৬ কারণে বার্সেলোনার জন্য বড় হুমকি ম্যানইউ

ঢাকা, ২১ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

৬ কারণে বার্সেলোনার জন্য বড় হুমকি ম্যানইউ

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯

৬ কারণে বার্সেলোনার জন্য বড় হুমকি ম্যানইউ

সম্ভাবনা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালেই মেসির বার্সেলোনা ও রোনালদোর জুভেন্টাসের মুখোমুখি হওয়ার। কিন্তু ড্র ভাগ্য দুই দলেরই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। শেষ আটে নয়, বাকি পথটুকু হাঁটতে পারলে বার্সা-জুভেন্টাসের দেখা হবে একেবারে ফাইনালে। সেটি অবশ্য আরও দুই স্টেশন দূরে।

তার আগে কোয়ার্টার ফাইনাল নামক প্রথম স্টেশনে বার্সেলোনার মুখোমুখি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জুভেন্টাসের প্রতিপক্ষ ডাচ ক্লাব আয়াক্স।

বিশ্বের প্রতিটি দলই প্রতিপক্ষ হিসেবে বার্সেলোনাকে এড়াতে চায়। লিওনেল মেসি যে দলে আছেন, সেই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই যে নিজের মাথাটা খড়্গের নিচে পেতে দেওয়া! কারা স্বেচ্ছায় বলি হতে চায় বলুন! কিন্তু ভাগ্যের ওপর কারো হাত নেই। কিছু করারও নেই। ম্যানইউ তাই ড্র ভাগ্য মেনে নিয়ে মেসির অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্নই দেখছে। নেভাতে চাইছে মনের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলা প্রতিশোধের জ্বালা।

একবার নয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই দলের সর্বশেষ দুই সাক্ষাতেই বার্সেলোনার কাছে হেরেছে ম্যানইউ। হার দুটো সাধারণ ম্যাচে হলে হয়তো জ্বালাটা একটু কম হতো। কিন্তু ম্যানইউর সেই দুটি হারই ফাইনালে।

২০০৯ সালের পর ২০১১ সালেও মেসিদের শিরোপা উৎসবের কষ্ট-স্বাক্ষী হতে হয়েছে তাদের।

দীর্ঘদিন পর ড্র ভাগ্য যেহেতু সেই বার্সার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, ম্যানইউ কায়মনো বাক্যে প্রতিশোধ দেওয়ার মালাই জপছে। দলীয় শক্তিমত্তা, বর্তমান পারফরম্যান্স, ইতিহাস, ঐতিহ্য অবশ্য মেসিদের বার্সেলোনাকেই ফেভারিটের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। ম্যানইউও মানছে, বার্সাই ফেভারিট। তবে ফুটবলবোদ্ধাদের অভিমত, বিশেষ ৬টি কারণে বার্সেলোনার জন্য বড় হুমকিই হবে ম্যানইউ!

সেই ৬টি কারণ কী, পরিবর্তনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো এখানে—

. উচ্চতার কারণে বাতাসে শক্তিশালী

ফুটবলে খেলোয়াড়দের দৈহিক উচ্চতা সাফল্য প্রাপ্তিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ডিফেন্ডাররা লম্বা হলে সহজেই প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিতে পারে। উড়ে আসা বল হেড করে ক্লিয়ার করতে পারে অনায়াসেই। আবার ফরোয়ার্ডরাও লম্বা হলে অনায়াসেই হেড করে গোল আদায় করতে পারেন। এই জায়গাটাতে ম্যানইউ অনেকটাই এগিয়ে। বার্সার খেলোয়াড়দের তুলনায় ম্যানইউর খেলোয়াড়েরা বেশি লম্বা।

ক্রিস স্মলিং ও নেমানিয়া মাতিচ, দুজনেরই উচ্চতা সমান ১.৯৪ মিটার। স্কট ম্যাকফমিনিয়ের উচ্চতা ১.৯৩ মিটার, পল পগবার উচ্চতা ১.৯১ মিটার, রোমেলু লুকাকু ১.৯০ মিটার, ডেভিড ডি গেয়া ১.৮৯ মিটার, ভিক্টর লিন্ডলফ ১.৮৭ মিটার এবং এরিক বেইলি ও মার্কাস রাশফোর্ড, দুজনেরই উচ্চতা সমান ১.৮৫ মিটার করে।

দৈহিক এই উচ্চতার ফায়দাও তুলছে ম্যানইউ। ইংলিশ ক্লাব মৌসুমের এ পর্যন্ত সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বাতাসে ভেসে আসা বলে গোল হজম করেছে মাত্র ৫টি! মানে সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে মৌসুমের এ পর্যন্ত ম্যানইউর বিপক্ষে হেড করে মাত্র ৫টি গোল করতে পেরেছেন প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডেরা। ম্যানউইর বিপক্ষে মেসিদের তাই হেড করে গোল করার আশা বাদ দিয়েই খেলতে হবে!

. অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস

মানইউর ড্রেসিংরুমের আত্মবিশ্বাসের পারদটা এখন তুঙ্গে। সেটি দুটি কারণে। হোসে মরিনহো বরখাস্ত হওয়ার পর কোচের দায়িত্ব পাওয়া সোলসকায়ের পুরো দলটাকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে ফিরিয়ে এনেছেন আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসের জোরেই সোলসকায়েরের অধীনে ১৮ ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে ম্যানইউ। হেরেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। বাকি দুটিতে করেছে ড্র। এই তথ্য ম্যানইউকে অপ্রতিরোধ্য সার্টিফিকেটই দিচ্ছে।

ইংলিশ ক্লাবটির আত্মবিশ্বাসের পারদ আরও ওপরে উঠেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর কীর্তিতে। নিজেদের মাঠের প্রথম লেগে ম্যানইউ হেরে গিয়েছিল ২-০ গোলে। সেই দলটিই পিএসজির মাঠে গিয়ে ফিরতি লেগে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে। ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতেছে ৩-১ গোলে।

সেই স্বপ্নময় জয়টা ম্যানইউ পেয়েছে স্কোয়াডের ১০ জন খেলোয়াড় চোটগ্রস্ত থাকার পরও! পিএসজি বিপক্ষে পাওয়া এই সাফল্য ম্যানইউ শিবিরে এখন আত্মবিশ্বাসই গুঁজে দিয়েছে, ‘আমরা পারি।’

. মাঝমাঠে অপ্রতিরোধ্য পল পগবা

ম্যানইউ’র সাম্প্রতিক সাফল্যের সবচেয়ে বড় কারিগর পল পগবা। ফরাসি এই মিডফিল্ডার এখন অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন। মাঝমাঠে দলের খেলাটা তৈরি করার পাশাপাশি ২০ ম্যাচে ৫টি গোলও করেছেন তিনি। অ্যাসিস্টও করেছেন ৪টি। ২৬ বছর বয়সী ফরাসি এই মিডফিল্ডার নিশ্চিতভাবেই বার্সেলোনার জন্য হবেন বড় আতঙ্কের নাম।

. ভয়ঙ্কর প্রতিআক্রমণ

ম্যানইউ’র সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গাটা হলো প্রতিআক্রমণ। কাউন্টার অ্যাটাকে খুবই ভয়ঙ্কর ম্যানইউ। কতটা, সেটি টের পেয়েছে পিএসজি। শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে পিএসজির বিপক্ষে ৩টি গোলই ম্যানইউ করেছে কাউন্টার অ্যাটাক বা প্রতিআক্রমণে। রোমেলু লুকাকু, পগবা, রাশফোর্ড, লিনগার্ড, অ্যান্থোনিও মার্শিয়ালদের নিয়ে তাই সর্বদা আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হবে বার্সেলোনার রক্ষণভাগকে।

. নম্বর বা ফলস

কোনো দলে দক্ষ নম্বর ৯ না থাকলেই মূলত ‘ফলস ৯’ হিসেবে একজনকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ম্যানইউতে রোমেলু লুকাকুর মতো দক্ষ নম্বর ৯ আছেন। তা সঙ্গেও কোচ সোলসকায়ের ‘ফলস ৯’ হিসেবে লিনগার্ডকে খেলাচ্ছেন। সোলসকায়ের প্রথমত লিনগার্ডের ওপরই আস্থা রাখেন বেশি। তবে চোট থেকে সেরে ওঠার পর লুকাকু যেন অন্য রূপে আবির্ভূত। সর্বশেষ ৪ ম্যাচে তিনি করেছেন ৬ গোল। ফলে বার্সেলোনাকে ম্যানইউর এই ‘নম্বর ৯’ ও ‘ফলস ৯’ নিয়ে আলাদাভাবেই ভাবতে হবে।

. গোলপোস্টে নিরাপদ আস্থা

প্রতিভা ও পারফরম্যান্সে নিশ্চিতভাবেই বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকদের একজন ডেভিড ডি গেয়া। স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক কদিন আগেই ম্যানইউ’র হয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ১০০ ম্যাচে ক্লিনশিট রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। মানে ম্যানইউ’র হয়ে ৮ বছরে খেলা ২৬৭টি লিগ ম্যাচের মধ্যে ১০০টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি তিনি। ৮ বছরের মধ্যে ৪ বারই নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানইউর সেরা খেলোয়াড়। গ্লাভস হাতে ডি গেয়া নিশ্চিতভাবেই মেসি-সুয়ারেজদের পথের কাটা হয়ে উঠবেন।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও