মাদ্রিদ ডার্বিতে ‘তিন আর্জেন্টাইন বন্ধু’র পুনর্মিলনী

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাদ্রিদ ডার্বিতে ‘তিন আর্জেন্টাইন বন্ধু’র পুনর্মিলনী

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

মাদ্রিদ ডার্বিতে ‘তিন আর্জেন্টাইন বন্ধু’র পুনর্মিলনী

অপেক্ষার পর্ব প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। আজ রাতেই লা লিগার ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মাদ্রিদের প্রধান দুই প্রতিবেশি রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। অ্যাতলেতিকোর মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিতানোর আজকের এই মাদ্রিদ ডার্বিকে চাইলে ‘তিন আর্জেন্টাইনের পুর্নমিলনীর ম্যাচ’ নামকরণও করা যায়। এই ম্যাচেই যে পুর্নমিলনী ঘটতে যাচ্ছে তিন আর্জেন্টাইনের। খেলোয়াড়ী জীবনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেছেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে এক সঙ্গে খেলার পাশাপাশি তিনজনেই খেলেছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে। ছিলেন অন্তরঙ্গ বন্ধুও।

এই তিনজন হলেন দিয়েগো সিমিওনি, জার্মান বারগোস ও সান্তিয়াগো সোলারি। নাম শুনেই বুঝে ফেলার কথা, মাঠে নয়, আজকে তাদের পুর্নমিলনীটা হচ্ছে ডাগআউটে। সময়ের স্রোতে তারা তিনজনেই এখন কোচের ভূমিকায়। কাকতালীয়ভাবে সেই তিন বন্ধুই এখন মাদ্রিদের দুই জায়ান্টের কোচের দায়িত্বে!

সেই ২০১১ সাল থেকে নিজের সাবেক ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দিয়েগো সিমিওনি। তখন থেকেই তার সহকারীর ভূমিকায় জার্মান বারগোস। বিপরীতে গত অক্টোবরেই হুট করে রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়ে গেছেন সান্তিয়াগো সোলারি। ফলে পুর্নমিলনীর মঞ্চে আজ তারা প্রবল প্রতিপক্ষ। বন্ধুত্ব ভুলে আজ তারা একে অন্যকে হারিয়ে দেওয়ার কাজেই মগ্ন থাকবেন।

অন্তরঙ্গ বন্ধু হলেও দিয়েগো সিমিওনি ও বারগোসের চেয়ে রিয়াল মাদ্রিদ কোচ সোলারি বয়সে অনেক ছোট। বর্তমানে বারগোসের বয়স ৪৯। সিমিওনির ৪৮। আর সোলারির ৪২। তবে বয়সের এই ব্যবধান তাদের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তার অন্যতম কারণ, তিনজনেই দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান স্পেনে। বসবাসও করেন একই শহর মাদ্রিদে। খেলেও একসঙ্গে। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তিনজন এক সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করলেও ক্লাব ফুটবলে তিনজনে কখনোই একই ক্লাবে খেলেননি। কিন্তু দুজন একসঙ্গে খেলেছেন। শুধু খেলা নয়, একই ক্লাবে খেলার সময় সোলারিকে কোচিংও করিয়েছেন সিমিওনি।

সবচেয়ে বড় কথা, আগে-পরে তিনজনেই অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। তবে একসঙ্গে নয়। সিমিওনি দু’দফায় অ্যাতলেতিকোর হয়ে খেলেছেন। কিন্তু সোলারি ১৯৯৯ সালে যখন আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভারপ্লেট ছেড়ে অ্যাতলেতিকোতে যোগ দেন, সিমিওনি তখন, ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানে।

আবার বারগোস ২০০১ সালে অ্যাতলেতিকোতে যোগ দেন, সোলারি তখন অ্যাতলেতিকো ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। তবে রিভারপ্লেটে একসঙ্গেই খেলেছেন তারা। সিমিওনির সঙ্গে সোলারি যেমন একসঙ্গে খেলেছেন সান লরেঞ্জোতে। খেলেছেন প্রতিপক্ষ হিসেবেও। ফলে বয়সের ফারাক ঘুচে খেলোয়াড়ী জীবনে তাদের বন্ধুত্ব হয়ে উঠে বন্ধুত্বের চেয়েও বেশি কিছু। সুযোগ পেলেই তারা একে অন্যকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, একজন অন্যজনকে নিয়ে করেছেন মজাও।

আজ যখন একসঙ্গে হবেন, পুরোনো সেই স্মৃতিগুলো নিশ্চয় মনের দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে চাইবে। আবেগের ঢেউ উঠে ভাসিয়ে নিতে চাইবে তিনজনকেই। মনের অন্দরে আবেগের ঢেউ খেলা করবে, সন্দেহ নেই। তবে ভেতরের সেই আবেগকে ভেতরেই চাপে দিয়ে রাখতে হবে তিনজনকেই। বন্ধুত্ব ভুলে আজ যে তাদের হার-জিতের খেলায় নিমগ্ন থাকার দিন! তারা যে আজ প্রতিপক্ষ।

কেআর/এএসটি

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও