লাল কার্ড-সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাইক ডিন!

ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯ | ৮ বৈশাখ ১৪২৬

লাল কার্ড-সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাইক ডিন!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০১৯

লাল কার্ড-সেঞ্চুরির অপেক্ষায় মাইক ডিন!

শক্ত হাতে ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করতে কত কঠোরই না হতে হয় রেফারিদের। বিধি বর্হিভূতভাবে ফাউল-ট্যাকল করলেই দিতে হয় কার্ড-দণ্ড! হলুদ কার্ড তো হরহামেশাই দেখা হয়। গুরুতর ফাউলের জন্য বের করতে হয় লাল কার্ডও। এই হলুদ-লাল দণ্ড দিতে গিয়ে হরহামেশাই দণ্ডিত খেলোয়াড় এবং তার দলের বিরাগভাজন হন রেফারিরা। অনেক সময়ই পড়তে হয় সমালোচনার মুখে। এতোসব প্রতিকূলতার পথ পেরিয়েও অনন্য এক কীর্তির দরজায় দাঁড়িয়ে মাইক ডিন। লাল কার্ডের সেঞ্চুরি ডাকছে ইংলিশ এই পেশাদার রেফারিকে!

সত্যিই তাই। শক্ত ও দক্ষ হাতে ম্যাচ পরিচালনা করতে গিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এরই মধ্যে ক্যারিয়ারে ৯৯টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন মাইক ডিন। মানে আর মাত্র একটা লাল কার্ড দেখাতে পারলেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসেবে লাল কার্ডের সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলবেন তিনি।

অনন্য এই কীর্তির জন্য ৫০ বছর বয়সী ডিনকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে হয় না। সম্প্রতি যে হারে তার পকেটে থেকে লাল কার্ড বেরোচ্ছে, তাতে স্পষ্ট, সামনের দু-এক ম্যাচেই লাল কার্ড সেঞ্চুরির গর্বিত মালিক বনে যাবেন ডিন। এ মৌসুমে এরই মধ্যে মাত্র ১৯ ম্যাচে ৯টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন ডিন।

সেই ১৯৮৫ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পেশাদার রেফারি হিসেবে যাত্রা শুরু ডিনের। সেই থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সহকারি রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার পূর্ণ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেও, সেটি ছিল খণ্ডকালীন। পূর্ণ রেফারি হিসেবে আনুষ্ঠানিক পদোন্নতি পান তারও দুই বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তালিকাভুক্ত রেফারি হন ২০০০ সালে।

মজার বিষয় হলো, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ডিন প্রথম লাল কার্ডটি দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ডবল’ অপরাধের জন্য। যে অপরাধের জন্য এখন ফাউলের বাঁশিই তেমন বাজান না রেফারিরা! নিউক্যাসলের নলবার্ট সোলানো তার প্রথম লাল কার্ড দণ্ডের শিকার। সেই যে শুরু। সেই থেকে কত নামীদামী তারকাকে হলুদ কার্ড, লাল কার্ড দেখিয়েছেন ডিন। তার লাল কার্ড খড়্গ থেকে বাঁচতে পারেননি ফার্নান্দো তোরেস, অ্যান্ড্রু কোলের মতো তারকারাও। বলতে পারেন লাল কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে এই দুজনই বেশি পছন্দ ছিলেন ডিনের। সবচেয়ে বেশি বার তিনি দেখিয়েছেন এই দুজনকেই।

এক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেই তিনি লাল কার্ড দেখিয়েছেন ৯৯টি। সেটি মাত্র ৪৭২ ম্যাচে। মানে প্রতি ৪.৭ ম্যাচে একটি করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। এই ৯৯টি লাল কার্ডের মধ্যে ৫২টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন সরাসরি। বাকি ৪৭টি দুই হলুদ কার্ডে। তা হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন কতটি? সংখ্যাটা চোখ কপালে তোলার মতোই, ১৭২১টি!

লাল কার্ড প্রদানে ডিন কতটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী সেটি একটি তথ্যেই স্পষ্ট। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখিয়েছেন যিনি, সেই ফিদে দৌদ লাল কার্ড বের করেছেন ৬৭ বার। এরপর অবসরই নিয়ে ফেলেছেন তিনি। অথচ ডিনের থামাথামির নাম নেই। বর্তমান রেফারিদের মধ্যে লাল কার্ড প্রদানে ডিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মার্টিন অ্যাটকিনসন। যিনি ৫৮টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন।

খেলোয়াড় হিসেবে তোরেস, কোলরা যেমন কার্ড প্রদানে ডিনের বিশেষ পছন্দ ছিলেন। তেমনি ক্লাব হিসেবে তার বিশেষ পছন্দ ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি। এই দুই দলের খেলোয়াড়দের মোট ৯টি করে লাল কার্ড দিয়েছেন তিনি। কাকতালীয় হলো, আগামীকাল রোববার এই দুই দলের ম্যাচেও রেফারিংয়ের গুরুত্ব দায়িত্ব পালন করবেন ডিন।

কে জানে, হয়তো কালকের এই ম্যাচেই ‘সেঞ্চুরি’টা হয়ে যেতে পারে তার। পছন্দের দুই দলের ম্যাচ বলে কথা!

কেআর