শীর্ষ ২৩২-তেও রিয়ালের কেউ নেই!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

শীর্ষ ২৩২-তেও রিয়ালের কেউ নেই!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

শীর্ষ ২৩২-তেও রিয়ালের কেউ নেই!

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর শূন্যতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়াল সমর্থকদের মনে ‘রোনালদো হাহাকারের’ বুদবুদটা আরও বেশি করে তুলছে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা খেলোয়াড়দের তালিকা। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা শীর্ষ ২৩২ জনের মধ্যেও কিনা রিয়াল মাদ্রিদের কেউ নেই! সত্যিই তাই। এই পুরস্কারের দৌড়ে বর্তমানে রিয়ালের কেউ শীর্ষ ২৩২ জনের মধ্যে নেই।

রিয়ালের বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবার উপরে যিনি, সেই করিম বেনজেমা আছেন যৌথভাবে ২৩৩ নম্বরে! অথচ রোনালদো রিয়ালে যে ৯টি বছর ছিলেন, সেই ৯ বছরই তিনি এই পুরস্কারের দৌড়ে উপরের দিকেই থেকেছেন। এমনকি ৩ বার জিতে নিয়েছেন পুরস্কারও। সব মিলে ক্যারিয়ারে জুভেন্টাসের পর্তুগিজ সুপারস্টার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জিতেছেন ৪ বার। তার চেয়ে একবার বেশি জিতেছেন লিওনেল মেসি।

বিশ্বসেরা রিয়ালের কোনো ফরোয়ার্ডের শীর্ষ ২৩২তে না থাকাটা লজ্জারই। রোনালদো চলে যাওয়ার পর এই মৌসুমে গোল করাই যেন ভুলে গেছেন রিয়ালের ফরোয়ার্ডরা। বেনজেমা, গ্যারেথ বেল, মার্কো এসেনসিওরা প্রতিপক্ষের জালই খুঁজে পাচ্ছেন না। প্রতিনিয়তই যার খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে। বিশ্বসেরা রিয়ালকে যেতে হচ্ছে বড় দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে।

রিয়ালের পক্ষে মৌসুমে এ পর্যন্ত লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা বেনজেমা। ফরাসি তারকা লিগে ১৪ ম্যাচে করেছেন মোটে ৫ গোল। মানে তার অর্জিত পয়েন্ট ১০। যা তাকে রেখেছে যৌথভাবে ২৩৩তম স্থানে। বেনজেমার দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪ গোল করেছেন ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস। রিয়ালের ফরোয়ার্ডদের দুর্দশার চিত্রটা এই ছোট্ট তথ্যেই স্পষ্ট!

শীর্ষ ২৩২-তে রিয়ালের কারো না থাকাটা অবশ্যই অতি আশ্চায়ের! তবে তালিকার এক নম্বরে থাকা নামটিও কম বিস্ময়ের নয়। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট মানেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা মেসি, রোনালদো, লুইস সুয়ারেজদের মধ্যে। গত ১০ বছরের চিত্র অন্তত সেটাই। গত ১০ বছরে এই তিনজনের হাতেই উঠেছে এই পুরস্কার। মেসি ৫ বার, রোনালদো ৩ বার, সুয়ারেজ ২ বার।

কিন্তু এ মৌসুমে এখনো পর্যন্ত এই তিনজনের কেউ শীর্ষ দশেও নেই। তাদের অনেক পেছনে ফেলে বর্তমানে তালিকার এক নম্বরে লিলিউ! কি চিনতে পারলেন না তো? ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড খেলেন এস্তোনিয়ার শীর্ষ লিগ মেইস্ট্রিলিগার দল নম্মে কালজুতে। মৌসুমে এ পর্যন্ত তিনি করেছেন ৩১ গোল। এস্তোনিয়ান লিগ কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে তার অর্জিত পয়েন্টও ৩১। মানে প্রতি গোলে ১ পয়েন্ট অর্জন তার।

পূর্ণাঙ্গ তালিকাটা পাওয়া যায়নি। ফলে জানা যায়নি বর্তমানে মেসি-রোনালদো-সুয়ারেজরা ঠিক কত নম্বরে আছেন। তবে লিগে তাদের গোল সংখ্যা বলে দিচ্ছে, এই মুহূর্তে তারা যে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন সেটা নিশ্চিত। এই তিনজনের মধ্যে এখনো পর্যন্ত এগিয়ে রোনালদো। জুভেন্টারেস হয়ে তিনি লিগে করেছেন ১০ গোল। মেসি লিগে করেছেন ৯ গোল। সুয়ারেজও তাই। মানে বর্তমানে তাদের অর্জিত পয়েন্ট যথাক্রমে ২০, ১৮ ও ১৮।

তবে পিছিয়ে থাকা মেসি-রোনালদো-সুয়ারেজরা হয়তো দ্রুতই দৌড়ে উপরের দিকে চলে আসবেন। কিন্তু রিয়ালের দুর্দশাটা কি কাটবে?

উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ লিগগুলোর সর্বোচ্চ গোলদাতাদের অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিত্তিতে একেক দেশের লিগের গোলের জন্য একেক রকম পয়েন্ট। স্প্যানিশ লা লিগা, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, জার্মান বুন্দেসলিগা, ইতালিয়ান সিরি আ ও ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান-প্রতিদ্বন্দ্বিতার ভিত্তিতে ইউরোপের এই ৫টি লিগই শীর্ষে। এই লিগগুলোর প্রতিটা গোলের জন্য তাই বরাদ্দ ২ পয়েন্ট। এর চেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগের প্রতি গোলের জন্য বরাদ্দ ১.৫ পয়েন্ট। সবচেয়ে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগগুলোর প্রতি গোলের জন্য ১ পয়েন্ট।

কেআর