসিটির হৃদয়ে রক্ত ঝরেছে। পাগলাটে এক ম্যাচে সিটির হৃদয় খুঁড়ে ইতিহাস লিখেছে টটেনহাম হটস্পার। ১৩৬ বছরের ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টটেনহাম পা রেখেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে।

সত্যিকার অর্থেই গতকাল বুধবার রাতে ম্যানসিটির মাঠ ইতিহাদে পাগলাটে, খেপাটে এক ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহানাটকীয় সেই ম্যাচে সিটিই ৪-৩ গোলে জয়ী। কিন্তু প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতে থাকায় শেষ হাসিটা হেসেছে টটেনহাম। ফলে জিতেও ম্যান সিটিকে কাঁদতে হলো স্বপ্নের ভঙের বেদনায়।

দুই লেগ মিলিয়েও ফল ৪-৪। টটেনহামের ভাগ্য খুলেছে অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে। মুহূর্মুহু গোল হয়েছে। ম্যাচে তার চেয়েও বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা রিভিউ) বিতর্ক। মাঠে রেফারিদের ভুল বা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এড়াতেই ভিএআরের আবিষ্কার এবং ব্যবহার। কিন্তু কাল এই ভিএআর-ই বিতর্কের ঝড় তুলল বেশি! এই ভিএআরের কারণেই কপাল পুড়েছে ম্যান সিটির! ভাগ্য বদলে দিয়েছে টটেনহামের।

একটি নয়, ম্যাচে দুটি ভিএআরের সিদ্ধান্ত টটেনহামের পক্ষে গেছে। তার একটি থেকেই সেমি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা গোলটা পেয়েছে টটেনহাম। রিপ্লেতে পরিস্কার, গোলে শট নেওয়ার আগে বল টটেনহামের স্প্যানিশ ফুটবলার ফার্নান্দো লরেন্তের হাতে লেগেছিল। এটা পরিস্কার হ্যান্ডবল ছিল। কিন্তু রিভিউ দেখেও রেফারি বাজান গোলের বাঁশি!

৭৩ মিনিটের এই বিতর্কিত ঘটনার আগে ম্যাচে ৪-২ গোলে এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি। এই অবস্থায় ম্যাচ শেষ হলে ম্যান সিটিই উঠে যেত সেমি ফাইনালে। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাঁদতে হতো টটেনহামকে। কিন্তু ওই ভিএআর বিতর্ক দুই দলের ভাগ্যটা বদলে দিয়েছে। যাদের হাসার কথা সেই ম্যান সিটি কাঁদল। যাদের কাঁদার কথা, সেই টটেনহাম হাসল। লিখল ইতিহাস।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামের পরিবেশটাই কাল ছিল অন্য রকম। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে গ্যালারি ভরে তুলেছিলেন সিটির সমর্থকরা। তিল ধারণের জায়গাও ফাঁকা ছিল না। এই ভরা গ্যালারিতে গোল উত্তাপ ছড়াতেই সময় লাগেনি। পাগলাটে ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায় ৫ গোল!

স্বাগতিক ম্যান সিটি করে ৩টি, টটেনহাম ২টি। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ইতিহাদকে নাচিয়ে তোলেন ম্যান সিটির ইংলিশ ফরোয়ার্ড রাহীম স্টার্লিং। কিন্তু তার এই গোলের রেশ না কাটতেই ইতিহাদে আবারও গোল। এবারের উৎসবটা টটেনহামের।

দুর্দান্ত এক শটে হটস্পারদের সমতায় ফেরান দক্ষিণ কোরিয়ান উইঙ্গার হিউন মিন সন। ৭ মিনিটে সমতায় ফেরানোর পর ১০ মিনিটে আবারও হিউন-মিন সনের গোল উৎসব। টটেনহাম এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। ঠিক পরের মিনিটেই, মানে ১১ মিনিটেই ম্যান সিটিকে সমতায় ফেরান বার্নার্ড সিলভা। ১১ মিনিটেই ৪ গোল। ২১ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ম্যান সিটি।

সিটির এবারের উৎসবের মধ্যমণিও স্টার্লিং। এই ৩-২ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ম্যান সিটি। সেমিতে উঠতে হলে ম্যান সিটিকে অন্তত আরও একটি গোল করতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সেই গোলটা পেয়েও যায় সিটি। পেপ গার্দিওলার দলের মুখে এবার হাসি ফোটান আর্জেন্টাইন তারকা সার্জিও আগুয়েরো। কিন্তু আগুয়েরোর এনে দেওয়া সিটির সেই আনন্দ-উৎসবকে মাটি করে দিয়েছে ফার্নান্দো লরেন্তের ভিএআর বিতর্কিত হ্যান্ডবল-গোল!

সেমি ফাইনালে টটেনহামের প্রতিপক্ষ ডাচ ক্লাব আয়াক্স। আগের দিন যারা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জুভেন্টাসকে হারিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পর জায়গা করে নিয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে।

কাল দিনের অন্য ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে গত বছরের ফাইনালিস্ট লিভারপুল। প্রথম লেগেও লিভারপুল জিতেছিল ২-০ গোলে। মানে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-১ গোলের অগ্রগামিতা নিয়ে বীরদর্পেই সেমিতে অলরেডরা।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও