বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার মেসির পার্থক্য যেখানে

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার মেসির পার্থক্য যেখানে

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০১৯

বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার মেসির পার্থক্য যেখানে

ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে যতটা অপ্রতিরোধ্য, দেশ আর্জেন্টিনার হয়ে ততটা নন। ক্যারিয়ার জুড়ে এই অপবাদ অনেকবারই শুনতে হয়েছে লিওনেল মেসিকে। গত শুক্রবার ভেনেজুয়েলার কাছে ৩-১ গোলে আর্জেন্টিনার হারে শুনতে হলো আবারও। ক্লাব বার্সেলোনার জার্সি গায়ে বর্তমানে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন মেসি। সর্বশেষ ৩ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল।

অথচ সেই মেসিই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফিরে হয়ে থাকলেন নিজের ছায়া। দলের হার ঠেকাতে গোল করা দূরের কথা, পুরো ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদানই রাখতে পারেননি তিনি।

কেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য মেসির দেখা মেলে না? কেন তিনি দেশের জার্সি গায়ে প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠতে পারেন না? ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে তার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে অনেকে অনেক রকম কারণই খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। কেউ বলেন, মেসি জাতীয় দলের হয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশার চাপটা সামলাতে পারেন না।

স্নায়ুচাপে ভুগে সবকিছু গড়বড় করে ফেলেন। আবার কেউ বলেন, বার্সেলোনার সতীর্থদের সঙ্গে মেসির বোঝাপড়া যতটা ভালো, জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে ততটা নয়। ক্লাব বার্সায় সতীর্থদের কাছ থেকে যেভাবে সমর্থন পান, জাতীয় দলে তা পান না।

বার্সেলোনার হয়ে মেসির খেলা সর্বশেষ ম্যাচ এবং শুক্রবারের জাতীয় দলের হয়ে খেলা ম্যাচটির পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে দ্বিতীয় এই কারণটাই ফুটিয়ে তুলেছে স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কা। পত্রিকাটি দুটো ম্যাচের একই রকম দুটো ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, আসলে সতীর্থদের সমর্থন ও বোঝাপড়ার বিষয়টিই মেসিকে বার্সেলোনা ও জাতীয় দলে ‘আলাদা সত্ত্বা’ বানিয়ে রেখেছে!

বার্সেলোনায় সতীর্থদের সঙ্গে মেসির বোঝাপড়াটা অসাধারণ। সতীর্থরা বল পেলেই বুঝতে পারেন, মেসি কোথায় থাকবেন। কিভাবে পাস বাড়ালে মেসির কাছে পৌঁছাবে। কিন্তু আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘাটতিটা স্পষ্ট। সতীর্থরা তো মেসির অবস্থান বুঝতে পারেন-ই না, মেসি নিজেও বুঝে উঠতে পারেন না, ঠিক কোন জায়গায় গেলে তাকে যথাযথভাবে পাস দেওয়া হবে।

গত রোববার লা লিগায় রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। তার একটি গোল তিনি করেছেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে। উরুগুইয়ান তারকা বল নিয়ে বেটিসের বক্সে ঢুকে পড়েন। মেসিও দৌড়ে এসে ফাকায় অবস্থান নেন।

কিন্তু সুয়ারেজের দুই পাশেই বেটিসের দুজন ডিফেন্ডার ছিলেন। কিন্তু তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুয়ারেজ ঠিকই ব্যাক-হিল করে বল পাস বাড়ান মেসিকে। আর্জেন্টাইন তারকা অনায়াসেই বল জড়িয়ে দেন জালে।

বার্সা ও আর্জেন্টিনার মেসির পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতেই কিনা শুক্রবার ভেনেজুয়েলার ম্যাচে ঠিক এ্কই রকম একটা ঘটনা ঘটে। আসলে ঘটনা পুরোটা ঘটেনি। বোঝাপড়াটা এক রকম হলে ঘটতে পারত আর কি! যাই হোক, ভেনেজুয়েলার বক্সের সামনে বল পেয়ে যান বোকা জুনিয়র্সের ফরোয়ার্ড দারিও বেনেদেত্তো। ঠিক তার একটু পেছনেই পাসের অপেক্ষায় ছিলেন মেসি।
৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি হয়তো ভেবেছিলেন, বেনেদেত্তো ঠিকই তাকে পাস বাড়াবেন। বেনেদেত্তো ব্যাক-হিল করেছিলেনও। কিন্তু মেসির অবস্থান তিনি ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। তার ব্যাক-হিল মেসির কাছে যায়নি। গেলে হয়তো মেসি অনায়াসেই বল জালে জড়াতে পারতেন।

কারণ, তখন তার সামনে ভেনেজুয়েলার কোনো ডিফেন্ডারই ছিল না। উপযুক্ত জায়গায় পজিশন নিতে গিয়ে তাদের আগেই বোকা বানান মেসি। কিন্তু বেনেদেত্তোর পাস তাকে খুঁজে না পাওয়ায় মেসি নিজেই বোকা বনে যান!

তবে মার্কার এই বিশ্লেষণধর্মী যুক্তির দ্বার ধারছেন না ড্যানিয়েল প্যাসারেলা। আর্জেন্টিনার সাবেক এই ডিফেন্ডার বরং ধুয়ে দিয়েছেন মেসিকে। আর্জেন্টিনার হয়ে দু’টি বিশ্বকাপ জেতা ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই ডিফেন্ডার স্পষ্ট কণ্ঠেই বললেন, ক্লাব বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মেসি বার্সেলোনার হয়ে বেশি ভালো দাবি করে প্যাসারেলা বলেছেন, ‘সে গ্রেট খেলোয়াড়। যেকোনো দলকেই সে অনেক কিছু দিতে পারে। কিন্তু সে যখন বার্সেলোনার হয়ে খেলে, তার মনোভাব, মুভমেন্ট তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে সে অনেক বেশি ভালো। আমি বলতে পারব না, এমন কেন। তবে এটা আপনাকেই (মেসিকে) উপলব্ধি করতে হবে।’

কেআর/পিএ

 

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও