সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী : পার্থক্য ও সংশ্লিষ্ট কথা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১২ বৈশাখ ১৪২৬

সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী : পার্থক্য ও সংশ্লিষ্ট কথা

মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ ৪:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী : পার্থক্য ও সংশ্লিষ্ট কথা

সিরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী বহুল আলোচিত দুটি বিষয়। সাধারণ শিক্ষিতদের অনেকেই এ দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকেন। এ নিবন্ধে ইনশাআল্লাহ তাই যথা সম্ভব সংক্ষিপ্ত পরিসরে খোলাসা করা হবে।

সিরাতুন্নবী পরিচিতি

আরবী ‘সিরাতুন্নবী’ অর্থ হচ্ছে, নবীজি (সা) এর পূর্ণাঙ্গ জীবন-চরিত। এটি ‘সিরাত’ শব্দেরই আরও একটু বিশেষায়িত রূপ। ‘সিরাত’ শব্দটির আবিধানিক অর্থ অনেক। তবে সার্বিকভাবে বলা যায় - কোনো ভালো বা নেককার মানুষের চাল-চলন, ওঠা-বসা, কাজ-কর্ম, মেযাজ-মর্জি ইত্যাদি। এককথায় পূর্ণ জীবন পদ্ধতি বা জীবন-চরিত। পরিভাষায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণাঙ্গ জীবন-চরিতকে সিরাত বলা হয়। 

সিরাতুন্নবী কি উদযাপন কেন্দ্রিক কোন অনুষ্ঠানের নাম?

‘সিরাতুন্নবী’ এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ থেকেই বুঝে আসে এটি কোন উদযাপনীয় বা পালনীয় কোন আচার অনুষ্ঠান নয়। তা কেবলই জীবনে চর্চার। অর্থাৎ, নবীজির পূর্ণ জীবন-চরিত জেনে এ সম্পর্কে আলোচনা করে বা পড়াশুনা করে এর শিক্ষাগুলো জীবনে চর্চাই হল কাজ। আর আমাদের দেশে রবিউল আউয়াল মাসে যে সিরাতুন্নবী মাহফিলগুলো হতে দেখা যায়, এতে মূলত নবীজির সিরাত তথা জীবন-চরিত নিয়েই আলোচনা করা হয়। ইসলামের অনুসরণীয় তিন যুগে রবিউল আউয়াল মাস কেন্দ্রিক সিরাত নিয়ে এমন আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল না। এটি শুরু হয়েছে একটি মহা বিদআত মিলাদুন্নবী বা ঈদে মিলাদুন্নবীকে প্রতিহত করতে এবং এ সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করতে। 

এখন কেউ যদি ১২ রবিউল আউয়ালকে নবীজির জন্মদিবস অথবা রবিউল আউয়াল মাসকে নবীজির জন্মের মাস ধরে নিয়ে কেবল এ উপলক্ষে এই দিনে বা এই মাসে সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, এ অনুষ্ঠানে দরূদের নামে প্রচলিত বিশেষ পদ্ধতির মিলাদ পাঠ করে, কিয়াম করে, মিষ্টি বিতরণ করে, তাহলে এই প্রকারের সিরাতুন্নবী মাহফিলও বিদআত তথা ধর্মের মাঝে নব আবিষ্কৃত বিষয় হিসেবে পরিগণিত হবে – যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। 

‘মিলাদুন্নবী’ পরিচিতি

মীলাদ (ميلاد) শব্দের আভিধানিক অর্থ: জন্মসময়। এই অর্থে ‘মাওলিদ’ (مولد) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। আল্লামা ইবনে মানযূর তাঁর সুপ্রসিদ্ধ আরবী অভিধান “লিসানুল আরবে” লিখছেন: ميلاد الرجل: اسم الوقت الذي ولد فيه অর্থাৎ: “লোকটির মীলাদ: যে সময়টিতে সে জন্মগ্রহণ করেছে সে সময়টির নাম”।

অতএব, ‘মিলাদুন্নবী’ মানে ‘নবীজির জন্ম-সময় বা নবীজির জন্মদিন। তবে জনসাধারন্যে ‘মীলাদুন্নবী’ একটি বিশেষ পরিভাষা হিসেবে পরিচিত। যার মাধ্যমে তারা রাসূলুল্লাহ (সা) এর জন্মের সময় বা জন্মদিনকে বিশেষ পদ্ধতিতে উদযাপন করাকেই বুঝে থাকেন। শিয়া ও এক শ্রেণীর সুন্নী দাবীদার বিদআতপন্থীগণ এ দিবসকে ঈদ ঘোষণা করে “সকল ঈদের সেরা ঈদ” উদযাপন করে থাকেন। যা ধর্মের মাঝে বর্ধিত মারাত্মক এক বিদআত। তাছাড়া ১২ রবিউল আউয়ালই যে নবীজির জন্মদিবস – এ দাবীই তো স্বীকৃত নয়। রাসূলের (সা.) সঠিক জন্ম তারিখ সম্পর্কে আলেমগণ যথেষ্ট মতবিরোধ করেছেন। (নিবন্ধ সংক্ষিপ্ত করণের উদ্দেশ্যে জন্মদিবস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থেকে বিরত থাকছি) 

মিলাদুন্নবী বা ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন বিদআত কেন?

এটি বিদআত – কারণ, আল্লাহর কুরআন, রাসূল (সা.) এর সুন্নাত, সাহাবাদের আমল এবং সম্মানিত তিন যুগের কোন যুগে এর কোন অস্তিত্ব ছিল না। যে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কমনা করা হবে, কুরআন বা সুন্নাহয় অবশ্যই তার পক্ষে অন্তত একটি দলীল থাকতে হবে। আর মীলাদ মাহফিলের পক্ষে এমন কোন দলীলই নেই। অতএব, এটি একটি বিদআতী ইবাদত - যা হিজরী চতুর্থ শতাব্দীর পর তৈরি করা হয়েছে। মিশরের ফাতেমীয় শিয়া সম্প্রদায়ের শাসকগণ এটাকে সর্বপ্রথম ইসলামের নামে মুসলমানদের মাঝে চালু করে। 

ঈদে মিলাদুন্নবি কেন বিদআত – এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পড়ুন
“অত্যাসন্ন ১২ রবিউল আউয়াল; ঈদে মিলাদুন্নবী বিদআত কেন?” 

এমএফ/
আল্লাহর প্রতি মহানবী (সা.) এর অতুলনীয় সবর
তায়েফে রক্তাক্ত প্রিয় নবী : ঘটনা ও শিক্ষা