ইয়ারি মিনায় ৭ মাসেই বার্সার লাভ ১৭৮ কোটি টাকা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

ইয়ারি মিনায় ৭ মাসেই বার্সার লাভ ১৭৮ কোটি টাকা

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০১৮

ইয়ারি মিনায় ৭ মাসেই বার্সার লাভ ১৭৮ কোটি টাকা

বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন গত ৮ জানুয়ারি। বিদায় নিলেন ৮ আগস্ট। মানে ন্যু-ক্যাম্পে ইয়ারি মিনার ৭ মাস পূর্ণ হতেও ৩ দিন বাকি। অল্প এই সময়ের মধ্যেই কলম্বিয়ান এই ডিফেন্ডার ক্লাব বার্সেলোনাকে এনে দিলেন ১৭৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকার মুনাফা।

একটুও ভুল পড়েননি। এ বছরেরই ১১ জানুয়ারি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব পালমেইরাস থেকে ইয়ারি মিনাকে ১১.৮ মিলিয়ন ইউরোয় কিনে এনেছিল বার্সেলোনা। ৭ মাসের ব্যবধানে সেই মিনাকে এভারটনের কাছে বার্সেলোনা বিক্রি করে দিল ৩০.২৫ মিলিয়ন ইউরোয়। ৮ আগস্ট রাতেই এভারটনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তিটা সেরে ফেলেছেন ২৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার।

যার অর্থ, দীর্ঘদেহী এই ডিফেন্ডারকে বিক্রি করে বার্সেলোনার লাভ ১৮.৪৫ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশী মুদ্রায় অঙ্কটা ১৭৮ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা মাত্র! লাভের এই অঙ্কটা নগদ চুক্তি মূল্যের হিসেবেই। কারণ চুক্তির নগদ অঙ্কটাই ৩০.২৫ মিলিয়ন ইউরো। এ ছাড়াও চুক্তিতে ‘বাড়তি বোনাস’ হিসেবে আরও দেড় মিলিয়ন ইউরোর শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে। মিনা শর্তটা পূরণ করতে পারলে এই টাকাটাও পাবে বার্সেলোনা। সেক্ষেত্রে বার্সার লাভের অঙ্কে এই টাকাটাও যোগ হবে।

পালমেইরাস থেকে কিনে আনলেও কলম্বিয়ান ডিফেন্ডারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছিলেন না বার্সেলোনা কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। বয়স মাত্র ২৩। এখনো খেলায় পরিপক্কতা আসেনি। এই অজুহাতেই মূলত ইয়ারি মিনার উপর আস্থা রাখেননি বার্সেলোনা কোচ। ফলে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে ৫ মাসে খেলতে পেরেছেন মাত্র ৬টি ম্যাচ। তাও বদলি হিসেবে।

বার্সেলোনায় থাকলে আসন্ন মৌসুমেও যে তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ বেঞ্চ গরম করেই কাটাতে হবে, এটা নিশ্চিত। কারণ, নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে আরও একজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কিনে এনেছে বার্সা। সেভিয়া থেকে দলে নিয়ে এসেছে ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ত লেংলেতকে।

জেরার্ড পিকে ও স্যামুয়েল উমতিতি আগে থেকেই আছেন। তাদের সঙ্গে নতুন করে লেংলেত যোগ দেওয়ায় মিনার জন্য বার্সার শুরুর একাদশে জায়গা করে নেওয়ার কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়। বিষয়টি ভালো করেই বুঝতে পারেন ইয়ারি মিনা। কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার তাই পাকা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, ক্যারিয়ার বাঁচাতে ছাড়বেন স্বপ্নের বার্সেলোনা।

একের পর এক খেলোয়াড় কিনে তহবিল খালি করে ফেলা বার্সেলোনারও দরকার ছিল কিছু টাকা ঢোকানোর। বার্সাও তাই আর না করেনি। বরং বিশাল অঙ্কের লাভের দিকে তাকিয়ে মিনাকে বিক্রিই করে দিল।

এখানে একটা কথা উল্লেখ করা যায় যে, বিশ্বকাপের বছর না হলে হয়তো মিনাকে বিক্রি করে বার্সেলোনা এতো মোটা দাগে লাভ করতে পারত না! বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের সুবাদেই তো মিনার দাম বেড়ে যায় হুহু করে। বার্সায় অবহেলিত মিনা কলম্বিয়া জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে বাজিমাত করেছেন। গড়েছেন ইতিহাসের প্রথম ডিফেন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপে টচানা তিন ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তি।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার মিনার সেই পারফরম্যান্স দেখেই তাকে কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে তিন ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও এভারটন। তিনের যুদ্ধে তার দামও বেড়ে যায়। আখেরে যার লাভটা হলো বার্সেলোনার। এভারটনের সঙ্গে ইয়ারি মিনার চুক্তিটা ৫ বছরের। তবে চুক্তির শর্তে উল্লেখ আছে, বার্সা চাইলে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডারকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারবে।

শুধু ইয়ারি মিনাই নন, তার সঙ্গে তার আরেক সতীর্থ আন্দ্রে গোমেজও বার্সেলোনা ছেড়ে যোগ দিলেন এভারটনে। তবে স্থায়ীভাবে নয়। পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডারকে ধার চুক্তিতে এভারটনে পাঠিয়ে দিল বার্সেলোনা।

কেআর