ম্যারাডোনার সেই জাদুকরী পায়ের অবস্থা করুণ!

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫

ম্যারাডোনার সেই জাদুকরী পায়ের অবস্থা করুণ!

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৮

ম্যারাডোনার সেই জাদুকরী পায়ের অবস্থা করুণ!

এই পায়ের মোহনীয় জাদু দিয়েই জয় করেছেন বিশ্ব। আনকোরা এক ছোকরা থেকে হয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ম্যারাডোনা। কিংবদন্তি ম্যারাডোনার সেই জাদুকরী পা দুটোই কিনা এখন সঙ্কটাপন্ন। ম্যারাডোর দুই হাঁটুরই তরুণাস্থি পুরোপুরি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। হাঁটতে গেলে হাঁটুর দুই হাড়ে ঘষা লাগছে। রোগটার নাম অস্ট্রিওআথ্রাইসিস। মানে হাঁটুর গেঁটে বাত। দ্রুতই অস্ত্রোপচার করাতে হবে। লাগাতে হবে নকল পা। ম্যারাডোনার শল্যচিকিৎসক জার্মান ওচোয়া নিজেই জানিয়েছেন এই কথা।

ভয়ঙ্কর এই রোগটা ম্যারাডোনার হাঁটুতে বাসা বেঁধেছে সেই ২০০৪ সাল থেকে। কিন্তু খেয়ালি ম্যারাডোনা রোগটাকে তেমন পাত্তাই দেননি। দুনিয়াজুড়ে নিজের ভক্ত সমর্থকদের জানতেও দেননি। কিন্ত কতদিন আর গোপন রাখবেন। সত্য তো একদিন প্রকাশ হয়ই। ম্যারাডোনার হাঁটুর ক্ষয়ে যাওয়া তরুণাস্থির সত্যটা প্রকাশ্যে নিয়ে এল গত সপ্তাহে মেক্সিকান ক্লাব দোরাদোস দে সিনালার এক অনুশীলন সেশন!

অনুশীলন শেষে বেরিয়ে আসবেন ম্যারাডোনা। তখনই সমস্যাটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হাঁটতে খুবই সমস্যা হচ্ছিল ম্যারাডোনার। অনুশীলন সেন্টার ত্যাগ করেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অনুশীলনের সেই ভিডিও ফুটেজ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ভীষণ ব্যাথা অনুভব করছেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরের মুখের সেই অভায়াভব স্পষ্ট করেই বিশ্বকে জানিয়ে দেয়, পায়ে গুরুতর কোনো সমস্যা হয়েছে তার।

পরে তার চিকিৎসকও মুখ খুলেছেন, ‘ম্যারাডোনা দুই হাঁটুতেই তীব্র গেঁটে বাতে ভুগছেন। দুই হাঁটুরই তরুণাস্থি ক্ষয় হয়েছে। সমস্যাটা খুবই গুরুতর। প্রচণ্ড ব্যাথা ও প্রদাহ হচ্ছে। হাঁটা ভীষণ অসুবিধা। দ্রুতই অস্ত্রোপচার করাতে হবে।’

অস্ত্রোপচারই যে রোগ থেকে সেরে উঠার একমাত্র সমাধান, এটা ম্যারাডোনা বেশ আগে থেকেই জানেন বলে জানিয়েছেন ওচোয়া, ‘আসলে ম্যারাডোনা নিজেও জানেন-একমাত্র সমাধান হলো অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচার করে হাঁটুতে কৃত্রিম তরুণাস্থি স্তাপন করতে হবে। তা না হলে অবস্থা আরও খারাপ হবে। এটি থামানো সম্ভব নয়। এ কারণে তার নকল পা প্রয়োজন।’

অস্ত্রোপচারই একমাত্র সমাধান। কিন্তু ৫ বছর বযসী ম্যারাডোনার বয়স নাকি গুরুতর এই অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত নয়। প্রয়োজনের চেয়ে বয়সটা তার কম! মানে আরও বেশি বয়সে এই অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তার মানে কী ম্যারাডোনা নিজের পায়ে ভর করে আর হাঁটতে পারবেন না?

ওচোয়া অবশ্য এমন শঙ্কটা উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘সে রকম কোনো ‍ঝুঁকি নেই। চিকিৎসা প্রযুক্তি এখন অনেক উ্ন্নত। অস্ত্রোপচার করানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ডিয়েগোকে এই মুহূর্তে হাঁটাচলায় খুবই সতর্ক থাকতে হবে। দৌড়াদৌড়ি করা একদমই চলবে না।’

ওচোয়ার এই নির্দেশনার মানে একটাই-দোরাদোস দে সিনালাকে আর কোচিং করাতে পারবেন না ম্যারাডোনা! দেখা যাক, নিজের পায়ের কথা ভেবে খেয়ালি ম্যারাডোনা শখ করে নেওয়া কোচের চাকরিটা ছেড়ে দেন, নাকি পা’কে তুচ্ছ ভেবে সখের পেছনেই পড়ে থাকেন!

কেআর