রিয়াল মাদ্রিদ ১০:০ বার্সেলোনা!

ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ | ৯ চৈত্র ১৪২৫

রিয়াল মাদ্রিদ ১০:০ বার্সেলোনা!

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

রিয়াল মাদ্রিদ ১০:০ বার্সেলোনা!

এইতো ক’দিন আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে টানা দুটো এল ক্লাসিকোতে হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ দুটি হেরে দুটি টুর্নামেন্টের শিরোপা স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে।

ভাবছেন, ক’দিনের ব্যবধানে সেই রিয়াল এতটা অবিশ্বাস্য দল হয়ে উঠল কিভাবে যে, বার্সেলোনাকে ১০-০তে হারিয়ে দিল! আরে ভাই, এটা মাঠের লড়াইয়ের ফল নয়। এই পরিসংখ্যানটা দুই দলের কোচ ছাটাইয়ের!

সত্যিই তাই। মাঠের বাইরের কোচ ছাটাইয়ের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। ২০০৩ সালের পর থেকে গত ১৬ বছরে মোট ১০ জন কোচের চাকরি খেয়েছে রিয়াল! বার্সেলোনা একজনেরও নয়। দুই দলের কোচ ছাটাইয়ের ফলটা তাই রিয়াল ১০:০ বার্সেলোনা!

ফুটবলপ্রেমীদের এটা জানাই, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চাকরি হলো রিয়াল মাদ্রিদের কোচের চাকরি। আজ আছে তো কাল নেই। পান থেকে চুন খসলেই কোচদের উপর নেমে আসে বরখাস্তের খড়্গ। এই পরিসংখ্যানে চরম সেই সত্যটাই পরিস্ফুটিত।

পরিসংখ্যানটা এটাও বলে দিচ্ছে, মাঠের লড়াই যতই হাড্ডাহাড্ডি হোক, কোচিং দর্শনে বার্নাব্যু ও ন্যু-ক্যাম্প পুরো বিপরীত। রিয়াল সাফল্য খুঁজে কোচ ছাটাইয়ের মাধ্যমে! বার্সেলোনা সাফল্য খুঁজে কোচদের উপর অবিচল আস্থা রেখে।

বার্সেলোনা সর্বশেষ কোচ ছাটাই করেছিল ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে। দলের ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্ত করেছিল ডাচ কিংবদন্তি লুই ফন গলকে। এরপর যারাই কোচ হয়ে ন্যু-ক্যাম্পে এসেছেন, সবাই চুক্তির মেয়াদ শেষ করেই ফিরে গেছেন।

গত ১৬ বছরে বার্সেলোনার তিন সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা, স্যান্দ্রো রোসেল এবং বর্তমানের জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ, কেউই কোচদের চাকরি খাননি। ব্যর্থতার সময়েও কোচদের উপর আস্থা রেখেছেন। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছেন। ডাচ কোচ ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড দীর্ঘ ৫টি মৌসুম কাটিয়েছেন ন্যু-ক্যাম্পে।

বার্সার তৎকালীন সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা সব সময়ই এই ডাচ কোচকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে গেছেন। এমনকি প্রথম মৌসুমে দল ধুকলেও রাইকার্ডের উপর খড়্গ তুলেননি তিনি।

সভাপতি লাপোর্তার অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়ে রাইকার্ডও পরে বার্সেলোনাকে ব্যর্থতার গলি থেকে টেনে তুলেন সুউচ্চ আসনে।

এরপর পেপ গার্দিওলা, তাতা মার্টিনো, লুইস এনরিকে-এরা সবাই চুক্তির মেয়াদ শেষ করেই ন্যু-ক্যাম্প ছেড়েছেন। এই সময়ে একমাত্র টিটো ভিলানোভা কোচ হিসেবে চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। তবে, সেটি বরখাস্তের খড়্গে নয়, ভিলানোভা সরে দাঁড়ান মরণব্যাধী ক্যান্সারের কারণে।

বার্নাব্যুর চিত্রটা ঠিক এর উল্টো। এই সময়ে রিয়ালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দু’জনে। হুয়ান রেমন কালদেরন ও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পরিসংখ্যান জানিয়ে দিচ্ছে, তারা দু’জনেই কোচের চাকরি খেতে উস্তাদ! দু’জনে মিলে গত ১৬ বছরে ১০ জনের চাকরি খেয়েছেন।

২০০৩ সালের পর বরখাস্ত হওয়া রিয়ালের সেই হতভাগ্য ১০ কোচ হলেন- কার্লোস কুইরোজ, মারিয়ানো গার্সিয়া রেমন, ভেন্ডারলি লুক্সেমবার্গো, ফ্যাবিও ক্যাপেলো, বার্ন্ড সুস্টার, মরিসিও পেলেগ্রিনি, কার্লো আনচেলত্তি, রাফায়েল বেনিতেজ, জুলিয়েন লোপেতেগুই ও সর্বশেষ সোমবার বরখাস্ত হয়েছেন সান্তিয়াগো সোলারি।

আরও দু’জন সমঝোতার ভিত্তিতে মেয়াদ শেষের আগেই চলে গেছেন। তারা হলেন, ভিসেন্তে দেল বস্ক ও হোসে মরিনহো। এ ছাড়াও একজন সভাপতি পেরেজের সঙ্গে মন কষাকষির কারণে নিজে থেকেই পদত্যাগ করেন। তিনি জিনেদিন জিদান।

গত মৌসুমে রিয়ালকে টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতানোর পরও কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সভাপতি পেরেজের সঙ্গে মতের অমিল হওয়াতেই সরে দাঁড়ান তিনি। তবে, মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে রিয়ালের কোচ হিসেবে আবার ফিরেও এসেছেন জিদান। গত সোমবার সান্তিয়াগো সোলারিকে বরখাস্ত করে জিদানকে দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল।

জিদান এই মৌসুমে রিয়ালের তৃতীয় কোচ। মানে মৌসুমে এরই মধ্যে দু’জনকে বরখাস্ত করেছেন সভাপতি পেরেজ। গত অক্টোবরে এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরদিনই তৎকালীন কোচ জুলিয়েন লোপেতেগুইকে বরখাস্ত করে রিয়াল।

তার জায়গায় দায়িত্ব দেয় সান্তিয়াগো সোলারিকে। এই আর্জেন্টাইনকে অবশ্য শুরুতে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তবে দুই সপ্তাহের মাথায়ই পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান স্থায়ী চুক্তি। কিন্তু, সোলারির সেই স্থায়ী চুক্তি স্থায়ী হলো মাত্র ৪ মাস!

জিদান ফিরে এসে আবার দায়িত্বটাতো নিলেন। বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার মানসিক প্রস্তুতিটাও নিশ্চয় আছে তার!

কেআর/আইএম