ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত!

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত!

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৮

ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য পেনাল্টির সিদ্ধান্ত!

রেফারিদের জন্য দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া। আর কঠিন এই কাজটি করতে গিয়ে রেফারিরা কখনো কখনো এমন সব হাস্যকর ভুল করে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, বিতর্কের সীমা থাকে না। গতকাল বুধবার রাতে তেমনই এক হাস্যকর ভুল করেছেন হাঙ্গেরিয়ান রেফারি ভিক্টর কাসাই। শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ম্যানচেস্টার সিটিকে দুটি পেনাল্টি দিয়েছেন রেফারি। এর মধ্যে প্রথম পেনাল্টি সিদ্ধান্তটি বিতর্কের ঝড় উঠেছে ফুটবল বিশ্বে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বইয়ে সমালোচনার বান। কেউ কেউ তো ফুটবল ইতিহাসেরই সবচেয়ে ‘জঘন্য পেনাল্টি’ বলে আ্যখ্যায়িত করছেন!

পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়ে রেফারিরা বাহবা পেয়েছেন, এমন ঘটনা ইতিহাসে  খুব কমই আছে। বেশির ভাগ সময়ই শূলে চড়ানো হয় রেফারিকে। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলে, যৌক্তিক কারণ হলেও রেফারিরা রেহাই পান না। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হলে তো কথাই নেই। কাল ভিক্টর কাসাইয়ের দেওয়া প্রথম পেনাল্টিটি এতোটাই বিতর্কিত আর হাস্যকর যে, পেনাল্টি পক্ষে যাওয়া ম্যানচেস্টার সিটিও সিদ্ধান্তটিকে ‘ভুল’ আখ্যায়িত করেছে। মাটিতে পড়ে যাওয়ার জন্য যাকে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে, সেই রাহিম স্টার্লিং তো ম্যাচ শেষে রেফারির কাছে ক্ষমা পর্যন্ত চেয়েছেন! ক্ষমা তিনি চেয়েছেন মাটিতে পড়ে গিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে!

কাল নিজেদের ঘরের মাঠের ম্যাচটাতে ৬-০ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। যার দুটি গোল সিটি পেয়েছে পেনাল্টি থেকে। সেই দুটি গোলই করেছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পরে একটি ফিল্ড গোল করে পূর্ণ করেছেন হ্যাটট্রিকও। যাই হোক, ম্যাচের দুই পেনাল্টির প্রথমটি দেওয়া হয় ২৪ মিনিটে।

সতীর্থের বাড়ানো পাস ধরে বল নিয়ে প্রতিপক্ষে শাখতারের বক্সে ঢুকে পড়েন রাহিম স্টার্লিং। তার সামনে শুধু গোলরক্ষক। গোলে শট নেবেন, ঠিক সেই সময় মাটিতে পড়ে যায় স্টার্লিং। রেফারি ভিক্টর কাসাই দৌড়ে এসে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এবং তা থেকে গোল করেন জেসুস।

কিন্তু রিপ্লেতে স্পষ্ট, ধাক্কা মারা দূরের কথা, বল নিয়ে আগুয়ান স্টার্লিংকে শাখতারের কোনো খেলোয়াড় কোনো রকম স্পর্শ পর্যন্ত করেননি। আসলে শট নেওয়ার সময় তার পা মাটিতে লাগে। তাতেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান স্টার্লিং। স্বাভাবিকভাবেই তিনি পেনাল্টির আবেদন করেননি। কিন্তু রেফারি ভিক্টর কাসাই হাস্যকরভাবে দিয়ে বসেন পেনাল্টি।

ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার রবি ফুলার টুইটারে সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘এটা ফুটবলে আমার দেখা সবচেয়ে জঘন্য সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আমি যদি স্টার্লিং হতাম, কিছুতেই এই পেনাল্টি গ্রহণ করতাম না। কি অদ্ভূত!’ সোসিওস ডট কম নামের এক প্রতিষ্ঠান লিখেছে, ‘এই মাত্র রাহিম স্টার্লিংয়ের পেনাল্টিটা দেখলাম। সত্যিই রেফারিংয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত।’

একজন আবার মজা করে টেনে এনেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোকে। ইউনাইটেড কাল জুভেন্টাসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে পেনাল্টির সুবাদেই। ম্যাচের শেষ দিকে পাওয়া ইউনাইটেডের সেই পেনাল্টি নিয়ে তেমন বিতর্ক হচ্ছে না। তবে বিনয় নামের একজন মজা করেছেন মরিনহোকে নিয়ে। অস্থীর মরিনহোর অস্থীরতা শেষ দিকে আরও বেড়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে শিষ্যরা সুযোগ মিস করায় তিনি হতাশায় মাটিতে লাথি মেরে বসেন। ঠিক তার পরপরই দেওয়া হয় পেনাল্টি। স্টার্লিং পেনাল্টি উপহার পেয়েছেন মাটিতে লাথি মেরে। মরিনহো ও স্টার্লিংয়ের ঘটনা দুটিকে একসুতোয় গেঁথে বিনয় লিখেছেন, ‘হোসে মরিনহো ও রাহিম স্টার্লিং মাটিতে লাথি মেরে পেনাল্টি আদায় করেছেন!’

জে ওমোজুয়া নামের একজন লিখেছেন, ‘অবশ্যই এই পেনাল্টির জন্য স্টার্লিংয়ের প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। সত্যিই বড় লজ্জার বিষয়।’

কেআর