বিতর্কিত মাদ্রিদ ডার্বিতে জিতল ‘আসল’ মাদ্রিদ

ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬

বিতর্কিত মাদ্রিদ ডার্বিতে জিতল ‘আসল’ মাদ্রিদ

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

বিতর্কিত মাদ্রিদ ডার্বিতে জিতল ‘আসল’ মাদ্রিদ

রিয়াল ও অ্যাতলেতিকো, দুই মাদ্রিদের ফুটবল দ্বৈরথ এমনিতেই গরম। একের পর এক বিতকির্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে কালকের মাদ্রিদ ডার্বিকে আরও বেশি আগুন-তপ্ত করে তুললেন রেফারি। তবে চরম উত্তেজনাকর মাদ্রিদ ডার্বিতে শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে ‘আসল’ মাদ্রিদেরই। মানে বিতর্কে ঠাসা ম্যাচে জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। কাসেমিরো, সার্জিও রামোস ও গ্যারেথ বেলের কাঁধে চেপে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের ৩-১ গোলে হারিয়ে রিয়াল উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুই মাদ্রিদের প্রথম লেগটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। মানে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গিয়ে রিয়ালকে রুখে দিয়েছিল অ্যাতলেতিকো। অথচ কাল নিজেদের মাঠেই অ্যাতলেতিকোকে হার মানতে হলো ৩-১ গোলে। রিয়ালের এই জয়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে অ্যাতলেতিকোর আর্জেন্টাইন কোচ দিয়েগো সিমিওনি রেফারি বা ভিএআরকে (ভিডিও আসিস্ট্যান্ট রেফারি বা রিভিউ) কাঠগড়ায় তুলেননি।

তিনি বরং রিয়ালকে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে নিজ দলের হারটা মেনে নিয়েছেন। স্পষ্ট কণ্ঠেই বলেছেন, ‘যোগ্যতর দল হিসেবেই জিতেছে রিয়াল। উজ্জীবিত রিয়ালকে আটকাতে যা করার দরকার ছিল, আমরা মাঠে তা করতে পারিনি।’ সিমিওনির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন তার বন্ধু, স্বদেশি, সতীর্থ সান্তিয়াগো সোলারিও। যিনি গতকাল ছিলেন তার সরাসরি প্রতিপক্ষ। রিয়ালের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে অ্যাতলেতিকোর সমস্ত নস্যাৎ করে দেওয়ার পরিকল্পনাটা আটেন রিয়ালের কোচ সোলারিই।

ম্যাচ শেষে রিয়ালের আর্জেন্টাইন কোচ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলেন, ‘এই জয় দলীয় সমন্বিয়তার ফসল। দলীয় সমন্বয় ছাড়া অ্যাতলেতিকোর মতো দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া সম্ভব ছিল না। মাঠে একটা দল হিসেবে খেলায় ছেলেদের ধন্যবাদ।’

রিয়াল কোচ দলীয় যে জয়গান গাইলেন, সেটি সংগতই। সত্যিকার অর্থেই কাল রাতে দলীয় সমন্বিয়তার ফসলই ঘরে তুলেছে রিয়াল। রিয়ালের জয় ক্ষুধাটা টের পাওয়া যায় ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই। স্বাগতিক অ্যাতলেতিকোর আক্রমণ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই রুখে দেন রিয়ালের ডিফেন্ডাররা। এরপর বল নিয়ে ক্ষীপ্রগতিতে দৌড় শুরু করেন রিয়ালের তরুণ তুর্কি সার্জিও রেগুইলন।

সমন্বিতভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়া, বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা-অ্যাতলেতিকোর মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানোতে শুরুতেই যেন বার্তা মিলে ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে রিয়ালের জন্য। ১৬ মিনিটে সেই বার্তাটা আরও জোরালো করেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। কর্নারের বলে বক্সের মাঝখান থেকে নিচু শটে এই ব্রাজিলিয়ান কাঁপিয়ে দেন অ্যাতলেতিকোর জাল।

কাসেমিরোর এনে দেওয়া এই লিড অবশ্য খুব বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি রিয়াল। ২৪ মিনিটেই অ্যাতলেতিকোকে সমতায় ফেরান আতোইন গ্রিজমান। তবে এই ফরাসির গোলটি নিয়ে বিতর্ক আছে। তাকে পাস দেওয়ার আগে অ্যাঙ্গেল কোরেয়া ফাউল করেছিলেন রিয়ালের ব্রাজিলিয়ান বিস্ময়বালক ভিনিসিয়াসকে। কিন্তু রেফারি ফাউলের বাঁশি না বাজিয়ে বাজিয়েছেন গোলের বাঁশি।

রেফারিং বিতর্কের এই শুরু। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে আরও অন্তত ৫টি বিতকির্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন কাতালুনিয়ান রেফারি এস্ত্রাদা ফার্নান্দেজ। যার বেশির ভাগই গেছে রিয়ালের পক্ষে, অ্যাতলেতিকোর বিপক্ষে। ঠিক এ রকমই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে রিয়ালকে আবার এগিয়ে দেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস।

এবারও ঘটনার কেন্দ্রে ব্রাজিলিয়ান তরুণ ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বল নিয়ে বক্সে ঢোকার সময় তাকে ফেলে দেন অ্যাতলেতিকোর উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার জিমেনেজ। রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিয়ে বাজান পেনাল্টির বাঁশি। কিন্তু স্প্যানিশ ফুটবলবোদ্ধারা মনে করছেন, জিমেনেজ ভিনিসিয়াসকে ফাউলটা করেছেন বক্সের বাইরে। স্পেনের সাবেক রেফারি অ্যান্ডুয়ার অলিভিয়ের রেডিও মার্কাকে সঙ্গে সঙ্গেই বলেন, এটা কিছুতেই পেনাল্টি ছিল না।

যাই হোক, রামোসের এই গোলটিকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট মানছেন সবাই। এরপর ৭৪ মিনিটে অসাধারণ এক গোল করে চরম উত্তেজনার মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা গ্যারেথ বেল। ৮০ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদকার্ড দেখে থমাস পার্তে মাঠ ছাড়ায় অ্যাতলেতিকোর জয়ের আশা যেন একেবারেই নিভে যায়। পার্তেকে হারিয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া অ্যাতলেতিকোর সাধ্য কি দুই গোলে এগিয়ে থাকা উজ্জীবিত রিয়ালের জয় কেড়ে নেয়!

দারুণ এই জয়ে ২৩ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে এখন রিয়াল। এক ম্যাচ কম খেলেই শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫০। যারা আজ খেলবে অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে। ২৩ ম্যাচে তিনে থাকা অ্যাতলেতিকোর পয়েন্ট ৪৪।

বিতর্কিত মাদ্রিদ ডার্বি, লিগ শিরোপা লড়াইটা যেন আরও জড়িয়ে দিলো। অ্যাতলেতিকো জিতলে লড়াইটা হয়ে যেত দ্বিমুখী। রিয়াল জেতায় নিশ্চিতভাবেই শিরোপা লড়াইটা এখন ত্রিমুখী। বার্সা, রিয়াল, অ্যাতলেতিকো-তিন দলের সামনেই এখন শিরোপার দরজা খোলা।

কেআর/আরপি