‘দাম’-এ রিয়ালকে হারিয়ে দিল অ্যাতলেতিকো!

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৬ আশ্বিন ১৪২৫

‘দাম’-এ রিয়ালকে হারিয়ে দিল অ্যাতলেতিকো!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৮

‘দাম’-এ রিয়ালকে হারিয়ে দিল অ্যাতলেতিকো!

ঘটনাটা ঠিক যেন ফুটবলের অষ্টমাশ্চর্য। বাজার মূল্যে দৈত্য রিয়াল মাদ্রিদকে কিনা হারিয়ে দিল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। রিয়ালের বর্তমান খেলোয়াড়দের মোট বাজার মূল্যের চেয়ে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের বর্তমান খেলোয়াড়দের মোট বাজার মূল্য বেশি! আরও একটু স্পষ্ট করে বললে, রিয়ালের বর্তমান স্কোয়াডের চেয়ে অ্যাতলেতিকোর বর্তমান স্কোয়াডের দাম বেশি। ইতিহাসে এই প্রথম দামে প্রতিবেশী রিয়ালকে হারিয়ে দিল অ্যাতলেতিকো।

যার অর্থ আজ বুধবার রাতে যখন উয়েফা সুপার কাপে মুখোমুখি হবে দুই দল, দামের মাপকাঠিতে ফেভারিট তকমাটা থাকবে অ্যাতলেতিকোর গায়ে। রিয়াল মাদ্রিদ থাকবে আন্ডারডগ! এটা অষ্টমাশ্চর্যই তো।

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের প্রানকেন্দ্রে ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০২ সালে। ঠিক তার পরের বছরই অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জন্ম। বুঝতেই পারছেন রিয়ালের পাল্টা হিসেবেই অ্যাতলেতিকোর আত্মপ্রকাশ। মাদ্রিদের যেসব ফুটবল উৎসাহীরা ক্লাব রিয়ালের সংস্পর্শে যেতে ব্যর্থ হন বা সদস্য হওয়া থেকে বঞ্চিত হন, ক্ষোভ-দুঃখ-হতাশার বহিঃপ্রকাশে তারাই পাল্টা জবাব দিতে দাঁড় করান অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের নামের ক্লাবটি।

সেই থেকেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ‘ শত্রুতা-শত্রুতা’ লড়াইটা চলে আসছে। মাঠেল লড়াইয়ে কখনো্ সখনো হয়তো দৈত্য রিয়ালকে হারিয়েও দিয়েছে অ্যাতলেতিকো। কিন্তু দামী স্কোয়াড গঠনের লড়াইয়ে কখনোই রিয়ালকে টক্কর দিতে পারেনি অ্যাতলেতিকো। তা না পারার কারণটাও স্পষ্ট। রিয়াল মাদ্রিদ রাজাদের ক্লাব। মাদ্রিদের ধনকুবেররাই ক্লাবটির সঙ্গে সংযুক্ত, সদস্য। ফলে টাকার অভাব ক্লাব রিয়াল দেখেনি কখনোই।

অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো সাধারণদের ক্লাব। ফলে শুরু থেকেই আর্থিক অস্বচ্ছলতা ক্লাবটির সঙ্গী। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রিয়ালের মতো দু’হাতে টাকা খরচ করে দামী স্কোয়াড গঠন করতে পারেনি অ্যাতলেতিকো। বস্তায় বস্তায় টাকা ঢেলে রিয়াল বরাবরই দামী সব তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে। বিপরীতে অ্যাতলেতিকো টাকার অভাবে তরুণ প্রতিভার লালন-পালনই করেছে বেশি। কম টাকায় সাধারণ মানের খেলোয়াড়দের কিনে কোনোক্রমে পথ চলেছে।

শুধু নগরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেতিকো নয়, দামী স্কোয়াড গঠনে রিয়াল পুরো বিশ্বকেই টেক্কা দিয়েছে সব সময়। সেই রিয়াল এবার হেরে গেল প্রতিবেশী অ্যাতলেতিকোর কাছেও। যে দলটি নিয়ে ২০১৮/১৯ মৌসুমটি শুরু করার অপেক্ষায় অ্যাতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে, তার মোট বাজার মূল্য ৮৫৮ মিলিয়ন ইউরো। সেখানে রিয়ালের বর্তমান স্কোয়াডের মোট বাজার মূল্য ৭৭৫.৮ মিলিয়ন ইউরো। মানে রিয়ালের নতুন কোচ জুলিয়েন লোপেতেগুই শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার শুরুটা এই দশকেই। ২০১০-১১ মৌসুমে হোসে মরিনহোর নেতৃত্বাধীন রিয়ালের স্কোয়াডের মোট বাজার মূল্য ছিল ৪৮৭ মিলিয়ন ইউরো। সেখানে অ্যাতলেতিকোর বাজার মূল্য ছিল ২০৫.৮ ইউরো। পরের মৌসুমে মরিনহোর রিয়ালের স্কোয়াডের বাজার মূল্য ছিল ৫৩৮.৩ মিলিয়ন ইউরো। অ্যাতলেতিকোর মাত্র ১৭৭.৪ মিলিয়ন ইউরো।

২০১২/১৩ মৌসুমে অ্যাতলেতিকোর কোচ হয়ে আসেন দিয়েগো সিমিওনে। সেবার তার স্কোয়াডের দাম ছিল ১৯০.৩ মিলিয়ন ইউরো। রিয়ালের ৫৫১.৭ মিলিয়ন ইউরো। এরপর থেকে কেবলই ব্যবধানটা ছোট করে ফেলা। এর কারণ, ২০১৩ সালে গ্যারেথ বেলকে কেনার পর আর কোনো নামীদামী তারকাকে কিনেনি রিয়াল। উল্টো দিকে বিক্রি করে দিয়েছে হামেশ রদ্রিগেজ, আলভারো মোরাতাদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের।

তারপরও গত মৌসুম পর্যন্ত রিয়ালই এগিয়ে ছিল। ২০১৭/১৮ মৌসুমেও রিয়ালের স্কোয়াডের বাজার মূল্য ছিল ৯৪১.৮ মিলিয়ন ইউরো। অ্যাতলেতিকোর ৭৪০.৩ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু নতুন মৌসুমে পাশাটা একেবারেই উল্টে গেছে। কারণ, রিয়ালের সবচেয়ে বড় সম্পদ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে গেছেন।

অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো গত ৬ মাসের মধ্যে দিয়েগো কস্তা ও টমাস লেমারদের মতো খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছে। আতোইন গ্রিজমানকেও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। দলেল অন্য তরুণ তারকারাও দিনে দিনে অনেক পরিণত হয়েছেন। বেড়েছে তাদের বাজার মূল্য। সব মিলে ইতিহাসে প্রথম বারের মতো দামী স্কোয়াড গঠনে রিয়ালকে টপকেই গেল অ্যাতলেতিকো।

অ্যাতলেতিকোর সামনে এখন লক্ষ্য মাঠের লড়াইয়েও প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দেওয়া। আর অ্যাতলেতিকো এর সুযোগটা পেয়ে যাচ্ছে আজই। আজ রাতেই এস্তোনিয়ার রাজধানী তালিনেতে উয়েফা সুপার কাপে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল ও অ্যাতলেতিকো। রিয়াল সমর্থকেরা নিশ্চয় চাইবেন, অন্তত মাঠের লড়াইয়ে যেন টেক্কা দিতে না পারে অ্যাতলেতিকো।

কেআর