বার্টনকে ৯ গোলে ভাসাল ম্যান সিটি!

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

বার্টনকে ৯ গোলে ভাসাল ম্যান সিটি!

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০১৯

বার্টনকে ৯ গোলে ভাসাল ম্যান সিটি!

খেলা দেখার জন্য টাকা দিয়ে টিকিট কিনলেন। কিন্তু জ্যামের কারণে সঠিক সময়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হতে না পেরে খেলাই দেখতে পারলেন না। কেমন লাগে বলুন তো! জ্যামে আটকে থাকার সময়টা হয়তো বার্টন আলবিওনের সমর্থকদের কাছে নরক যন্ত্রণার মতোই মনে হয়েছে। তবে ম্যাচের ফল জানার পর হয়তো সেই যন্ত্রণা ধুয়ে মুছে দিয়ে জ্যামকে ধন্যবাদই জানিয়েছেন বার্টন সমর্থকেরা। জ্যামের সুবাদে যে অঘটনের করুণ স্বাক্ষী হতে হয়নি!

প্রিয় দলের জালে প্রতিপক্ষ গুনে গুনে ৯টি গোল দিয়েছে, এমন করুণ দৃশ্য দেখার চেয়ে জ্যামে আটকে থাকাই তো ভালো!

গতকাল বুধবার রাতে এমন অবিশ্বাস্য অঘটনই ঘটেছে ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্টন আলবিওনের মধ্যকার লিগ কাপের (কারাবাও কাপ) সেমিফাইনালেল প্রথম লেগে। নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে ম্যান সিটি জিতেছে ৯-০ গোলে।

ইংল্যান্ডের তো বটেই; ম্যান সিটি বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। তাদের সামনে বার্টন আলবিওন নেহায়তই লিলিপুট। ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোর তালিকায় ম্যান সিটির চেয়ে তৃতীয় বিভাগের দল বার্টন ৫১ ধাপ পিছিয়ে। এমন দুটি ক্লাবের লড়াইয়ে ম্যান সিটি জিতবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এতে অঘটন বলার কিছু আছে। আসলে অঘটনটা গোলের বিচারে।

ফুটবলে এক তরফা ম্যাচ অনেকই হয়। তাই বলে এক দল আরেক দলকে ৯ গোলে ভাসাবে! এটা তো অঘটনই। ম্যান সিটির ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। কে জানে, হয়তো বার্টনের ইতিহাসেও এটাই সবচেয়ে বড় হার।

বার্টন এবারই প্রথম লিগ কাপের সেমিফাইনালে উঠেছে। নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে এটাই তাদের সেরা সাফল্য। এই সাফল্যের কারণেই হয়তো বার্টন সমর্থকেরা স্বপ্নের মালা বুনছিল আরও বড় সাফল্যের। হয়তো মনে মনে জপছিল, ফুটবলে কত কিছুই তো ঘটে। ম্যান সিটির বিপক্ষে তাদের দল কি আরেকটা অঘটন ঘটাতে পারে না!

আর সেজন্যই হয়তো সিটির মাঠের ম্যাচটা দেখার জন্য আগাম টিকিট কেটে রেখেছিল বার্টনের হাজার তিনেক সমর্থক। কিন্তু জ্যামের কারণে তাদের কেউই ঠিক সময়ে মাঠে উপস্থিত হতে পারেননি। এমনকি বার্টনের কোচ-খেলোয়াড়দের মাঠে আসতে দেরি হয়। কি এক কারণে যেন স্টাম্পফোর্ডশায়ারে লম্বা ট্রাফিক জ্যাম পড়ে। সেই জ্যামে বসেই পচতে হয় বার্টন সমর্থকদের। যদিও শেষ পর্ন্ত জ্যামে বসে থাকাটা স্বস্তিই দিয়েছে তাদের!

কারণ অঘটন দেখার আশায় টিকিট কাটলেও মাঠের লড়াইয়ে নেমে উল্টো তাদের দলই অঘটনের শিকার। বার্টনকে এই ‘অঘটন’ উপহার দিতে সেরা একাদশই মাঠে নামিয়েছিলেন ম্যান সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। ফলও পায় দ্রুতই। ম্যাচের ৩৭ মিনিটের মধ্যেই ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ম্যান সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে তারা গোল করেছে আরও ৫টি।

ম্যান সিটির এই মহা গোল উৎসবের বড় নায়ক গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড একাই করেছেন ৪ গোল। একটি করে গোল করেছেন কেভিন ডি ব্রুইন, জিনশেঙ্কো, ফডেন, ওয়াকার ও রিয়াদ মাহরেজ। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেল এক লেগে ৯-০ গোলে জয়ের ঘটনা এই প্রথম। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্ট এফএ কাপের সেমিফাইনালেও এমন এক তরফা ম্যাচ কখনো হয়নি।

ক্লাব ম্যান সিটি এতো বড় জয় এর আগে কখনো না পেলেও কোচ গার্দিওলা পেয়েছেন। বার্সেলোনার কোচ থাকাকালে ঠিক ৯-০ গোলেরই জয়ই পেয়েছিলেন তিনি।

২০১১ সালে কোপা ডেল রে’র ম্যাচে লা হসপিতালেতের বিপক্ষে ৯-০ গোলে জিতেছিল মেসিদের বার্সেলোনা।

বিশাল এই জয়ের পর ম্যান সিটি শিবিরে হয়তো ফাইনালে উঠে যাওয়ারই উৎসব। অন্যদিকে বার্টন হয়তো আরও একটি ‘সম্ভাব্য যন্ত্রণা’র শঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছে। ২৩ জানুয়ারি যে লিগ কাপ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগ। সেই ম্যাচটি অবশ্য বার্টনের মাঠে হবে। তাতে কি! ৯-০ যন্ত্রণার পর ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখা কি সাধে? সাহস থাকে?

কেআর