এমন অভ্যর্থনা আগে কখনোই পাননি মেসি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

এমন অভ্যর্থনা আগে কখনোই পাননি মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৮, ২০১৯

এমন অভ্যর্থনা আগে কখনোই পাননি মেসি

গত মৌসুমে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে দেওয়া জুভেন্টাস সমর্থকদের সেই উষ্ণ অভ্যর্থনার কথা মনে আছে? গতকাল ঠিকই একই কায়দায় একই কারণে প্রতিপক্ষ রিয়াল বেটিস সমর্থকদের কাছ থেকে একই রকম উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন লিওনেল মেসি।

অসাধারণ এক হ্যাটট্রিক করে বলতে গেলে রিয়াল বেটিসকে একাই পুড়িয়ে ছাড়খাড় করেছেন মেসি। বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছেন লিগ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত করা ৪-১ গোলের জয়। প্রিয় দলকে হারের কষ্ট উপহার দেওয়ার জন্য বেটিসের সমর্থকদের কাছে, মেসির শত্রু বনে যাওয়ার কথা। কারণ, বেটিসের মূল সর্বনাশ করেছেন তিনিই।

কিন্তু দলের সেই হার কষ্ট ভুলে বেটিসের সমর্থকেরা মেসির পায়ের জাদুতে অভিভূত। হ্যাটট্রিকের পথে তিনটি গোলই মেসি অবিশ্বাস্যভাবে। মানে মেসির তিনটি গোলই ছিল দর্শনীয়। যার একটি ফ্রি-কিক থেকে। দুটি দুরূহ কোণ থেকে চিপ করে। তিনটি গোলের সঙ্গেই এমন মোহনীয়তা জড়িয়ে ছিল যে, যেন গোলের সৃষ্টিকর্তা তিনি। নিজের ইচ্ছামতো গোল বানাতে পারেন!

হতে পারে প্রিয় দলকে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু মাঠে বলকে যিনি শৈল্পিক দক্ষতায় ইচ্ছে মতো নাচাতে পারেন, দুরূহ কোণ থেকে নয়ন মুগদ্ধকর গোল করতে পারেন, সেই নান্দনিক শিল্পী সাধুবাদ না জানালে তো অন্যায় হয়ে যায়!

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই তাই বেটিসের বেনিতো লিয়ামারিন স্টেডিয়ামের গ্যালারিভর্তি সব দর্শক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে জাদুকর মেসিকে।

মেসিও হাত নেড়ে বেটিস সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা-সম্ভাষণে সারা দিয়েছেন। প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাছ এমন হৃদয় শীতল করা অভ্যর্থনা, ভালোবাসা পেয়ে মেসি অভিভূত। স্মৃতি রোমন্থন করে বলেছেন, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে এমন অভ্যর্থনা আগে কখনোই পাননি তিনি!

মুভিস্টারকে তিনি স্পষ্ট কণ্ঠেই বলেছেন, ‘আমি মনে করতে পারছি না, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে এমন অভ্যর্থনা, ভালোবাসা, প্রশংসা আগে কখনো পেয়েছি কি না। দুরূহ কোণ থেকে চিপ করে দর্শনীয় যে গোল দুটি করেছেন, সেই গোল সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে মেসির উত্তর, ‘আমি আসলে বলতে পারব না, কীভাবে গোল দুটি করে ফেললাম। আসলে আমি ভাগ্যবান যে গোল দুটি হয়ে গেছে।’

কি মেসির প্রতিক্রিয়াটাও রোনালদোর সেদিনের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মিলে গেল তো! হ্যাঁ, ঠিক তাই। গত বছর জুভেন্টাস সমর্থকদের অভ্যর্থনায় অভিভূত হয়ে রোনালদোও একই রকম প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছিলেন। তবে মেসির মতো হ্যাটট্রিক নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগটিতে সেদিন রোনালদোকে করেছিলেন জোড়া গোল। সঙ্গে মার্সেলোর গোল মিলিয়ে জুভেন্টাসের মাঠে গিয়ে জুভেন্টাসকে ৩-০ গোলে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ।

রোনালদোর দুটি গোলের একটি ছিল দর্শনীয় ওভারহেড কিক থেকে। বাতাসে ভেসে আসা বল উল্টো ঘুরে মাথার ওপর দিয়ে সাইকেল কিকের আদলে ওভারহেড কিক নেন রোনালদো। জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার, গোলরক্ষককে হতভম্ব করে দিয়ে রোনালদো সেই শট ঢূকে যায় জুভেন্টাসের জালে। যে গোলটি পরে মৌসুমের সেরা গোলের পুরস্কার পেয়েছে।

ম্যাচ শেষে প্রিয় দলের পরাজয়ের কষ্ট ভুলে জুভেন্টাস সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় রোনালদোকে। রোনালদোও সারা দিয়েছিলেন হাত নেড়ে। যারা এত ভালোবাসা দিল, তাদের হারের কষ্ট দেওয়ায়, গোল করায় অপরাধী সেজে হাত জোর করে জুভেন্টাস সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চান রোনালদো।

পরে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে এমন ভালোবাসা কখনোই পাইনি আমি।’ পর্তুগিজ সুপারস্টার সঙ্গে এটাও যোগ করেছিলেন, ‘তাদের এই ভালোবাসার কতা আমার সারা জীবন মনে থাকব। এটা আমার ক্যারিয়ারের বিশেষ একটা দিন।’

ওই নগদ কৃতজ্ঞতাই শুধু নয়। মৌসুম শেষে রোনালদো জুভেন্টাস সমর্থকদের ভালোবাসার বড় প্রতিদানই দেন। রিয়াল ছেড়ে যোগ দিয়েছেন সেই জুভেন্টাসে। ফলে এখন প্রতিনিয়তই জুভেন্টাস সমর্থকদের অভ্যর্থনায় শীতল হচ্ছেন রোনালদো।

মেসিও সে রকম কিছু করবেন, সেই সম্ভাবনা একেবারেই নেই। কারণ, মেসি যেতে চাইলেও রিয়াল বেটিসের সামর্থ্য নেই মেসির মতো বিশ্বসেরাকে কেনার। তবে বেটিস সমর্থকদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা যে সারা জীবনই মেসির হৃদয়ে বিশেষ একটা জায়গা নিয়ে থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কেআর