রিয়াল-বার্সার চেয়েও বিশ্বকাপ-আয় বেশি ম্যান সিটির!

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

রিয়াল-বার্সার চেয়েও বিশ্বকাপ-আয় বেশি ম্যান সিটির!

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

রিয়াল-বার্সার চেয়েও বিশ্বকাপ-আয় বেশি ম্যান সিটির!

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের রেশ কি এখনো রয়ে গেছে? ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হয়তো রেশটা তেমন আর নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের আয়োজক রাশিয়া এবং যেসব দেশ ও খেলোয়াড়েরা অংশ নিয়েছেন এবং সেসব খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বকাপের আয় বণ্টন-পর্ব যে এখনো শেষ হয়নি। এতোদিন পর এবার যেমন আয় বণ্টন করা হলো বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর মধ্যে। কেন খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলো বিশ্বকাপের আয়ের ভাগিদার, সেই ব্যাখ্যায় পরে আসছি। তার আগে জেনে নেওয়া যাক, বিশ্ব ফুটবল ক্লাবগুলোর মধ্যে এবারের বিশ্বকাপ থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটির।

বিশ্বকাপ-আয়ে ইংলিশ ক্লাবটি হারিয়ে দিয়েছে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাকে। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ম্যান সিটির আয় ৪.৪ মিলিয়ন ইউরো। ৪.২ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে ম্যান সিটির ঠিক পরের অবস্থানেই রিয়াল মাদ্রিদ। ৩.৬ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে তারকাখচিত বার্সেলোনা আছে তালিকার ৪ নম্বরে।

তাহলে ৩ নম্বরে কোন ক্লাব? তিনের নামটা আরও বেশি বিস্ময়কর। তারকাখচিত পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস, চেলসি বা এসি মিলান নয়। আয়ে তিন নম্বরে টটেনহাম হটস্পার। এই ইংলিশ ক্লাবটির আয় ৩.৭ মিলিয়ন ইউরো।

প্রতিটা পেশাদার খেলোয়াড়ই স্ব স্ব ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। কাজেই সেই খেলোয়াড়েরা যখন নিজ নিজ দেশের জাতীয় দলের হয়ে প্রীতি ম্যাচ বা কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যান, সেটা ক্লাবগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ। প্রথমত, টাকা দিয়ে কেনা নিজ খেলোয়াড়ের সেবা তখন ক্লাবগুলো পান না। দ্বিতীয়ত, চোটের ঝুঁকিও থাকে।

কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে তার পুরো খেসারত দিতে হয় স্ব স্ব ক্লাবকে। এই ঝুঁকির পরও ক্লাবগুলো  খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের হয়ে খেলার ছাড়্রপত্র দেয়। কারণ, ঝুঁকির বিপরীতে নিশ্চিত আয় প্রাপ্তির ব্যাপারও থাকে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ছাড়লে বড় অঙ্কের সম্মানিই পায় ক্লাবগুলো।

এই নিয়তের ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল ম্যান সিটি থেকেই, ১৬ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ জন অংশ নিয়েছিল রিয়াল থেকে। তৃতীয সর্বোচ্চ ১৪ জন বার্সেলোনা থেকে। সংখ্যায় এগিয়ে থাকার সুবাদে ম্যান সিটির আয়ও বেশি। বিশ্বকাপে ৩২ দলের হয়ে মোট ৭৩৬ জন খেলোয়াড় খেলেছেন বিশ্বকাপে।

এই ৭৩৬ জন খেলোয়াড় বিশ্বের ৬৩টি দেশের মোট ৪১৬টি ক্লাবে খেলেন। এই ৪১৬ ক্লাবই নিজ দলের খেলোয়াড় সংখ্যা এবং টুর্নামেন্টে টিকে থাকার ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে আয়ের ভাগিদার হয়েছে। সব মিলে ক্লাবগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে ১৯০ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্বকাপ শুরুর ১৫ দিন আগ থেকে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা পর্যন্ত-এই সময়ের হিসেবেই আয় বণ্টন করা হয়েছে।

মানে যে ক্লাবের যে খেলোয়াড় বেশি দিন টুর্নামেন্টে টিকে ছিলেন, তার ক্লাব তত বেশি আয় করেছে। প্রতিদিন খেলোয়াড় প্রতি দেওয়া হয়েছে ৭৫০০ ইউরো করে। মানে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা দুই দেশ ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের প্রত্যেককেই পুরো ৪৫ দিনের খরচা দিতে হয়েছে আয়োজকদের। আরও একটু স্পষ্ট করে বললে ফাইনালে খেলা ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের জন্য তাদের স্ব স্ব ক্লাব আয় করেছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ ইউরো (৪৫*৭৫০০) করে!

যাই হোক, আয়ে ৫ নম্বরে রয়েছে নেইমার, এডিনসন কাভানি, কিলিয়ান এমবাপেদের পিএসজি। ফরাসি ক্লাবটির আয় ৩.৩ মিলিয়ন ইউরো। ৬ নম্বরে থাকা ইংলিশ ক্লাব চেলসির আয়ও প্রায় ৩.৩ মিলিয়ন ইউরো। ৩.১ মিলিয়ন আয় নিয়ে ৭ নম্বরে আরেক ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ৮ নম্বরে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটির আয় ২.৬ মিলিয়ন ইউরো। ৯ নম্বরে থাকা জুভেন্টাসের আয়ও প্রায় ২.৬ মিলিয়ন ইউরো। ২.২ মিলিয়ন ইউরো আয় নিয়ে ১০ নম্বরে বায়ার্ন মিউনিখ।

কেআর