বার্সেলোনা ছাড়লেন মেসির ‘শত্রু’ গোমেজ

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

বার্সেলোনা ছাড়লেন মেসির ‘শত্রু’ গোমেজ

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৮

বার্সেলোনা ছাড়লেন মেসির ‘শত্রু’ গোমেজ

লিওনেল মেসির সঙ্গে শত্রুতা পাতবেন এবং তার পরও বার্সেলোনায় টিকে থাকবেন, তা হয় না। আন্দ্রে গোমেজও ন্যু-ক্যাম্পে টিকে থাকতে পারলেন না। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে ঠিকই ছাড়তে হলো ন্যু-ক্যাম্প। বার্সেলোনা ছেড়ে ২৫ বছর বয়সী গোমেজ যোদ দিলেন এভারটনে। তবে স্থায়ী চুক্তিতে নয়। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারকে এক বছরের জন্য ধারে এভারটনে পাঠালো বার্সেলোনা।

একের পর এক নতুন খেলোয়াড় কেনা বার্সেলোনা ৮ আগস্ট একসঙ্গে দুজন ফুটবলারকে এভারটনে পাঠালো। গোমেজের সঙ্গে ইয়ারি মিনাও বার্সা ছেড়ে যোগ দিয়েছেন এভারটনে। গোমেজ তো তবু ধারে গেলেন। ইয়ারি মিনাকে একেবারে বিক্রিই করে দিয়েছে বার্সা। তবে ২৩ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান ডিফেন্ডারকে বিক্রি করে বার্সেলোনা গুনেছে বিশাল অঙ্কের লাভের টাকা।

গত ১১ জানুয়ারি ব্রাজিলিয়া্ন ক্লাব পালমেইরাস থেকে কলম্বিয়ান এই ডিফেন্ডারকে ১১.৮ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে এনেছিল বার্সা। ৭ মাসের ব্যবধানে সেই মিনাকে এভারটনের কাছে বিক্রি করল ৩০.২৫ মিলিয়ন ইউরোও। মানে নগদই লাভ ১৮.৪৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশী মুদ্রায় অঙ্কটা ১৭৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

যাই হোক, মিনার প্রসঙ্গটি বাদ দিয়ে আন্দ্রে গোমেজের বিষয়টিতেই দৃষ্টিপাত করা যাক। বার্সেলোনার সব খেলোয়াড়ের সঙ্গেই অধিনায়ক মেসির সম্পর্কটা মধুর। শুধু একজন বাদে। সেই একজন এই আন্দ্রে গোমেজ। মেসির সঙ্গে পর্তুগিজ এই তারকার তিক্ততাটা ছিল একাদশে জায়গা পাওয়ার বিষয় নিয়ে।

২০১৬ সালে ভ্যালেন্সিয়া ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন গোমেজ। স্বপ্নের বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে তার চোখে-মুখে উড়ে বেড়াচ্ছিল রঙিন সব স্বপ্ন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে নিয়মিত খেলবেন, এটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু ন্যু-ক্যাম্পে আসার কিছুদিনের মধ্যেই তার সেই নিয়মিত খেলার স্বাদ উবে যায়। বেশির ভাগ ম্যাচেই তার জায়গা হয় বেঞ্চে। মাঠে নামার সুযোগ যাও এসেছে, তার বেশির ভাগই বদলি হিসেবে। শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ তেমন পাননি বলেই চলে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গোমেজের এই বেঞ্চ-পর্বটা স্থায়ী হয় মেসির কারণেই। মেসিই নাকি চাননি গোমেজ শুরুর একাদশে খেলুক। শুরুতে অবশ্য দুজনের সম্পর্কটা মধুরই ছিল। কিন্তু গণমাধ্যমসূত্রে এটাও জানা যায়, ন্যু-ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মেসির কি একটা সিদ্ধান্তের বিষয়ে যেন সরাসরিই দ্বিমত পোষণ করেন গোমেজ। গোমেজ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর স্বদেশি, মেসির সঙ্গে তার শত্রুতার পেছনে এই যোগসূত্রও খুঁজেছেন কেউ কেউ। যাই হোক, এরপর থেকেই ‘নেতা’ মেরি চক্ষুশূল হয়ে যান। তবে তাদের সেই দ্বন্দ্ব-তিক্ততা গোপনই ছিল জনসক্ষমে সেভাবে আসেনি।

শত্রুতার জন্য আখেরে ক্ষতিটা হয়েছে গোমেজেরই। মেসির পছন্দকে সম্মান জানাতে গিয়ে গোমেজকে অবহেলাই করে গেছেন বার্সেলোনার কোচরা। লুইস এনরিকের পর আর্নেস্তো ভালভার্দেও গোমেজকে বেঞ্চেই বসিয়ে রেখেছেন বেশি। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত খেলতে না পারায় গোমেজ নিজেই তাই বার্সেলোনা ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। তিনি প্রকাশ্যেই বেশ কয়েকবার ক্লাব ছাড়ার আকুতি জানিয়েছেন।

অবশেষে তার সেই ইচ্ছা পূর্ণ হলো। বার্সেলোনা তাকে এক বছরের জন্য ধারে পাঠালো এভারনটনের কাছে। গোমেজকে এক বছরের জন্য পাওয়ার বিনিময়ে এভারটন ২.২৫ মিলিয়ন দেবে বার্সেলোনাকে। পাশাপাশি গোমেজের বেতন-ভাতাও দেবে এভারটনই।

মজার বিষয় হলো, গোমেজ চলে গেলেও মেসি কিন্তু ন্যু-ক্যাম্পে শত্রু মুক্ত নন! কারণ, পুরোনো শত্রু গোমেজ চলে যাওয়ার আগেই ন্যু-ক্যাম্পে প্রবেশ করেছেন মেসির পুরোনো এক শত্রু। গত ৩ আগস্টই বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন চিলিয়ান মিডফিল্ডার আরতুরো ভিদাল। গোমেজের সঙ্গে মেসির শত্রুতাটা তো গোপনীয়। আরতুরো ভিদালের সঙ্গে মেসির শত্রুতাটা প্রকাশ্য। অনেকবারই প্রকাশ্যে মেসির কড়া সমালোচনা করেছেন আরতুরো ভিদাল।

মেসির সঙ্গে শত্রুতা-তিক্ততা করে গোমেজ তো টিকতে পারলেন না। দেখা যাক ভিদাল কতদিন ঠিকতে পারেন।

কেআর