দল বদলানোয় বাবা-মাসহ ঘরে আগুন!

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

দল বদলানোয় বাবা-মাসহ ঘরে আগুন!

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

দল বদলানোয় বাবা-মাসহ ঘরে আগুন!

আর্জেন্টিনার দুই ক্লাব বোকা জুনিয়র্স ও রিভারপ্লেটের মধ্যকার তিক্ততার সম্পর্কের কথা ফুটবলপ্রেমীরা কম-বেশি আগে থেকেই জানত। তবে দুই নগর প্রতিবেশি ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে শত্রুতা যে এতোটা তীব্র হতে, সেটা সারা দুনিয়া জানল এবার। দুনিয়াকে জানিয়ে দিয়েছে গত ২৪ নভেম্বরের সেই ভয়াবহ হামলার ঘটনা। ওই হামলার পর থেকেই যুগ যুগ ধরে ঘটে যাওয়া ক্লাব দুটির সমর্থকদের মারামারি, কাটাকাটি, দাঙ্গা, হাঙ্গামার ঘটনা একে একে উঠে আসছে। স্মৃতিচারণ পর্বে এবার উঠে এল আরও এক বিভৎস, লোমহর্সক ঘটনা। দল বদলে রিভারপ্লেটে যাওয়ায় বোকা জুনিয়র্সের উগ্র সমর্থকেরা অস্কার রুগেরির বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল!

ফাঁকা ঘরে আগুন দিলেও কথা ছিল। উগ্র সমর্থকেরা আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল রুগেরির বাবা ও মাকে ঘরে রেখেই! বাইরের কেউ নন। লোমহর্সক সেই ঘটনার কথা বয়ান করলেন রুগেরি নিজেই। স্পেনের ওন্ডা সিরো রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার সাবেক এই খেলোয়াড় নিজেই বলেছেন, ‘আমি রিভারপ্লেট এবং বোকা জুনিয়র্স, দুই ক্লাবের হয়েই খেলেছি। দুই ক্লাবেই আমার সময়টা দারুণ কেটেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমি যখন বোকা ছেড়ে রিভারপ্লেটে যোগ দিই, বোকার হুলিগান সমর্থকেরা আমার বাবা-মাকে ঘরে রেখেই আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল।’

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ৯৭টি ম্যাচ খেলা রুগেরি হুট করে স্পেনের এক রেডিওকে সেই লোমহর্সক ঘটনার বয়ান করার কারণটাও স্পষ্টই। গত ২৪ নভেম্বর বোকা জুনিয়র্স ও রিভারপ্লেটের মধ্যকার কোপা লিবার্তোদোরেসের ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ম্যাচটি হামলার কারণে পণ্ড হয়। ম্যাচ শুরুর আগে আগে বোকার খেলোয়াড়দের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় রিভারপ্লেটের গুণ্ডা সমর্থকেরা। পরে বোকা জুনিয়র্স আর রিভারপ্লেটের মাঠে খেলতে রাজি হয়নি। তাই আর্জেন্টিনার সেই আগুনে ম্যাচটি সরিয়ে আনা হয়েছে স্পেনে। ৯ ডিসেম্বর ম্যাচটি হবে রিয়াল মাদ্রিদের স্টেডিয়ামে এস্তাদিও সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে।

স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচটি ঘিরে আর্জেন্টিনার সাবেক খেলোয়াড়েরা ও ফুটবল কর্তারা স্পেনে ঘুরাঘুরি করছেন। আর রুগেরি তো খেলেছেন দুই ক্লাবেই। ফলে আগুন-তপ্ত ম্যাচটা নিয়ে তার আগ্রহ অন্যদের চেয়ে বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। ম্যাচটির আয়োজন তদারকি করতে এসেই নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়ানক ঘটনা বর্ণনা করলেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি দুনিয়াকে বুঝিয়ে দিলেন, বোকা জুনিয়র্স ও রিভারপ্লেটের সম্পর্ক কতটা বৈরি!

বুয়েনস এইরেস ভিত্তিক এই ক্লাব দুটির মধ্যে বৈরিতা চিরকালীন। কেউ কাউকে সহ্যই করতে পারে না। সেখানে রুগেরি কিনা বোকা ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন শত্রু শিবিরে। পেশাদার ফুটবলে প্রতিটা খেলোয়াড়ই দল বদলান। সমর্থকেরা তা মেনেও নেন। কিন্তু নিজেদের প্রিয় ক্লাব ছেড়ে শত্রু শিবিরে যাওয়া, এটা একদমই সহ্য করেন না।

এটা শুধু বোকা জুনিয়র্স ও রিভারপ্লেট নয়, দুনিয়ার অনেক দেশেই এমনটা হয়। ইতালিতে যেমন ইন্টার মিলানের সমর্থকেরা মানতে পারেন না, তাদের ক্লাব ছেড়ে কোনো খেলোয়াড় এসি মিলানে যাক। স্পেনে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের পরিস্থিতিও তাই। রুগেরি যদি অন্য কোনো ক্লাবে যেতেন, তাহলে হয়তো ভয়ঙ্কর ওই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হতো না। শত্রু শিবির রিভারপ্লেটে যাওয়াতেই মেজাজ সপ্তমে চড়ে যায় বোকার হুলিগান (লাতিন আমেরিকায় বলা হয় বারাস ব্রাভাস) সমর্থকদের।

তবে ক্ষোভে উন্মাদ হয়ে তারা যা করেছে, তা কল্পনাকেও হার মানায়। করুণ কণ্ঠে রুগেরি বলেছেন, ‘তারা যখন আমার বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, তখন আমি বোকার বারাস ব্রাভাসদের (সমর্থক গোষ্ঠি) প্রধান নেতার সঙ্গে দেখা করি। আমি তার মুখোমুখি হই। কারণ, তিনিই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। আমি তাকে বলি, এবার শেষ। এরপর এমন বিভৎসতা আমি আর সহ্য করব না।’

রুগেরি ১৯৮০ সালে পেশাদার ক্যারিয়ারটা শুরু করেন বোকায়। সেখান ৫ বছর কাটিয়ে ১৯৮৫ সালে যোগ দেন রিভারপ্লেটে। এখানে খেলেছেন ৩ বছর। এরপরে আরও ৬টি ক্লাবে খেলেছেন। একটি মৌসুম খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদেও। সেই রিয়ালের মাঠে তার স্বদেশি দুই সাবেক ক্লাবের ম্যাচ, অতীত যতই করুণ হোক, রুগেরির উন্মাদনা তো মাত্রা পাবেই।

কেআর